Green Bangla

Green Bangla Story

Green Bangla

Latest Post

পর্বঃ২০তম (অন্তিম পর্ব)



ছেলেটার কথা শুনে রাগ উঠে গেল।মেরে দিলাম ওর নাক বারাবর এক ঘুসি।ছেলেটা নাক ধরে বসে পড়লো।আমি ছেলেটাকে এলোপাতাড়ি লাথি দিয়েই যাচ্ছি।এমন সময় ঠাসসস ঠাসসস করে আমার গালে কে যেন থাপ্পড় দিলো।চোখ তুলে দেখি আমার সামনে তিথী দাঁড়িয়ে আছে।

তিথীঃ তোর সাহস কি করে হয় আমার বয়ফ্রেন্ড কে মারার?ছোটলোকের বাচ্চা কোথাকার ।আর কখনও আমাদের আশেপাশে না দেখি।

একে তো আর ভালোবাসে না।তার উপর আব্বু আম্মুকে ছোটলোক বলে আমার রাগ আরও বাড়িয়ে দিলো।ঠাসস ঠাসস করে থিথীকেও দুটা থাপ্পড় মেরে দিলাম।

---তোকে ভালোবাসাই আমার ভুল হয়েছে।তোর মতো মেয়েদের জন্য ছেলেরা কষ্ট পায়।আর যে সত্যিকারে ভালোবাসে তাকেই বুঝতে পারি না।কিন্তু আমি আর সে ভুল করবো না।আজই গিয়ে তোর বোনের সাথে বিয়ের কথা বলবো।থাক তোর বয়ফ্রেন্ড কে নিয়ে বলে ওখানে থেকে চলে আসি।

রাফিঃকি দরকার ছিল তিথীকে মারার?

---মারবো না তো কি করবো?কিছুদিন আগেই ওর জন্য বিথীকে ভুল বুঝি।কিন্তু দেখ ও আমাকে সত্যিকারে ভালোবাসে।ওর মতো মেয়েকে এমনি এমনি ছেড়ে দিলে ভুল হবে।

আকাশঃআচ্ছা বাদ দে ওসব।এখন বাসায় চল।তোর মাথা ঠিক নাই।কিখন কি করে ফেলবি ঠিক নাই।তারচেয়ে আমি তোকে নামিয়ে দিয়ে আসি।

রাফিঃ তা ঠিক বলছিস।ওরে নামিয়ে দিয়ে আয়।আমি গেলাম।

রাফি চলে গেল।আমি আকাশের বাইকের পেছনে বসলাম।ও চালাতে শুরু করলো।কিছুক্ষণ পর বাসায় সামনে নামিয়ে দিয়ে যায়।

বাসায় এসে দেখি আম্মু আর বিথী বসে গল্প করছে।কি মিলরে বাবা।বিথী আমাকে দেখেই চোখ মারলো।কিন্তু আম্মু কিছুই বুঝতে পারলো না।এখন কিছু বললে আবার ঝগড়া লাগিয়ে দিবে।তারচেয়ে রুমে গিয়ে শুয়ে থাকা ভালো।

রুমে গিয়ে ড্রেস চেঞ্জ করে শুয়ে পরি।আম্মু এসে বলল,"খেতে আয়।"

খেতে লাগলাম।দেখি আজকে তরকারির স্বাদ ভিন্ন। তবে খারাপ লাগছে না।

আম্মুকে বললাম,"মা আজকে অন্যরকম রান্নার স্বাদ লাগছে।ব্যাপার কি?"

আম্মুঃ হুমম আজকে নতুন স্টাইলে রান্না হয়েছে।বল কেমন লাগছে খেতে?

----হুমম সুন্দর হয়েছে।

আম্মুঃদেখতে হবে তো কে রান্না করছে।

----হিহি আমার আম্মু রান্না করছে।

আম্মুঃ ওই না বিথী রান্না করছে।

---কিহ!বিথী কবে থেকে রান্না করা শিখলো?

---তুই যখন কমায় ছিলি তখন ওকে রান্না শেখাইছি।আসলে মেয়েটা তোকে অনেক ভালোবাসে তাইনা।

---কেমন করে বুঝলে আমাকে ভালোবাসে?

---তুই যখন কমায় ছিলি তোর পাশে বেশির ভাগ সময় বিথী থাকতো।আমাকেও অতো থাকতে দিতো না।তাছাড়া ওর চোখ দেখেই বোঝা যায় ও তোকে অনেক ভালোবাসে।ওকে আমার বউমা করে আনবো যে কবে?

---তাহলে দেরী করছো কেন?

---হারামি তোর জন্য তো সবকিছু তে গন্ডগোল পেকে গেছে।তা না হলে কবে এই বাড়ির বউ হতো!

---হুমমম তা ঠিক।

---আচ্ছা আমি বিথীর আব্বু আম্মুর সাথে কথা বলে বিয়ের দিন ঠিক করছি।

আম্মু চলে গেল।খাওয়া শেষে রুমে আসলাম।

রাতে আম্মু বলল,"সাতদিন পর তোর আর বিথীর বিয়ে।তোর সব বন্ধু দের দাওয়াত দিস।"

আমি ফোন করে আকাশ আর রাফিকে সুসংবাদ টা দিলাম।
রাতে শুয়ে আছি।এমন সময় বিথী কল করলো।

হ্যালো....(আমি)

---এইযে মিস্টার হবু বর কি করছেন শুনি?((বিথী))

---একজনের কথা ভাবছি।

---কে সে?

---তোমাকে বলবো কেন?

---না বললেন।তবে শোনেন আমাকে ছাড়া অন্য কোনো মেয়েকে নিয়ে ভাবা যাবে না বলে দিলাম।

---ভাবলে কি করবে শুনি?

---গুলি করে মেরে ফেলবো।তারপর আমিও মরে যাবো।

---এহ শখ কত আমাকে মারবে!

---হিহি বাসর রাতে মজা দেখাবো।

---তা কি মজা শুনি?

---বললে তো সব কিছু আগেই জেনে ফেলবেন।

---কি বুদ্ধি রে বাবা।

---দেখতে হবে না আমি কে?

---হিহি, আমার বউ।

---এই শোনেন না?

---কি গো বলো।

---একটু ছাদে আসেন প্লিজ।

---এখন ছাদে গিয়ে কি করবো?

---আপনাকে খুব দেখতে ইচ্ছে করছে।প্লিজ আসেন।

---রাত ১১ টা বাজে।

---না আসলে কিন্তু আমি কান্না করবো।

----থাক আর কান্না করতে হবে না। আমি আসছি।

ছাদে গিয়ে দেখি বিথী দাঁড়িয়ে আছে।এতো রাতে পাগলামি করো কেন?

---আপনার সাথে পাগলামি না করলে কার সাথে পাগলামি করবো শুনি?

---তা ঠিক বলছো।

---হুমমম,আমি ঠিক ই বলি।আচ্ছা শোনেন আপনার জন্য নুডলস রান্না করে আনছি।খেয়ে নেন।

এমনিতেই আমার নুডলস ফেভারিট।তাই দেরী না করে চামচ দিয়ে খাওয়া শুরু করলাম।আমি খাচ্ছি আর বিথী দাঁড়িয়ে দেখছে।হয়তো রান্না করে সবটুকুই আমার জন্য আনছে।পাগলিটা মনে হয় নিজেও খায়নি।তাই ভাবলাম ওকেও খাইয়ে দেই।এজন্য বিথীকে বললাম,

---এই হা করো।

বিথী হা করলো আমি খাইয়ে দিলাম।এখাবে একবার আমি খাচ্ছি আরেকবার বিথীকে দিচ্ছি। খেতে খেতে বললাম,"দুপুরের রান্নাটা অনেক সুন্দর হয়েছিল। এতো সুন্দর রান্না করতে পারো জানা ছিল না।"

---আপনার আম্মু শিখিয়েছে।

একটু পর মনে হলো ছাদে কেউ আসছে।বিথী মনে এখনও টের পায়নি।পাশের বাসা গুলো থেকে আশা আলোতে দেখলাম তিথী আসছে।শয়তান মহিলাকে দেখে রাগ হচ্ছিল। কিন্তু রাগ সংবরণ করে বিথীকে বললাম, "উফফ ঝাল লাগছে।পানি দাও।"

---এখানে পানি তো আনি নি।

---তাহলে আমি কি ঝালে মারা যাবো?
আরকিছু না ভেবে বিথীর ঠোঁটে ঠোঁট ডুবিয়ে দিলাম।প্রায় দুই মিনিট পর ছেড়ে দিলাম।বিথী হাঁপাতে হাঁপাতে বলল,"রাক্ষস একটা।এভাবে কেউ কিস করে নাকি?

---আমি কি করবো?ঝাল লেগেছিল তো।তোমার থিউরি মতো ঝাল কমালাম হিহি।

---কই ঝাল ছিল?নাকি এটা কিস করার বাহানা ছিল?

---হিহি,যেটা মনে করো।

আমি আগে থেকেই খেয়াল করছি তিথী এসবকিছু দেখেছে।ওরে দেখানোর জন্য ই বিথীকে কিস করছি।ও হয়তো ভাবছিল ও আমি প্রেমে ব্যার্থ হয়ে দেবদাস হয়ে যাবো।কিন্তু আমি সেই টাইপের ছেলে না।একটা ফালতু মেয়ের জন্য নিজের লাইফ নষ্ট করার মতো বেকামি করবো না।

আমি বিথীকে আস্তে করে বললাম,"তোমার বোন মনে হয় সব দেখে ফেলছে।"

---দেখলে দেখুক তাতে আমার কি।

---এই না হলে আমার আমার বউ।আচ্ছা শোনো এখন এখান থেকে চলো।

আমি বিথীর হাত ধরে নিচে চলে আসলাম।তিথী এসব দাঁড়িয়ে দেখলো।

আস্তে আস্তে বিয়ের দিন চলে আসলো।আজকে বিয়ে।অল্পকিছু আত্মীয় স্বজনের উপস্থিতি তে আমার আর বিথীর বিয়ে সম্পন্ন হলো।

রাত অনেক হয়ে গেছে। প্রায় ১২ টা বাজবে।আকাশ আর রাফি বলল,"এতো ভয় পাওয়ার কি আছে।বাসরঘরে যা।"

---ওই শালা আমি ক্যান ভয় পাবো?

---তাহলে এখানে দাঁড়িয়ে আছিস কেন?যা বাসরঘরে।
এরপর দুজন মিলে আমকে আমার রুমে ঢুকিয়ে দিয়ে বলল,"বিড়াল মারতে ভুলিস না কিন্তু। নাহলে কিন্তু পরে পস্তাতে হবে।"

ধুর,এখন বাসর রাতে বিড়াল কই পাবো?

রুমে ঢুকেই অবাক হয়ে গেলাম।এটা কি আমার রুম নাকি ভুলে অন্য কোথাও ঢুকে ফেলছি?

---ওই মিস্টার এভাবে কি দেখছেন?

---আমার রুম এতো সুন্দর হলো কিভাবে?

---হিহি ওটা আমার কারণে।
Green Bangla Romantic Love Story


বিথী বড় ঘোমটা দিয়ে বসে আছে।আমি ওর পাশে গিয়ে বসলাম।এরপর ওর ঘোমটা তুলে অবাক হয়ে গেলাম।এতো সুন্দর লাগছে বিথীকে।আমি কিছুক্ষণ চেয়ে রইলাম।বিথী লজ্জা পেয়ে বলল,"এভাবে কি দেখছেন?

---একটা পরীকে।জানো আমি কখনও পরী দেখিনি। দেখলে অবশ্যই বলবো তোমাদের চেয়ে আমার বউ বেশি সুন্দরী।

বিথী প্রশংসা শুনে আরও লজ্জা পেয়ে গেল।এরপর বলল,"ধ্যাত,আমি অতো সুন্দর নাকি?"

---তুমি আমার কাছে পৃথিবীর সেরা সুন্দরী।

---হয়েছে আর পাম দিতে হবে না।

---এই নেমে আসো।দুজনে মিলে নামাজ পড়বো।

এরপর বাথরুমে গিয়ে আজু করে এসে বিথীকে সাথে নিয়ে দু রাকা'ত নামাজ আদায় করলাম।

এরপর বিথীর হাতে দেনমোহরের টাকা দিয়ে বললাম, "এই নাও তোমার দেনমোহরের টাকা।"

---বিথী টাকাগুলো আমার হাতে ফেরত দিয়ে বলল,"এ টাকা আমার চাই না।আপনি আমাকে সারাজীবন ভালোবেসে গেলেই আমি খুশি।"

আমি বিথীর কপালে একটা ভালোবাসা এঁকে দিলাম।বিথী আমাকে জড়িয়ে ধরে কান্না করতে লাগল।

---এই পাগলি কান্না করছো কেন?

---এটা কষ্টের কান্না না এটা সুখের কান্না। ভেবেছিলাম আপনাকে কখনও ফিরে পাবো না।কিন্তু আল্লাহ ঠিকই আমার কাছে ফিরিয়ে দিয়েছে।

---এই এখন কান্না থামাও।আমি বাসর করবো।

---অ্যাঁ আজকে রাতে ওসব হবে না।আমি এখনও প্রস্তুত না।

---আজকেই সবকিছু হবে।আর আমি তো আছি।

বিথীকে আর কোনো কথা বলতে দিলাম না।ওর ঠোঁটের উপর আমার ঠোঁট রেখে আস্তে আস্তে হারিয়ে যেতে লাগলাম সুখের সাগরে।

((এইযে পাঠক/পাঠিকারা।দেখতে পারছেন আমি বাসর করছি।তারপরও আপনারা চেয়ে আছেন। যান এখান থেকে।একটু শান্তিতে বাসর করতে দেন।))

সমাপ্ত.....

পর্বঃ১৯তম



---আসলে আব্বু ঘুম আসছিল না তাই খেয়েছিলাম।

---তাই বলে ওতোগুলো একসাথে খাবি।

---ভুল হয়েছে।আর এমন হবে না।

মনটা তিথীকে দেখার জন্য আনচান করছে।কখন যে আসবে।যেনো আর নিজেকে আটকাতে পারছি না।

আম্মুর সাথে অনেক কথা বললাম।এর ভেতর জানতে পেরেছি আমি চার মাস কমায় ছিলাম।তবে বিথী তিথীর কথা বলেনি।

কিছুক্ষণ পর বিথী আসলো।আমার জ্ঞান ফিরেছে দেখে আমাকে জড়িয়ে ধরলো।

---ছাড়ো আমায়,লাগছে তো।

---লগুক।এভাবে পাগলামি করছিলেন কেন বলেন?

ধ্যাত ভাল্লাগে না।বিথীকে দুই চোখে সহ্য হচ্ছে না।আম্মু আছে জন্য কিছুই বলতে পারছি না।তাও বললাম,"এখন বসো।পরে এ নিয়ে কথা হবে।"

বিথী আমাকে ছেড়ে দিয়ে আমার পাশে বসলো।এরপর আমার মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে লাগলো।আম্মু বিথীর কান্ড দেখে হাসতে লাগল।বিথী আম্মু কে বলল,"আন্টি আপনি এখন যান।আমি তো আছি।"

বিথীর কথা শুনে আম্মু হাসতে হাসতে বেরিয়ে গেল।

আমি বিথীকে বললাম,"তিথী কেমন আছে?ও আসে নি?"

তিথীর নাম শুনে বিথীর মুখটা শুকিয়ে গেল।ও কিছু বলল না।চুপচাপ বসে রইলো।

---ওই কথা বলছো না ক্যান?

---ওহ হ্যা,আপু ভালো আছে।আসবে একটু পর।

যাক তিথী তাহলে আসবে।শুনে মনটা শীতল হলো।

বিথী মনে মনে ভাবলো যাকে ভালোবাসি সে আরেকজনকে চায়,আর সে আরেকজনকে।আসলে অধিকাংশ মানুষই সত্যিকারের ভালোবাসার মর্ম বোঝে না।তবে পরে ঠিকই বোঝে। কিন্তু ততদিনে ফিরে পাওয়ার কোনো উপায় থাকে না।

আচ্ছা তিথীর বিয়ে কি হয়েছে?নাকি এখনও আমার জন্য অপেক্ষা করছে? তিথী আমার ছাড়া কারো হতে পারে না।নাহ এতোকিছু ভাবতে পারছি না।

হাসপাতালে আরও দুদিন কেটে গেল।কিন্তু তিথীর দেখা পেলাম না।মনটা আর মানতে চাইছে না।ইচ্ছে করছে ছুটে যাই তিথীর কাছে।কিন্তু শরীর দূর্বল। হাটতে পারি না।

ডাক্তার এসে জানালো আর সাতদিন পর আমাকে বাসায় নিয়ে যাবে।

এই সাত দিনে বিথী অনেক বার এসেছে।কিন্তু তিথী এলো না।তাহলে কি সত্যি সত্যি তিথীর বিয়ে হয়ে গেছে।যেজন্য আসে নি।মাথার ভেতর উল্টাপাল্টা চিন্তা ঘুরপাক খেতে লাগল।

অবশেষে আমাকে বাসায় নিয়ে আসা হলো।এখন মোটামুটি সুস্থ। বিকেলে রুমে সুয়ে আছি এমন সময় রাফি মিম আর আকাশ আসলো।

ওদেরকে দেখে অনেক ভালো লাগছে।

আকাশঃপাগলামি করছিলি কেন বল?

আমিঃ অনেক ডিপ্রেশনে ছিলাম রে।তথন মাঠা ঠিক ছিল না কি করবো।আচ্ছা ওসব কথা বাদ দে।এখন বল কেমন আছিস?

ওরা তিনজন একসাথে বলল ভালো আছি।

---তো রাফি শ্বশুর বাড়িতে কেমন খাচ্ছিস?

রাফিঃআর বলিস না।শ্বশুর বাড়িতে যাওয়ার সময় ই পাই না।

আকাশঃশালা মিথ্যা বলিস ক্যান?গত সপ্তাহে ও তিনদিন শ্বশুর বাড়ি ছিলি।

রাফিঃমনে ছিল না রে বলে হাসতে লাগল।
সবাই মিলে আরও আড্ডা দিলাম।ওরা রাতের খাবার খাইয়ে তবেই যেতে দিলাম।

অনেকদিন ভার্সিটিতে যাওয়া হয়না।আকাশ বলে গেল আর একমাস পর ফাইনাল পরিক্ষা। এতো পড়া কিভাবে শেষ করবো ভাবতেই মাথা গুলিয়ে যাচ্ছে।ধুর আজ আর পড়বো না।কাল থেকে পড়া শুরু করবো।😃😊

সকালে ভার্সিটি গেলাম।দেখি আকাশ রাফি আগেই চলে এসেছে।ওদের সাথে ক্লাসে গেলাম।এতোদিন পর আমাকে ক্লাসে দেখে সবাই অবাক হয়ে গেছে।

একজন বলল,"কিরে অনিক শুনলাম তুই নাকি কোন মাইয়াকে নিয়ে পালিয়ে গেছিলি?

আরেকজন বলল,"আরে মাইয়া নিয়ে পালাতে লাগছিল।পরে নাকি ধরে আচ্ছা মতো মাইর দিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করছিল।"

ওদের আজগুবি কথা শুনে মাথা গরম হয়ে গেল।ইচ্ছে হচ্ছে আবাল দুটোরে আচ্ছা মতো ক্যালানি দেই।আকাশ আর রাফি মনে হয় আমার মনের কথা বুঝতে পেরে বলল,"আরে চুপ কর আমরা ওদের বোঝাচ্ছি। "

---চুপ করবো মানে, শালারা আগামাথা না জেনে পুরো ক্লাসে আমাকে ক্যারেক্টারলেস বানিয়ে দিল।

রাফিঃআরে কুত্তা কামড় দিলে তাকেও কি কামড়াবি?

---আমি তো কুত্তা না যে কামড়াবো।

---তাহলে চুপচাপ থাক।

---তোদের জন্য ওরা বেঁচে গেল।নাহলে দুটাকে আজ দেখে নিতাম।

ক্লাসে স্যার এসেই আমাকে একবস্তা ঝাড়ি দিলো।এভাবে প্রতিক্লাসে আলাদা আলাদা স্যার এসে ঝাড়ি দিয়ে গেল।আমার ভার্সিটি লাইফে আজ কে সবচেয়ে বাজে দিন।এতো কথা জীবনেও শুনি নি।

ক্লাস শেষে ক্যান্টিনে এলাম।আকাশ বলল,"তোরা কি খাবি বল?"

---তিনজনের জন্য তিনকাপ কফি আন।

Green Bangla Romantic Love Story


আকাশ কফি আনতে গেল।একটু পর কফি আনলো।কফির মগে চুমুক দিয়ে বললাম,"অনেকদিন পর কফি খেলাম।"

রাফিঃতুই ছিলি না বলে আড্ডাও জমে নি।

আকাশঃশালা মিথ্যা বলিস কেন?ক্লাস শেষ হতে না হতেই চলে যাইতি।আড্ডা দিলি কখন?

---আরে তুই তো জানিস।অনিক তো জানে না।

আকাশঃ এসব কথা বাদ দে।এখন বল অনিক তোর বিয়ে কবে?

আরে আমার তো বিয়ে ঠিক হয়ে ছিল।মনেই নাই দেখছি।

রাফিঃকিরে কথা বল?

---আরে আমি কি করে বলবো?এতোদিন কি হয়েছে আমি জানি নাকি?

আকাশঃতবে যাই বলিস বিথী মেয়েটা মনে হয় তোকে সত্যি ভালোবাসে।

---ধুর ভালোবাসা না ছাই।ও এমনি অমন করে।আমি তিথীকে ছাড়া কেউকে বিয়ে করবো না।

আকাশঃ আমার যা ভালো মনে হয় তোকে বললাম। বাকিটা তোর ইচ্ছে।

---আচ্ছা তোরা কেউ তিথীকে দেখছিস?

রাফিঃওরে তো প্রায় দিন ই ভার্সিটিতে দেখি।

---আচ্ছা চল তো দেখে আসি।

রাফি আর আকাশকে নিয়ে তিথীদের ডিপার্টমেন্টে গেলাম।দেখি ক্লাস হচ্ছে। কিন্তু জানালা দিয়ে তিথীকে দেখতে পেলাম না।এজন্য চলে আসলাম।

আকাশ বলল,"আরেকটু আড্ডা দিয়ে তারপর যাই।কি বলিস?"
এরপর বসে তিনজন আড্ডা দিচ্ছি। এমন সময় দেখি তিথী একটা ছেলের বাইকের পিছনে বসে আছে।ছেলেটা আমাদের সামনে দিয়ে বাইক নিয়ে গেল।অথচ তিথী আমার দিকে তাকালো না।আমার খুব রাগ হলো।

আকাশরে বললাম,"ওই ছেলেটার সাথে তিথীর কি সম্পর্ক?

আকাশঃ তিনমাস ধরে ওই ছেলের সাথে তিথীর রিলেশন।

---আরে এটা হতেই পারে না।তিথী এমন মেয়েই না।

---প্রথমে আমাদেরও বিশ্বাস হয় নি।পরে ঠিকই বিশ্বাস হয়েছে।এখন তোর বিশ্বাস না হলে নিজে গিয়ে জিজ্ঞাসা কর।

আমি ওখান থেকে উঠে গিয়ে ওই ছেলের কাছে গিয়ে বললাম,"এই ছেলে তিথীর সাথে তেমার কি সম্পর্ক?"

ছেলেটিঃ আপনি শুনে কি করবেন?

---মাথা গরম করাবে না। যা বলছি তার উপর দাও।

---তিথী আমার গার্লফ্রেন্ড।

ছেলেটার কথা শুনে রাগ উঠে গেল।মেরে দিলাম ওর নাক বারাবর এক ঘুসি।ছেলেটা নাক ধরে বসে পড়লো।আমি ছেলেটাকে এলোপাতাড়ি লাথি দিয়েই যাচ্ছি।এমন সময় ঠাসসস ঠাসসস করে আমার গালে কে যেন থাপ্পড় দিলো।চোখ তুলে দেখি তিথী দাঁড়িয়ে....

#গল্প লিখতে লিখতে একটা গান মনে পরে গেলো।।। তাই তোমাদের সাথে শেয়ার করছি

(বন্ধু যখন বউ লোইয়া আমার বাড়ির সামনে দিয়া রংঙ্গ কইরা হায়টা যায় ও বুকটা ফাইটা যায় বুকটা ফাইটা যায়)

পর্বঃ১৮তম



সকালে আম্মু আমাকে ডাকতে লাগল।কিন্তু আজকে কোনো নড়াচড়া না দেখে আমার কপালে হাত দিলো।দেখে কপাল ঠান্ডা হয়ে গেছে।কিছুক্ষণ ধাক্কা দিয়েও আমাকে তুলতে পারলো না।
হঠাৎ আম্মুর চোখ পড়লো টেবিলের উপর।দেখে প্রায় দু পাতার ১৫ টা ঘুমের ট্যাবলেট নেই।অনিক তো কখনও ঘুমের ওষুধ খায় না।নাকি ঘুমের ট্যাবলেট খেয়ে সুইসাইড করলো?এটা ভেবেই আম্মু একটা চিৎকার দিলো।

আম্মুর চিৎকার শুনে আব্বু ছুটে এল।

আব্বুঃ অনিকের আম্মু কান্না করছো কেন?

আম্মুঃদেখো আমার ছেলেটার কি হয়েছে।ও উঠছে না কেন?ওর কিছু হলে আমি বাঁচবো না।

আব্বুঃ তোমার ছেলে এতো ঘুমের ওষুধ খাইছে কেন?

আম্মুঃআমি কি করে বলবো?বেশি কথা না বলে এম্বুলেন্স ডাকো।ছেলেকে হাসপাতালে নিতে হবে।

কিছুক্ষণ পর এম্বুলেন্স এলো।এম্বুলেন্সের শব্দ শুনে বিথী তিথী ওর আব্বু আম্মু সবাই নিচে নেমে আসলো।

বিথীঃআন্টি আমার অনিকের কি হয়েছে?এমনভাবে আছে কেন?

আম্মুঃজানিনা মা,ওর রুমে খালি ঘুমের ওষুধের প্যাকেট পেয়েছি।মনে রাতে ওগুলো খেয়েছে।

---এখানে না কথা বলে তারাতাড়ি ডাক্তারের কাছে নিয়ে চলুন।(এম্বুলেন্স চালক বলল))

বিথী মনে মনে ভাবতে লাগলো আমি অনিককে অনেক প্রেশার দিছি।যার জন্য ওর আজ এ অবস্থা।অনিকের কিছু হলে আমি নিজেকে ক্ষমা করতে পারবো না।

তিথী ভাবতে লাগল কি হয়ে গেল।অনিককে এতো চাপ দেওয়া ঠিক হয়নি।এখন ও যদি মারা যায়। তাহলে পুলিশ এসে আমাকেও জিজ্ঞাসাবাদ করবে।যদি কোনোভাবে জানতে পারে আমি বিয়ের জন্য চাপ দিছি তাহলে আমাকে জেলে যেতে হবে।🐸

এদিকে আমাকে এম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে নিয়ে আসা হলো।ডাক্তার এসে বলল,"কি হয়েছে এনার।"

Green Bangla Story


আব্বুঃঅনেকগুলো ঘুমের ওষুধ খেয়েছে। প্লিজ ডাক্তার সাহেব আমার ছেলেকে বাঁচান। "

ডাক্তারঃদেখুন বাঁচা মরা সব আল্লাহর হাতে।আমরা তো শুধু মাধ্যম। আল্লাহর কাছে দোয়া করুন।নার্স দ্রুত এনাকে ওটি তে নিয়ে যান।

নার্স এসে আমাকে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে গেল।

ডাক্তার বলল,"আপনারা চিন্তা করবেন না।আমরা আমাদের সাধ্যমতো চেষ্টা করবো।"

অপারেশন থিয়েটারের সামনে বসে আম্মু কেঁদে ই চলেছে।বিথী এসে আম্মু কে সান্ত্বনা দিতে লাগল।

বিথীঃ আন্টি এভাবে কাঁদবেন না।আল্লাহ নিশ্চয়ই আবার অনিককে আমাদের মাঝে ফিরিয়ে দিবে।

আম্মুঃ মা রে আমার একটাই ছেলে ওর কিছু হলে আমি কি নিয়ে বাঁচবো। আমার অনিককে ছাড়া কিছুই কল্পনা করতে পারি না।

----আন্টি নিজেকে শক্ত করুন।এখনও তো আশা শেষ হয়ে যায় নি।

প্রায় এক ঘন্টা পর ডাক্তার বের হয়ে আসলো।ডাক্তার কে দেখে আম্মু আব্বু বিথী দৌড়ে গেল।

আম্মুঃ আমার ছেলের কি অবস্থা? ওর জ্ঞান ফিরছে কি?

ডাক্তারঃ দেখুন আমাদের যা করার দরকার করেছি।কিন্তু...

আব্বুঃকিন্তু কি ডাক্তার!

ডাক্তারঃদেখুন অনেকগুলো ঘুমের ট্যাবলেট খাওয়ার জন্য আপনার ছেলে প্রায় মারা যাচ্ছিল।একটু দেরী হলে ওকে বাঁচাতে পারতাম না।।কিন্তু এখন সমস্যা হলো আপনারা রোগী কে আনতে অনেকটা দেরী করে ফেলেছেন। এজন্য ওর জ্ঞান কখন ফিরবে সেটা বলতে পারছি না।এখন আপনাদের ছেলে কমায় আছে।

বিথীঃকমা থেকে বের হবে কবে?

ডাক্তারঃ সেটা দুদিনের ভেতর ও হতে পারে।আবার দুমাস বা বছর ও লাগতে পারে।আবার জ্ঞান নাও ফিরতে পারে।এখন আল্লাহর কাছে ডাকুন।আমাদের আর কিছু করার নাই।

আম্মুঃ আমার ছেলেকে কি দেখতে পারি?

ডাক্তারঃ একটু পর রোগী কে কেবিনে শিফট করা হবে।তখন দেখতে পাবেন। আপাততঃ অপেক্ষা করুন।

ডাক্তার চলে গেল।আম্মু বিথীকে জড়িয়ে ধরে কান্না করতে লাগল।বিথীর আম্মু আব্বু হসপিটালের আসলো।
এসে বলল,"এখন কেমন আছে?"

আব্বু ওনাদের সব খুলে বলল।বিথীর আব্বু বলল,"চিন্তা করবেন না।আমার বিশ্বাস শীঘ্রই অনিক আমাদের মাঝে ফিরে আসবে।"

একটু পর আমাকে কেবিনে সিফট করা হলো।

আম্মু এসে আমাকে জড়িয়ে ধরে কান্না করতে লাগলো।নার্স বলল এভাবে রোগীর সামনে কান্না করবেন না।

আন্টি আম্মুকে ধরে পাশের চেয়ারে বসালো।

তিথী এসে দড়জায় সামনে দাড়ালো।তিথীর আম্মু তিথীকে সবকিছু খুলে বলল।
তিথী ভেবেছিল অনিক হয়তো মারা গেছে।কিন্তু যখন দেখলো বেঁচে আছে তাহলে আর চিন্তার কারণ নাই।

এক মাস চলে গেল তাও আমার জ্ঞান ফিরলো না।আম্মু প্রতিদিন ই আমার জন্য কাঁদে। আব্বু তো শুকিয়ে গেছে।বিথী প্রতিদিন ই আসে আমাকে দেখতে।অনেক্ক্ষণ থেকে চলে যায়।

এভাবে আরও তিন মাস কেটে গেল।তিথী আর তেমন আসে না।কিন্তু বিথী প্রতিদিন ই আসে।হঠাৎ একদিন আমার জ্ঞান ফিরে যায়।চোখ খুলে দেখি আম্মু বসে আছে।আম্মু রেগা হয়ে গেছে।চোখের নিচে কালো দাগ পড়ে গেছে।

আমার চোখ খোলা দেখে আম্মু খুশিতে আমাকে জড়িয়ে ধরে কান্না শুরু করে দিলো।

---আম্মু এভাবে কান্না করছো কেন?আর আমি এখানে কেন?

---তুই আমাকে ছেড়ে চলে যেতে লাগছিলি কেন?যানিস না তোকে ছাড়া আমি বাচবো না রে বাবা।

ডাক্তার এসে বলল,"এভাবে রোগীর সামনে কান্না করবেন না।আর আপাততঃ এখন রেগীকে রেষ্ট নিতে দিন।"

আমিঃআম্মুকে আমার কাছে থাকতে দিন।

---আচ্ছা থাকতে পারবে।তবে বেশি কথা বলবে না।

---আচ্ছা।

এদিকে আম্মু ফোন করে আব্বু কে খবরটা দিলো।কিছুক্ষণ পর আব্বু এলো।এসেই আমাকে জড়িয়ে ধরলো।

---আব্বু ছাড়ো,আমার লাগছে তো।

---লাগুক।আমাদের ছেড়ে চলে যেতে চাইছিলি কেন বল?

---আমি নিশ্চুপ হয়ে গেলাম।কারণটা বলা যাবে যাবে না।

---ওই চুপ কেন বল?

---আসলে আব্বু ঘুম আসছিল না তাই খেয়েছিলাম।

---তাই বলে ওতোগুলো একসাথে খাবি।

---ভুল হয়েছে।আর এমন হবে না।

মনটা তিথীকে দেখার জন্য আনচান করছে।কখন যে আসবে।

গল্পঃ বাড়িওয়ালির মেয়ে

পর্বঃ১৭তম

লেখকঃ--নিলয়

১৬তম পর্বের পর থেকে.......

বিয়ের শপিং শেষে চারজনে একটা রেস্টুরেন্ট এ ঢুকলাম।তিথী আমার সামনের চেয়ারে বসেছে আর বিথী পাশের চেয়ারে।তিথী বার বার আমার দিকে তাকাচ্ছে। ওর চাহনিতে মনে হচ্ছে আমাকে অনেককিছু বলতে চায়।কিন্তু এখানে কোনো কথা বলা সম্ভব না।কারণ বিথী জানে তিথী আমাকে ভালোবাসে।কিন্তু এটা জানে না আমি কাকে ভালোবাসি। আমি আর ভাবতে পারছি না।মাথাটা কেমন ঝিমঝিম করে উঠলো।আমি ওদেরকে বললাম,"তোমরা খাবারের অর্ডার করো।আমি ওয়াশরুম থেকে আসি।"

ওয়াশরুমে এসে চোখে মুখে পানির ঝাপটা দিলাম।এখন ভালো লাগছে।ওয়াশরুম থেকে বের হয়ে আসলাম।এরপর খেয়ে বাসায় চলে আসি।

বিকেলে ফোনে গেম খেলছি।এমন সময় তিথী কল করলো।আজকে শপিংমলে ওরে দেখেই বুঝেছি আমাকে কিছু বলতে চায়।কিন্তু বিথী সাথে থাকায় কিছু বলেনি।

ভাবতে ভাবতে প্রথমবার কল কেটে গেল।তিথী আবার কল করলো।

এবার কল রিসিভ করলাম।

তিথীঃ হ্যালো।

আমিঃ হুম, কেমন আছো?

---দেখতেই পাচ্ছো কেমন আছি।আবার জিজ্ঞাসা করা লাগে নাকি?

---না বললে জানবো কিভাবে?

---ওসব কথা বাদ দাও যেজন্য তোমাকে ফোন করছিলাম?

---কিজন্য বলো?

---এখন আমার সাথে কি একটু দেখা করতে পারবা?

---কোথায়

---বাসার ছাদে

---আচ্ছা 10 মিনিট পর আসতেছি

আর কিছুক্ষণ পর আমি ছাদে যাই। দেখি তিথী দাঁড়িয়ে আছে।ওকে দেখে মনে হচ্ছে অনেক টেনশনে আছে।

---ম্যাডাম এতো জরুরী তলব কেন?

---ফাজলামি করবে না।অনেক টেনশনে আছি।

---টেনশনে তো আমার থাকার কথা।তুমি টেনশনে থাকবে ক্যান?

---আব্বু আমার বিয়ে ঠিক করেছে।শুক্রবারে একসাথে দু বোনের বিয়ে হবে।

---বিয়ে ঠিক করছে।বিয়ে করবা।এতে সমস্যা কোথায়?

---ভাবছিলাম তোমাকে ভুলে যেতে পারবো।কিন্তু দিন যতো যাচ্ছে তোমার প্রতি আমার ভালোবাসা বেড়েই যাচ্ছে। এখন তোমাকে ছাড়া আমি কাউকে কল্পনা করতে পারবো না।

---বললেই হয়ে গেল নাকি।

---দেখো অনিক মানছি আমি ভুল করছি।কিন্তু আমাকে ক্ষমা করে কি ফিরিয়ে নেওয়া যায় না?

---তিন দিন পর তোমার ছোট বোনের সাথে আমার বিয়ে।আর এখন এসে আমাকে এসব বলছো।তোমার মাথা ঠিক আছে?

তিথী কান্না শুরু করলো।ধমক দিয়ে কান্না থামাতে বললাম।কিন্তু আরও জোরে কান্না শুরু করে আমাকে এসে জড়িয়ে ধরলো।

---এই কি করছো?কেউ দেখে ফেললে মান সম্মান সব যাবে।

---কেউ দেখলে দেখুক। আমি তোমাকে ভালোবাসি। আর সেই ভালোবাসার অধিকারে জড়িয়ে ধরেছি।

---এই কথাটা দুদিন আগে বলোনি কেন বলো?

তিথী কোনো উওর দিলো না।শুধু আরও শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো।

কিছুক্ষণ পর,
তিথীঃ এই অনিক চলো আমরা দুজনে পালিয়ে যাই।তাহলে সব সমস্যা সমাধান হয়ে গেল।

---দেখো তিথী পালিয়ে গিয়ে সব সমস্যার সমাধান হয় না।তুমি আমি পালালে আমাদের পরিবারের কি হবে ভেবে দেখেছো?উনাদের মান সম্মানের কথাটা একবার ভাবো।এতোদিন ধরে বড় করার প্রতিদান এভাবে দিবে?

---আমি এতো কিছু বুঝি না।তোমাকে ছাড়া আমি বাঁচবো না।

---তুমি আমাকে ভালোবাসো।তোমার বোন বিথী ও তোমার মতোই আমাকে ভালোবাসে।বলো এখন আমি কোনদিকে যাবো?

---তুমি তো আমাকে ভালোবাসো।তাহলে বিথীর কথা বলছো কেন?

---বিথীর  সাথে দুদিন পর বিয়ে।এখন ওকে ছেড়ে তোমাকে বিয়ে করলে ওর কি অবস্থা হবে একবার ভেবে দেখছো?

---বিথীর প্রতি ভালোবাসা দেখছি উতলে পড়ছে।আমিও বলে দিলাম, আমাকে ছাড়া ওই ডাইনীকে বিয়ে করলে এই জীবন রাখবো রাখবো না। এই বলে বিথী চলে গেল।
Green Bangla Romantic Love Story


এই আমার কি করা উচিত? অনেক ভেবে কোনো কূলকিনারা পেলাম না।

ছাদ থেকে নামার সময় বিথীর সাথে দেখা।অমনি বিথী আমার হাত চেপে ধরলো।

---এই করছো কি?তোমার আব্বু আম্মু দেখলে কি মনে করবে?

----আমি আমার হবু বরের হাত ধরেছি।কে কি বলবে শুনি?
দেখি তিথী দূরে দাঁড়িয়ে এসব দেখছে আর রাগে ফুঁসছে।

---এখন ছাড়ো। যা করার বিয়ের পর করো।

---এসব বলে মাফ পাবেন না।আজকে কিন্তু আবার ঘুরতে যাবো।যান গিয়ে রেডি হন।

---হাত না ছাড়লে রেডি হবো কিভাবে?

হাত ছাড়ছি,তবে একটু মাথাটা নিচু করুন।

---হাত ছাড়ার সাথে মাথা নিচু করার কি সম্পর্ক শুনও?

---আপনাকে একটা সিক্রেট কথা বলবো।জোরেই বলতাম।কিন্তু আশেপাশে মানুষ আছে।শুনে ফেলবে।এজন্য  তারাতাড়ি মাথাটা নিচু করুন।

বিথীর কথা শুনে তিথী রেগে লাল হয়ে গেছে।আর মনে মনে বলছে শয়তান আমাকে দেখিয়ে দেখিয়ে রোমান্স করার মজা বুঝাবো।অনিক শুধু আমার।আর আমার না হলে কাউকেও হতে দিবো না।

আমি বিথীর কথা মতো মাথাটা নিচু করতেই বিথী গালে একটা চুমা দিয়ে দিলো দৌড়।

তিথী দাঁড়িয়ে এসব দেখে রাগে সহ্য করতে না পেরে চলে গেল।

মনে হচ্ছে আমি এখন দুই নৌকায় দু পা দিয়ে দড়িয়ে আছি।একটু পর আমার কি হবে ভাবতেই পারছি না।

আপাতত রুমে যাওয়া যাক।

রুমে এসে শুয়ে পড়লাম।মাথা কাজ করছে না।এতো প্যারার চেয়ে মরে যাওয়া ভালো।

আম্মু এসে বলল,"তোরে এমন মন মরা লাগছে ক্যান?"

---আসলে আম্মু শপিং করেছি তো।তাই হয়তো এমন লাগছে।

---আচ্ছা তাহলে রেষ্ট নে।পরে তোর সাথে কথা বলবো।

---আচ্ছা আম্মু।

বিকেলে বিথীর সাথে পার্কে ঘুরতে গেলাম।
কিছুক্ষন ঘুরাঘুরির পর  বিথী বলল,"আপনার সাথে আমার গুরুত্বপূর্ণ কথা আছে?"

---তাহলে চলো কোথাও বসে কথা বলি।

---সামনে একটা সুন্দর জায়গা আছে।ওখানে বসে কথা বলি।

আসলে জায়গা টা সুন্দর। আশেপাশে ফুলের গাছ।আর ওখানে বসার জন্য উঁচু করে ইট দিয়ে গেঁথে তোলা হইছে।দুজনে বসলাম।

---কি জরুরি কথা বলবা বলো?

---আপুর সাথে আপনার কিসের সম্পর্ক?

---বিথী হঠাৎ এমন প্রশ্ন করছো কেন?

---যা বলছি তার উওর দেন।

---কই,কিছুর না তো।

---আপনার চোখ বলছে আপনি মিথ্যা বলছেন।

---চোখ কথা বলে নাকি আজব।

---দেখুন আমি ঘুরিয়ে পেচিয়ে কথা বলতে পছন্দ করি না।ছাঁদে আপনার আর আপুর সব কথা আমি শুনেছি।

---শুনছো যখন তাহলে জিজ্ঞাসা করছো কেন?

---এই কয়েকদিনে আপনাকে অনেক ভালোবেসে ফেলেছি।কিন্তু ভয় হয় যদি আপুর সাথে পালিয়ে যান।

বিথীর কথার কি উওর দিবো ভেবে পেলাম না।মেয়েটা সত্যি আমাকে ভালোবাসে।ওরে ধোঁকা দিলে সইতে পারবে না।অপরদিকে তিথীও আমাকে ভালোবাসে।আমিও তিথীকে ভালোবাসি।তিথীও বলেছে আমাকে না পেলে বাঁচবে না।

---কি হলো কথা বলেছেন না কেন?নাকি আপুকে নিয়ে পালানোর প্ল্যান করছেন?

---বিথী চুপ থাকো।

---হবু বরের গার্লফ্রেন্ড আমার আপন বড় বোন।এখন তারা পালানোর জন্য প্ল্যান করছে।এমন অবস্থায় আমি চুপ থাকবো কিভাবে বলেন।

---তুমি বলো আমি এখন কি করবো?তোমাকে বিয়ে করবো নাকি তোমার বোনকে?বলো?একবার আমার অবস্থানে এসে ভেবে দেখো আমি কতটা টেনশনে আছি।আচ্ছা দেশে আর কোনো ছেলে ছিলো না বলো?

---আমি জানতাম আপু আপনাকে ভালোবাসে।জানলে তো আর এই ভুল করতাম না।যতদিনে জানছি ততদিনে অনেক দেরী হয়ে গেছে।এই মনটা এখন আপনার কথাই ভাবে।আপনাকে ছাড়া কোনোকিছু ভাবতে পারি না।মনে হয় আপনি আমার সব।

---তোমরা দুই বোন আমাকে কেটে দু ভাগ করে নাও।তাহলে ঝামেলা মিটে গেল।

---আমি এতোকিছু বুঝি না।আপনি শুধু আমার। আর  আপুকে নিয়ে পালানোর কথা ভাবলে আমার লাশের উপর দিয়ে যেতে হবে।এখন ডিসিশন আপনার।যেটা ইচ্ছে করেন।আমি বাসায় গেলাম।

বিথী চলে গেল।আমি বসে ভাবতে লাগলাম।কিন্তু কাকে রেখে কাকে বিয়ে করবো কোনো ঠিক করতে পারলাম না।

এমনিতেই টেনশনে দুদিন ধরে ঘুম হচ্ছে না।বাজার থেকে এক দু পাতা ঘুমের ট্যাবলেট কিনে বাসায় আসলাম।

রাত প্রায় দুটা, আমার চোখে কোনো ঘুম নেই।ঘুম আসবেই বা কিভাবে?দু বোনের হুমকিতে ঘুম পালিয়েছে।কিন্তু না ঘুমালে তো শরীর থারাপ হয়ে যাবে।এজন্য অনেকগুলো ট্যাবলেট খেয়ে শুয়ে পড়লাম।চোখের পাতা ভারী হয়ে আসছে।মনে হচ্ছে কোনো অতলে হারিয়ে যাচ্ছি। এরপরে আর কিছু মনে নাই।

সকালে আম্মু আমাকে ডাকতে লাগল।কিন্তু আজকে কোনো নড়াচড়া না দেখে আমার কপালে হাত দিলো।দেখে কপাল ঠান্ডা হয়ে গেছে।কিছুক্ষণ ধাক্কা দিয়েও আমাকে তুলতে পারলো না।
হঠাৎ আম্মুর চোখ পড়লো টেবিলের উপর।দেখে প্রায় দু পাতার ১৫ টা ঘুমের ট্যাবলেট নেই।অনিক তো কখনও ঘুমের ওষুধ খায় না।নাকি ঘুমের ট্যাবলেট খেয়ে সুইসাইড করলো?এটা ভেবেই আম্মু একটা চিৎকার দিলো.....

পর্বঃ১৬তম



---বিথী বলল,"সামনে একটা সুন্দর জায়গা আছে।ওখানে চলেন না প্লিজ।"

বিথীর আবদার ফেলতে পারলাম না।যেতে লাগলাম ওর সাথে। এদিকে সন্ধ্যা হয়ে আসছে।

আচমকা বিথী উফফ মাগো বলে বসে পড়লো।

---ওই এখানে বসলে কেন?

---দেখতে পাচ্ছেন না আমি পায়ে ব্যাথা পাইছি।উফফ কি ব্যাথা! আমি এখন কিভাবে যাবো?উহুহুহু।

---সামান্য ব্যাথা পেলে এভাবে কেউ কান্না করে নাকি?

---ব্যাথা আমার লেগেছে,আমি বুঝতেছি।আপনি তো আর আমার ব্যাথা বুঝবেন না।

বিথী ওঠে দাড়াতে চেষ্টা করলো কিন্তু পারলো না।কি বিপদে পড়লাম।একে এখন নেই কিভাবে?রিকশাও পাওয়া যাবে না।রাস্তা থেকে ১০ মিনিটের মতো হেঁটে আসছি।

---এখন আমি এখান থেকে যাবো কিভাবে?((বিথী))

---চোখ কোথায় রেখে হাঁটতেছিলে হু?((আমি))

---চোখ চোখের যায়গায় ছিল।কিন্তু রাস্তা দেখা বাদ দিয়ে অন্য কিছু দেখছিলাম।((তোমাকে দেখছিলাম কিন্তু তুমি তো আমাকে বুঝতেই চাও না))

---বিরবির করে কি বলছো?

--কই কিছু না তো।

আমি বিথীর হাত ধরে বললাম,"এবার উঠার চেষ্টা করো।"

বিথী আস্তে আস্তে উঠে দাঁড়িয়ে বলল,"উফফফ অনেক ব্যাথা করছে।দাঁড়িয়ে থাকতে পারছি না।কিছু একটা করুন।"
Green Bangla Romantic Love Story

---আজব আমি কি করবো?

---কি করবেন মানে আমাকে কোলে করে নিয়ে চলেন।

--- আমি কেন কোলে নিবো?

---আমি আপনার সাথে এসেছি।সো আমার কিছু হলে আপনি দেখবেন তাই না।

ধুর যাকে ভালোবাসি তাকে কোলে নিতে পারলাম না।আর একে কোলে নিতে হবে।ভাবা যায় এসব?

---ওই কোলে নিবেন নাকি আমি চেচামেচি করে লোকজন জড়ো করবো?

মাইয়া বলে কি?বলা যায় না।সত্যি সত্যি লোকজন জড়ো করতে পারে।এরচেয়ে কোলে করে নেওয়াই ভালো।তাই আর কিছু না ভেবে বিথীকে কোলে নিলাম।

বিথী আমার গলা জড়িয়ে ধরে আমার দিকে তাকিয়ে আছে।

---ওই আমার দিকে এভাবে বেহায়ার মতো তাকিয়ে আছো ক্যান?লজ্জা করে না তোমার?

--- বরের দিকে তাকাবো না তো কার দিকে তাকাবো?

----ওই আমি তোমার এখনও বর হইনি।

---হননি তো কি হইছে।কয়েকদিন পর তো হবেন।

---চুপচাপ থাকো।নাহলে এখানে ফেলে চলে যাবো।

বিথী চুপ করে রইলো।এভাবে তিথীকে কোলে না নিয়ে ওর শয়তান ছোট বোন কে কোলে নিতে হচ্ছে। আমার কপালে তিথী কি আছে?নাকি এই আপদটা ই গলায় এভাবে ঝুলে থাকবে?

একটু পর রাস্তায় চলে আসলাম।এরপরে একটা রিকশা ঠিক করে বাসার দিকে আসতে লাগলাম।সারা রাস্তা বিথীর প্যাচালে কান ঝালা পোড়া হয়ে গেছে।যদি এর সাথে বিয়ে হয় তাহলে আমার জীবনটা নরক বানিয়ে দিবে।

যাক বাঁচা গেল। অবশেষে বাসায় চলে আসলাম।

বাসায় আসতেই আম্মু আব্বু বলল,"কালকে তোর বিয়ের শপিং করতে হবে।"

---কি আজব,বিয়ের দিন ঠিক হবার পরই শপিং। আমি এসব শপিং করতে পারবো না।

---কি বললি!আরেকবার বল তো।((ধমক দিয়ে আব্বু বলল))

ছোটবেলায় আব্বুর কথা একবার শুনছিলাম না বলে লাঠি নিয়ে সে কি দৌড়ানি দিছিলো।এখন যদি আবার অমন করে মান সম্মানের ছিটেফোঁটা থাকবে না।কি কাজ আছে শপিং করাই ভালো।এজন্য আব্বু কে বললাম,"কিছু না আব্বু, কালই শপিং করে আনবো।"

---এইতো গুড বয়।

রুমে এসে শুয়ে পড়লাম।

ওদিকে তিথীর আব্বু তিথীকে ডাকলো।

তিথীঃ আব্বু কিছু বলবে?

তিথীর আব্বুঃ আমি ঠিক করেছি বিথীর বিয়ের দিন তোর ও বিয়ে দিবো।

তিথী মনে মনে ভাবলো আমার আবার কার সাথে বিয়ে দিবে?এমনিতেই অনিককে হারাচ্ছি আবার আরেকজনের সাথে বিয়ে দিবে।

----আমার বন্ধু রফিক কে তো চিনিস।ওর ছেলে রাফাতের সাথে তোর বিয়ে।

তিথীঃ আব্বু আমি এ বিয়ে করতে পারবো না।

---কেন?ছেলের নিজের বিজনেস আছে।দেখতে সুন্দর। তোকে সুখেই রাখবে।এর চেয়ে কি চাই বল?

তিথীঃ আব্বু আমি এখন বিয়ে করতে প্রস্তুত না।

---বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে।এখন বিয়ে ভেঙ্গে দেওয়ার কোনো মানে হয় না।আর আমি কথা দিয়েছি আমার কথার একটা মূল্য আছে।

---তাই বলে সেটার বলি আমাকে কেন হতে হবে?

---তুই ছাড়া আর কোনো মেয়ে আছে বল?

---আমি এখন বিয়ে করতে পারবো না।আর যদি জোর করো তাহলে আমাকে আর পাবে না বলে দিলাম।

তিথীর আব্বু চিন্তায় পরে গেল।এখন কি করে বন্ধু কে বলবে এই কথা?আবার বড় মেয়ের বিয়ে আগে না হয়ে ছোট টার আগে হলে লোকজন নানান কথা বলবে।হুট করে এভাবে বিয়ে ঠিক করা টা ভুল হইছে।তবে এখনও সবাইকে দাওয়াত করা হয়নি।আপাতত বিয়েটা ঘরোয়া ভাবে দিলেই ভালো হবে।কিন্তু অনিকের আব্বু আম্মু কি মেনে নিবে?বুঝিয়ে বললে অবশ্যই মানবে।দেরি করলে আবার দাওয়াত করে ফেলবে।এখনি কথা বলা উচিত।

আম্মুঃ রাতে আবার কে কলিং বেল বাজায়?বলে দড়জা খুললো।দেখে বিথীর আব্বু দাঁড়িয়ে। আরে বেয়াই সাহেব দাঁড়িয়ে কেন ভেতরে আসুন।

তিথীর আব্বু ভেতরে এসে সোফায় বসলো।

তিথীর আব্বুঃ অনিকের আব্বু কি বাসায় আছে?আসলে কিছু কথা আছে।

আম্মুঃ আছে।একটু দেরী করেন। আমি ডেকে আনছি।

আম্মু একটু পর আব্বু কে সঙ্গে করে আনলো।

তিথীর আব্বুঃ আসলে কথাটা কি করে বলি?

আব্বুঃএতো ভাবাভাবির কি আছে?বলে ফেলুন।

তিথীর আব্বু সবকিছু খুলে বলল।এরপর বলল,"এখন আপাতত অনিক আর বিথীর বিয়েটা ঘরোয়া ভাবে দিতে চাচ্ছি যদি আপনাদের কোনো সমস্যা না থাকে।

আব্বু একটু ভাবলো।ভেবে বলল,"এখন এসে ভালোই করছেন।নাহলে কালকেই আমার সব আত্মীয় স্বজনদের দাওয়াত দিতাম।"

তিথীর আব্বুঃ তাহলে বিয়েটা ঘরোয়া ভাবেই হচ্ছে।

আব্বুঃ আচ্ছা তাই হবে।

তিথীর আব্বুঃ ধন্যবাদ ভাইজান আমাকে অনেক বড় বিপদ থেকে রক্ষা করলেন।

আব্বুঃ আপনার সমস্যা টা আমি বুঝছি।এজন্য আমার যা করা দরকার তাই করলাম।এজন্য এতো ধন্যবাদ দিতে হবে না।

তিথীর আব্বুঃ আচ্ছা ভাইজান তাহলে আমি আসি।

সকালে ঘুম থেকে উঠে বারান্দায় দাঁড়িয়ে আছি।এমন সময় বিথী কল করলো।

---হ্যালো..(আমি)

---এই মিস্টার আপনার ঘুম ভাঙছে? ((বিথী))

---হ্যাঁ,কিছু বলবা?

---হুমমম,বলার জন্য তো কল করছি।

---বলো কি বলবা?

---আজকে তো বিয়ের শপিং এ যেতে হবে।

---এটা তো আমিও জানি।এটা ফোন করে বলার কি দরকার?

---এভাবে কথা বলছেন কেন?

---তো কিভাবে বলবো?ধুর সকাল সকাল মুড খারাপ করে দিলো বলে কল কেটে দিলাম।

বিথী মনে মনে বলল,"মিস্টার অনিক এখন যতোই রাগ দেখাও বিয়ের পর আমার কথাই শুনতে হবে।"

তিথীঃওই বিরবির করে কি বলিস?

বিথীঃ আপু ওসব তুমি বুঝবে না।

তিথীঃ কি যে বুঝিস সেটা আমার ভালো করেই জানা আছে।

বিথীঃ আপু ওসব কথা বাদ দাও।আজকে আমার বিয়ের শপিং করতে হবে।তুমি কিন্তু আমার সাথে অবশ্যই  যাবে।

তিথীঃঅনিকের সামনে গেলে নিজের মনকে আটকাতে পারি না।এজন্য ওর থেকে দূরে থাকতে চাই।ওকে ভুলতে চাই।শুধু তোর জন্য। কিন্তু এগুলো কখনও তুই জানতে পারবি না।((মনে মনে বলল))

বিথীঃকি হলো আপু বলো যাবে?

তিথীঃ না রে।আমার একটা কাজ আছে।এজন্য যেতে পারবো না।তুই তোর কোনো বান্ধবী কে সাথে করে নিয়ে যা।

বিথীঃ তুমি আমার সাথে না গেলে আমিও শপিং এ যাবো না বললাম।

তিথীঃ লক্ষী বোন আমার রাগ করে না।বোঝার চেষ্টা কর।আমার কাজ না থাকলে অবশ্যই যেতাম।

বিথীঃ আমার চেয়ে তোমার কাজ বেশী জরুরি হয়ে গেল?থাকো তোমার কাজ নিয়ে।আমি ও যাবো না শপিং এ।বলে চলে গেল।

তিথী ভাবতে লাগল এখন কি করি।আমি না গেলে ও সত্যি সত্যি শপিং এ যাবে না।অনেকক্ষণ ভেবে কোনো উপায় পেল না।শেষমেশ ভাবলো নাহয় যাবে শপিং এ।কিন্তু অনিকের থেকে দূরে থাকবে।

সকাল দশটা।আম্মু আমাকে বলল,"রেডি হতে এতো সময় লাগে নাকি?"

---আম্মু আর দশ মিনিট ওয়েট করো।আসছি।

তারাতাড়ি রেডি হয়ে বাহিরে রুমের বাহিরে আসলাম।

আকাশকে কল করছিলাম আমার সাথে যাওয়ায় জন্য।কিন্তু শালা এখনও আসে নি।

একটু পর আকাশ চলে আসলো।

শপিং এ যাবো আমি বিথী আকাশ আর তিথী।

শপিং এ যসওয়ার জন্য বিথীর আব্বু কার রেখে গেছে।আমি আর আকাশ সামনে বসলাম।আকাশ ড্রাইভিং সিটে আমি পাশের টায়।আর তিথী বিথী পেছনে।তিথী সাথে আসাতে আনইজি ফিল করতে লাগলাম।

কারের মাঝখানের গ্লাসের দিকে তাকিয়ে তিথীকে দেখলাম।ওর চোখ জোড়া ফোলা ফোলা লাগছে।মনে হয় রাতে অনেক কান্না করছে।আমার বিয়ের দিনই ওর ও বিয়ে হবে।বিয়ের দিন যত ঘনিয়ে আসছে ততই তিথীকে দূরে হারিয়ে ফেলছি।এদিকে বিথীও আমাকে ভালোবাসে।কিন্তু আমার তো মন  তো তিথীকে চায়।তিথীকে ছাড়া কিছু বোঝে না।

কার এসে থামলো সিটি শপিংমলের সামনে।এক এক করে সবাই কার থেকে নেমে শপিংমলের ভিতরে গেলাম।

আকাশঃ আগে কনের শপিং করি।পরে বরের শপিং করা যাবে।

এক দোকানে ঢুকে কনের শাড়ি দেখতে লাগল।বিথী একের পর একটা শাড়ি দেখে যাচ্ছে। অনেক শাড়ি দেখে একটা লাল বেনারসি পছন্দ করলো।শাড়িটা তিথীকে দেখিয়ে বলল,"আপু দেখ শাড়িটায় আমাকে সুন্দর মানাবে না?

তিথী মাথা নাড়ালো।

আমি তিথীর দিকে তাকালাম। ওর চোখ ছলছল করছে।মনে হচ্ছে এখনি কান্না শুরু করবে।

তিথীর এমন অবস্থা দেখে আমার বুকটা কেঁপে উঠলো।মেয়েটা আমাকে অনেক ভালোবাসে।আমি তো ওকে নিজের চেয়ে বেশি ভালোবাসি।কিন্তু আমার ভাগ্যে মনে হয় তিথী নাই।

বিথীর শপিং শেষ হলে আমার জন্য শপিং করি।

শপিং শেষ করতে করতে ২ টা বেজে গেল।আমি বললাম, "চলো সবাই,দুপুরে কিছু খাওয়া যাক।"

চারজনে একটা রেস্টুরেন্ট এ ঢুকলাম।তিথী আমার সামনের চেয়ারে বসেছে আর বিথী পাশের চেয়ারে।তিথী বার বার আমার দিকে তাকাচ্ছে। ওর চাহনিতে মনে হচ্ছে আমাকে অনেককিছু বলতে চায়।কিন্তু এখানে কোনো কথা বলা সম্ভব না।কারণ বিথী জানে তিথী আমাকে ভালোবাসে।কিন্তু এটা জানে না আমি কাকে ভালোবাসি। আমি আর ভাবতে পারছি না।মাথাটা কেমন ঝিমঝিম করে উঠলো।

পর্বঃ১৫তম



আমি বললাম,"তিথী তুমি আমাকে এমন রিকুয়েষ্ট করতে পারো না যে যেটা করতে লাগলে নিজের ভালোবাসা হারাতে হবে।আমি এমন রিকুয়েষ্ট রাখতে পারবো না।

তিথীর কান্না বেড়েই চলেছে।আচমকা তিথী আমাকে জড়িয়ে ধরে আরও কান্না করতে লাগলো।

আমি বললাম,"এই পাগলি এভাবে কান্না করো না।আমি তো আছি।

---কান্না করবো না তো কি করবো বলো?নিজের ভালোবাসার মানুষ ছোটবোনের বর হবে। এর চেয়ে কষ্ট কি হয় বলো?

---তুমি আমাকে ভালোবাসো।তাহলে এই ভুল করলে কেন?

---বিথী বলছে তোমাকে না পেলে সুইসাইড করবে। বাধ্য হয়ে আমি আব্বু আম্মুকে রাজি করিয়েছি।

---আমি আন্টি আঙ্কেলের সাথে কথা বলে উনাদের সব বিষয় বুঝিয়ে বলবো।

---প্লিজ তুমি এমন করো না।আমার হয়তো কিছুদিন কষ্ট লাগবে। পরে নিজেকে মানিয়ে নিবো।কিন্তু তুমি বিথীর না হলে আমার বিথীকে হারাতে হবে।আমি জীবনেও নিজেকে মাফ করতে পারবো না।

---তুমি শুধু নিজের দিকটাই ভাবছো।আমার কথাটা একবার ভাবতে।আমিও তোমাকে ভালোবাসি। আর ভালোবাসা না পাওয়ার কষ্ট নিয়ে সারাজীবন থাকতে হবে।

---অনিক তুমি যদি আমার কথা না রাখো তাহলে আমার মরা মুখ দেখবে বলে দিলাম বলে চলে গেল।

---কি বিপদে পড়লাম।একদিকে নিজের ভালোবাসা।অপর দিকে ভালোবাসায় মানুষের কথা রক্ষা করা।তিথীর কথা না রাখলে ওর মরা মুখ দেখতে হবে।আমার জন্য তিথীকে মরতে দিবো না।আমার জন্য তিথীর কিছু হলে কখনও নিজেকে ক্ষমা করতে পারবো না।দরকার হলে আমি বিথীকে বিয়ে করবো।হ্যাঁ আমি বিথীকে বিয়ে করবো।অন্তত এজন্য তিথী রক্ষা পাবে না।

আস্তে আস্তে ছাদ থেকে নেমে আসলাম।

রাতে আর খেলাম না।উল্টাপাল্টা চিন্তায় ঠিকমতো ঘুমাতে পারলাম না।

সকালে কে যেন বলল,"এই ওঠো,তোমার জন্য কফি আনছি।"

---ধুর এতো সকাল সকাল কেডা ঘুম ভাঙ্গালো।চোখ খুলে দেখি বিথী দাঁড়িয়ে। একরাশ বিরক্তি নিয়ে বললাম,"ওই তুমি আমার রুমে কেন?আম্মু দেখলে কি মনে করবে?যাও বলছি।"

---আরে পাগল শ্বাশুড়ি আম্মু আমাকেই এখানে পাঠিয়েছে আপনাকে ঘুম থেকে তোলার জন্য।

---ওই ফাজিল মেয়ে তুমি আমার আম্মু কে শ্বাশুড়ি বলছো ক্যান?লজ্জা করে না এসব বলতে?

Green Bangla Romantic Love Story


---উনি তো কয়েকদিন পর আমার শ্বাশুড়ি হবে।তাই আগে থেকে বলার অভ্যাস করছি।আপনি এতো রাগ করছেন কেন?

---কি সব উল্টাপাল্টা কথা বলছো?তোমার মাথা ঠিক আছে তো?

---আমার মাথা ঠিকই আছে।শোনেন বিকেলে আপনার সাথে ঘুরতে যাবো।রেডি হয়ে থাকবেন কেমন।আর হ্যাঁ আপনার মনে নিশ্চয়ই অনেক প্রশ্ন জাগছে।আমি এসবের উওর দিতে পারবো না।সব কিছু আমার শ্বাশুড়ি আম্মু বলবে।আমি এখন যাই।

গতকাল তিথী বলল বিথীকে বিয়ে করার কথা।কিন্তু এ কথা আমার আম্মু এতো তারাতাড়ি জেনে রাজি হয়ে গেল কিভাবে?

---আম্মু ও আম্মু।

---হারামজাদা ষাঁড়ের মতো ডাকছিস ক্যান?

---বাসায় এসব কি চলছে আমি তো কিছুই বুঝছি না।

---তোর কিছু বোঝা লাগবে না।খালি এটাই মনে রাখ আর সাতদিন পর তোর আর বিথীর বিয়ে।

---আম্মু আমি এ বিয়ে মানি না।

---থাপ্পড় দিয়ে তোর সব দাঁত ফেলে দিবো।মায়ের কথায় অবাধ্য হচ্ছিস।জানিস আমার কথা না মানলে তোর কি অবস্থা করবো একবার ভাবছিস?

---এমনিতেই আম্মু কে ভয় পাই।আবার ভয় দেখাচ্ছে। কি যে করি।কিছু না বলে ড্রইং রুমে গিয়ে টিভি দেখতে লাগলাম।

একটু পর নাস্তা করে ভার্সিটি গেলাম।হারামি আকাশ আজকে আসে নি।ক্লাস শেষ করে বাসায় আসতে লাগলাম।এমন সময় রিকশার সামনে একটা কার এসে থামলো।

কার থেকে বিথীর আব্বু বের হয়ে আসলো।উনি আমাকে বলল,"অনিক রিকশা থেকে নেমে কারে এসে বসো।"

যদি না বসি তাহলে অভদ্র মনে করবে।তাই রিকশা ভাড়া দিয়ে কারে বসলাম।

---বাবা অনিক তোমাকে না জানিয়ে তোমার আব্বু আম্মুর সাথে মিলে তোমার আর বিথীর বিয়ে ঠিক করেছি।আসলে আমার মেয়েটা অনেক জেদি। যখন যা চেয়েছে তাই দিয়েছি।দুদিন ধরে বায়না করছে ওর সাথে তোমাকে বিয়ে না দিলে সত্যি সত্যি সুইসাইড করবে।এজন্য আমি অপারগ হয়ে এই কাজ করেছি।আমি কোনো ভুল করলে মাফ করে দাও।

আমার লাইফের বারোটা বাজিয়ে এখন মাফ চাইতে আসছে।মেজাজটা খারাপ হয়ে আছে আবার ওসব বলে তিথীর কথা মনে করিয়ে দিলো।ধুর ভাল্লাগে না।

---কি হলো বাবা কথা বলছো না কেন?

---আসলে আঙ্কেল একটা কথা ছিল।বড় মেয়েকে রেখে ছোট মেয়ের বিয়ে দিলে লোকে কি বলবে বলেন তো?

---বাবা ওই ছোট মেয়ের টেনশনে সব ভুলে গেছিলাম।তুমি আমাকে ভালো কথা মনে করিয়ে দিছো।আমি আমার বন্ধু র ছেলের সাথে তিথী র বিয়ে অনেক আগে থেকে ঠিক করে রেখেছি।শুধু দিন ঠিক করা হয়নি।আমি এখনি কথা বলে তিথী আর রাহাতের বিয়ের দিন ঠিক করছি।

এই যা কি রেখে কি বলে ফেললাম।এখন আমার আগে তিথীকে বিয়ে দিয়ে দিবে।তারমানে কি আমি তিথীকে পাবো না?

আঙ্কেল উনার বন্ধুর সাথে কথা বলে তিথী আর রাহাতের বিয়ের দিন ধার্য করলো।আঙ্কেল বলল,"আমার দুই মেয়ে কে একই দিনে বিয়ে দিবো।বাবা তুমি আমাকে একটা বড় ভুল করা থেকে বাঁচালে। "

একটু পর বাসার সামনে চলে আসলাম।আমাকে নামিয়ে দিয়ে আঙ্কেল বলল,"আমার একটু অফিসে যেতে হবে।তুমি বাসায় যাও।"

ধুর কি থেকে কি করে ফেললাম!আম্মু এসে বলল,"কি বাবা বিয়ের আগেই তোর শ্বশুর তো দেখছি ভালোই জামাই খাতির করছে।"

---মা মজা করো না তো।আমার ভাল্লাগছে না।একটু আমাকে একা থাকতে দাও।

আম্মু চলে গেল।আমি শুয়ে পড়লাম।বিকেলে রেডি হয়ে বিথীর সাথে ঘুরতে বের হলাম।

তাকিয়ে দেখি তিথী দোতলায় থেকে আমার দিকে তাকিয়ে আছে।মুখটা শুকনো দেখাচ্ছে। আর সাতদিন পর তিথী অন্য কারো হয়ে যাবে।ভাবতেই বুকের বা পাশে কেমন করে উঠলো।

এদিকে বিথী আমার হাত ধরে বলল,"এইযে দাঁড়িয়ে আছেন কেন?চলেন।"

আমি বিথীর সাথে বের হয়ে রাস্তায় দাড়ালাম।

এরপর একটা রিকশা ভাড়া করলাম।

বিথীকে বললাম,"কোথায় যাবে?"

---নদীর পাড়ে চলো।

রিকশাওয়ালা মামাকে বললাম,"মামা নদীর পাড়ে চলো।

বিথী আমার দিকে তাকিয়ে হেসে বলল," এই দেখেন তো আমাকে কেমন লাগছে?"

---এতোক্ষণ ভালো করে বিথীকে দেখি নি।এবার পূর্ণ দৃষ্টি তে তাকালাম।কালো শাড়ি পড়েছে।ওর কানের পাাশের চুলগুলো বাতাসে অগোছালো হয়ে যাচ্ছে। আর বিথী ওগুলো বার বার কানের পাশে গুঁজে দিচ্ছে। এমনিতেই বিথী অনেক সুন্দরী। তারপর মুখে হল্কা মেকাপ করছে।আর ঠোঁটে লাল লিপস্টিক।যেকোনো ছেলে এমন রূপে প্রেমে পড়তে বাধ্য। কিন্তু আমার মনে কোনো ফিলিংস আসছে না।বারবার তিথীর কথা মনে পড়ছে।

---কি হলো বললেন না যে?

---ও হ্যাঁ তোমাকে অনেক সুন্দর লাগছে।

---সত্যি!((খুশি হয়ে বলল)

---হ্যাঁ সত্যি।

বিথী আমার হাত শক্ত করে চেপে ধরলো।আমি কিছু বললাম না।কিছু বললে হিতে বিপরীত হবে।

---একটু পর নদীর পাড়ে চলে আসলাম।

এসেই বিথী বায়না ধরলো ফুচকা খাবে।তো বিথীকে বললাম,"চলো।"

---না।আপনি নিয়ে আসেন।আর হ্যাঁ অনেক ঝাল দিয়ে বানিয়ে আনবেন।

বিথীর কথামতো অনেক ঝাল দিয়ে ফুচকা নিয়ে আসলাম।

---এখন এগুলো কোথায় বসে খাবে শুনি?(আমি)

---সামনে একটা বটগাছ আছে।ওখানে বসার যায়গা আছে।ওখানে বসে খাবো।এখন চলেন।"

বুঝলাম না ওখানে না খেয়ে এখানে খাওয়ার মানে কও?মেয়ে মানুষের মনে কখন কি হয় আল্লাহ ভালো জানে।

বিথী বসে ফুচকা খাচ্ছে আর আমি দেখছি।এই মাইয়া এতো ফুচকা কিভাবে খায়!বিথী আমাকে বলল,"এই হা করেন।"

---আমি খাবো না।তুমি খাও।

---নেন বলছি।

আমি হা করলাম।আমনি বিথী আমাকে একটা ফুচকা খাইয়ে দিলো। ও মাগো একি ঝাল!ঝালে আমার ঠোঁট পুড়ে গেল মনে হয়।আর এই মসইয়া এতো ঝাল কিভাবে খাচ্ছে।

আমি ঝাল ঝাল বলে চিল্লাতে লাগলাম।আর বিথীকে বললাম,"ওই পানি খাওয়াও।"

---আমি এখানে পানি পাবো কোথায়?

---জানি না।আমার ঠোঁট পুড়ে গেল।কিছু একটা করো।

---কিছু করলে আবার বকবেন না তো।

---না।উফফফ মরে গেলাম ঝালে।এতো ঝাল কিভাবে খেলে?

বিথী কোনো কথা না বলে আমার ঠোঁটে কিস করা শুরু করলো।দুই মিনিট পর আমাকে ছেড়ে দিয়ে বলল,"এখন ঝাল কমেছে আপনার?"

---এই তাই তো আমার ঝাল নেই।আজব বেপার ঝাল গেল কোথায়?(আর কিস করায় এতো মজা লাগে হিহি।কিন্তু বিথীকে বুঝতে দিলাম না।)

---মিষ্টির কাছে ঝাল পারে না।তাই আপনাকে মিষ্টি খাওয়াইছি।এজন্য ঝাল চলে গেছে।

---শয়তান লুচু মাইয়া আমাকে কিস করার জন্য প্ল্যান করে ফুচকায় বেশি ঝাল দিয়ে বানিয়ে আনতে বলছো।

---হিহিহি,এতোক্ষণে আপনি বুঝছেন।

---এসব কিন্তু ঠিক করছো না।

---আমার কি দোষ!আপনার অতো সুন্দর ঠোঁটে কিস করার লোভ সামলাতে পারি নি।

---বিয়ের আগে এসব আর করবে না।

---কেন?অন্য কারো থেকে নিবেন নাকি?

---সেটা তোমার না ভাবলেও চলবে।এখন চলো এখান থেকে।

---দুজন হাঁটতে লাগলাম।বিথী আমার হাত ধরে আছে।একেবারে খারাপ লাগছে না।তারপরও মনে হচ্ছে বিথীর যায়গায় তিথী হলে আরও ভালো লাগতো।

বিথী আবার আবদার করলো আইসক্রিম খাবে।তো আইসক্রিম ওয়ালাকে বললাম দুটা আইসক্রিম দিতে।

বিথী বলল," দুটা না।একটা নিলে হবে।"

এই মাইয়া এখন নিজে নিজে আইসক্রিম খাবে। আর আমাকে দিবে না।এটা মানতে পারছি না।কিন্তু ওর সামনে কিছু বললাম না।

একটা আইসক্রিম নিয়ে ওকে দিলাম।বিথী আইসক্রিম এর এক কোনায় এক কামড় দিয়ে আমার মুখের সামনে ধরে বলল,"খান একটু।"

---তোমার টা কেন খাবো?

---একসাথে খেলে ভালোবাসা বাড়ে।নেন কথা না বাড়িয়ে আইসক্রিম খান।"

জানি না খাওয়া পর্যন্ত আমাকে ছাড়বে না।তাই বাধ্য হয়ে ওর সাথে আইসক্রিম ভাগাভাগি করে খেলাম।এতোদিন যত আইসক্রিম খেয়েছি তারচেয়ে আজকে খেয়ে বেশি মজা পেলাম।

হাঁটতে হাঁটতে অনেকদূর চলে এসেছি।তাই বিথীকে বললাম,"চলো অনেক ঘুড়ছি।এখন বাসায় চলো।"

---বিথী বলল,"সামনে একটা সুন্দর জায়গা আছে।ওখানে চলেন না প্লিজ।"

বিথীর আবদার ফেলতে পারলাম না।যেতে লাগলাম ওর সাথে। এদিকে সন্ধ্যা হয়ে আসছে।

আচমকা বিথী......

Contact Form

Name

Email *

Message *

Powered by Blogger.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget