Green Bangla

Green Bangla Story

July 2020

পর্বঃ২০তম (অন্তিম পর্ব)



ছেলেটার কথা শুনে রাগ উঠে গেল।মেরে দিলাম ওর নাক বারাবর এক ঘুসি।ছেলেটা নাক ধরে বসে পড়লো।আমি ছেলেটাকে এলোপাতাড়ি লাথি দিয়েই যাচ্ছি।এমন সময় ঠাসসস ঠাসসস করে আমার গালে কে যেন থাপ্পড় দিলো।চোখ তুলে দেখি আমার সামনে তিথী দাঁড়িয়ে আছে।

তিথীঃ তোর সাহস কি করে হয় আমার বয়ফ্রেন্ড কে মারার?ছোটলোকের বাচ্চা কোথাকার ।আর কখনও আমাদের আশেপাশে না দেখি।

একে তো আর ভালোবাসে না।তার উপর আব্বু আম্মুকে ছোটলোক বলে আমার রাগ আরও বাড়িয়ে দিলো।ঠাসস ঠাসস করে থিথীকেও দুটা থাপ্পড় মেরে দিলাম।

---তোকে ভালোবাসাই আমার ভুল হয়েছে।তোর মতো মেয়েদের জন্য ছেলেরা কষ্ট পায়।আর যে সত্যিকারে ভালোবাসে তাকেই বুঝতে পারি না।কিন্তু আমি আর সে ভুল করবো না।আজই গিয়ে তোর বোনের সাথে বিয়ের কথা বলবো।থাক তোর বয়ফ্রেন্ড কে নিয়ে বলে ওখানে থেকে চলে আসি।

রাফিঃকি দরকার ছিল তিথীকে মারার?

---মারবো না তো কি করবো?কিছুদিন আগেই ওর জন্য বিথীকে ভুল বুঝি।কিন্তু দেখ ও আমাকে সত্যিকারে ভালোবাসে।ওর মতো মেয়েকে এমনি এমনি ছেড়ে দিলে ভুল হবে।

আকাশঃআচ্ছা বাদ দে ওসব।এখন বাসায় চল।তোর মাথা ঠিক নাই।কিখন কি করে ফেলবি ঠিক নাই।তারচেয়ে আমি তোকে নামিয়ে দিয়ে আসি।

রাফিঃ তা ঠিক বলছিস।ওরে নামিয়ে দিয়ে আয়।আমি গেলাম।

রাফি চলে গেল।আমি আকাশের বাইকের পেছনে বসলাম।ও চালাতে শুরু করলো।কিছুক্ষণ পর বাসায় সামনে নামিয়ে দিয়ে যায়।

বাসায় এসে দেখি আম্মু আর বিথী বসে গল্প করছে।কি মিলরে বাবা।বিথী আমাকে দেখেই চোখ মারলো।কিন্তু আম্মু কিছুই বুঝতে পারলো না।এখন কিছু বললে আবার ঝগড়া লাগিয়ে দিবে।তারচেয়ে রুমে গিয়ে শুয়ে থাকা ভালো।

রুমে গিয়ে ড্রেস চেঞ্জ করে শুয়ে পরি।আম্মু এসে বলল,"খেতে আয়।"

খেতে লাগলাম।দেখি আজকে তরকারির স্বাদ ভিন্ন। তবে খারাপ লাগছে না।

আম্মুকে বললাম,"মা আজকে অন্যরকম রান্নার স্বাদ লাগছে।ব্যাপার কি?"

আম্মুঃ হুমম আজকে নতুন স্টাইলে রান্না হয়েছে।বল কেমন লাগছে খেতে?

----হুমম সুন্দর হয়েছে।

আম্মুঃদেখতে হবে তো কে রান্না করছে।

----হিহি আমার আম্মু রান্না করছে।

আম্মুঃ ওই না বিথী রান্না করছে।

---কিহ!বিথী কবে থেকে রান্না করা শিখলো?

---তুই যখন কমায় ছিলি তখন ওকে রান্না শেখাইছি।আসলে মেয়েটা তোকে অনেক ভালোবাসে তাইনা।

---কেমন করে বুঝলে আমাকে ভালোবাসে?

---তুই যখন কমায় ছিলি তোর পাশে বেশির ভাগ সময় বিথী থাকতো।আমাকেও অতো থাকতে দিতো না।তাছাড়া ওর চোখ দেখেই বোঝা যায় ও তোকে অনেক ভালোবাসে।ওকে আমার বউমা করে আনবো যে কবে?

---তাহলে দেরী করছো কেন?

---হারামি তোর জন্য তো সবকিছু তে গন্ডগোল পেকে গেছে।তা না হলে কবে এই বাড়ির বউ হতো!

---হুমমম তা ঠিক।

---আচ্ছা আমি বিথীর আব্বু আম্মুর সাথে কথা বলে বিয়ের দিন ঠিক করছি।

আম্মু চলে গেল।খাওয়া শেষে রুমে আসলাম।

রাতে আম্মু বলল,"সাতদিন পর তোর আর বিথীর বিয়ে।তোর সব বন্ধু দের দাওয়াত দিস।"

আমি ফোন করে আকাশ আর রাফিকে সুসংবাদ টা দিলাম।
রাতে শুয়ে আছি।এমন সময় বিথী কল করলো।

হ্যালো....(আমি)

---এইযে মিস্টার হবু বর কি করছেন শুনি?((বিথী))

---একজনের কথা ভাবছি।

---কে সে?

---তোমাকে বলবো কেন?

---না বললেন।তবে শোনেন আমাকে ছাড়া অন্য কোনো মেয়েকে নিয়ে ভাবা যাবে না বলে দিলাম।

---ভাবলে কি করবে শুনি?

---গুলি করে মেরে ফেলবো।তারপর আমিও মরে যাবো।

---এহ শখ কত আমাকে মারবে!

---হিহি বাসর রাতে মজা দেখাবো।

---তা কি মজা শুনি?

---বললে তো সব কিছু আগেই জেনে ফেলবেন।

---কি বুদ্ধি রে বাবা।

---দেখতে হবে না আমি কে?

---হিহি, আমার বউ।

---এই শোনেন না?

---কি গো বলো।

---একটু ছাদে আসেন প্লিজ।

---এখন ছাদে গিয়ে কি করবো?

---আপনাকে খুব দেখতে ইচ্ছে করছে।প্লিজ আসেন।

---রাত ১১ টা বাজে।

---না আসলে কিন্তু আমি কান্না করবো।

----থাক আর কান্না করতে হবে না। আমি আসছি।

ছাদে গিয়ে দেখি বিথী দাঁড়িয়ে আছে।এতো রাতে পাগলামি করো কেন?

---আপনার সাথে পাগলামি না করলে কার সাথে পাগলামি করবো শুনি?

---তা ঠিক বলছো।

---হুমমম,আমি ঠিক ই বলি।আচ্ছা শোনেন আপনার জন্য নুডলস রান্না করে আনছি।খেয়ে নেন।

এমনিতেই আমার নুডলস ফেভারিট।তাই দেরী না করে চামচ দিয়ে খাওয়া শুরু করলাম।আমি খাচ্ছি আর বিথী দাঁড়িয়ে দেখছে।হয়তো রান্না করে সবটুকুই আমার জন্য আনছে।পাগলিটা মনে হয় নিজেও খায়নি।তাই ভাবলাম ওকেও খাইয়ে দেই।এজন্য বিথীকে বললাম,

---এই হা করো।

বিথী হা করলো আমি খাইয়ে দিলাম।এখাবে একবার আমি খাচ্ছি আরেকবার বিথীকে দিচ্ছি। খেতে খেতে বললাম,"দুপুরের রান্নাটা অনেক সুন্দর হয়েছিল। এতো সুন্দর রান্না করতে পারো জানা ছিল না।"

---আপনার আম্মু শিখিয়েছে।

একটু পর মনে হলো ছাদে কেউ আসছে।বিথী মনে এখনও টের পায়নি।পাশের বাসা গুলো থেকে আশা আলোতে দেখলাম তিথী আসছে।শয়তান মহিলাকে দেখে রাগ হচ্ছিল। কিন্তু রাগ সংবরণ করে বিথীকে বললাম, "উফফ ঝাল লাগছে।পানি দাও।"

---এখানে পানি তো আনি নি।

---তাহলে আমি কি ঝালে মারা যাবো?
আরকিছু না ভেবে বিথীর ঠোঁটে ঠোঁট ডুবিয়ে দিলাম।প্রায় দুই মিনিট পর ছেড়ে দিলাম।বিথী হাঁপাতে হাঁপাতে বলল,"রাক্ষস একটা।এভাবে কেউ কিস করে নাকি?

---আমি কি করবো?ঝাল লেগেছিল তো।তোমার থিউরি মতো ঝাল কমালাম হিহি।

---কই ঝাল ছিল?নাকি এটা কিস করার বাহানা ছিল?

---হিহি,যেটা মনে করো।

আমি আগে থেকেই খেয়াল করছি তিথী এসবকিছু দেখেছে।ওরে দেখানোর জন্য ই বিথীকে কিস করছি।ও হয়তো ভাবছিল ও আমি প্রেমে ব্যার্থ হয়ে দেবদাস হয়ে যাবো।কিন্তু আমি সেই টাইপের ছেলে না।একটা ফালতু মেয়ের জন্য নিজের লাইফ নষ্ট করার মতো বেকামি করবো না।

আমি বিথীকে আস্তে করে বললাম,"তোমার বোন মনে হয় সব দেখে ফেলছে।"

---দেখলে দেখুক তাতে আমার কি।

---এই না হলে আমার আমার বউ।আচ্ছা শোনো এখন এখান থেকে চলো।

আমি বিথীর হাত ধরে নিচে চলে আসলাম।তিথী এসব দাঁড়িয়ে দেখলো।

আস্তে আস্তে বিয়ের দিন চলে আসলো।আজকে বিয়ে।অল্পকিছু আত্মীয় স্বজনের উপস্থিতি তে আমার আর বিথীর বিয়ে সম্পন্ন হলো।

রাত অনেক হয়ে গেছে। প্রায় ১২ টা বাজবে।আকাশ আর রাফি বলল,"এতো ভয় পাওয়ার কি আছে।বাসরঘরে যা।"

---ওই শালা আমি ক্যান ভয় পাবো?

---তাহলে এখানে দাঁড়িয়ে আছিস কেন?যা বাসরঘরে।
এরপর দুজন মিলে আমকে আমার রুমে ঢুকিয়ে দিয়ে বলল,"বিড়াল মারতে ভুলিস না কিন্তু। নাহলে কিন্তু পরে পস্তাতে হবে।"

ধুর,এখন বাসর রাতে বিড়াল কই পাবো?

রুমে ঢুকেই অবাক হয়ে গেলাম।এটা কি আমার রুম নাকি ভুলে অন্য কোথাও ঢুকে ফেলছি?

---ওই মিস্টার এভাবে কি দেখছেন?

---আমার রুম এতো সুন্দর হলো কিভাবে?

---হিহি ওটা আমার কারণে।
Green Bangla Romantic Love Story


বিথী বড় ঘোমটা দিয়ে বসে আছে।আমি ওর পাশে গিয়ে বসলাম।এরপর ওর ঘোমটা তুলে অবাক হয়ে গেলাম।এতো সুন্দর লাগছে বিথীকে।আমি কিছুক্ষণ চেয়ে রইলাম।বিথী লজ্জা পেয়ে বলল,"এভাবে কি দেখছেন?

---একটা পরীকে।জানো আমি কখনও পরী দেখিনি। দেখলে অবশ্যই বলবো তোমাদের চেয়ে আমার বউ বেশি সুন্দরী।

বিথী প্রশংসা শুনে আরও লজ্জা পেয়ে গেল।এরপর বলল,"ধ্যাত,আমি অতো সুন্দর নাকি?"

---তুমি আমার কাছে পৃথিবীর সেরা সুন্দরী।

---হয়েছে আর পাম দিতে হবে না।

---এই নেমে আসো।দুজনে মিলে নামাজ পড়বো।

এরপর বাথরুমে গিয়ে আজু করে এসে বিথীকে সাথে নিয়ে দু রাকা'ত নামাজ আদায় করলাম।

এরপর বিথীর হাতে দেনমোহরের টাকা দিয়ে বললাম, "এই নাও তোমার দেনমোহরের টাকা।"

---বিথী টাকাগুলো আমার হাতে ফেরত দিয়ে বলল,"এ টাকা আমার চাই না।আপনি আমাকে সারাজীবন ভালোবেসে গেলেই আমি খুশি।"

আমি বিথীর কপালে একটা ভালোবাসা এঁকে দিলাম।বিথী আমাকে জড়িয়ে ধরে কান্না করতে লাগল।

---এই পাগলি কান্না করছো কেন?

---এটা কষ্টের কান্না না এটা সুখের কান্না। ভেবেছিলাম আপনাকে কখনও ফিরে পাবো না।কিন্তু আল্লাহ ঠিকই আমার কাছে ফিরিয়ে দিয়েছে।

---এই এখন কান্না থামাও।আমি বাসর করবো।

---অ্যাঁ আজকে রাতে ওসব হবে না।আমি এখনও প্রস্তুত না।

---আজকেই সবকিছু হবে।আর আমি তো আছি।

বিথীকে আর কোনো কথা বলতে দিলাম না।ওর ঠোঁটের উপর আমার ঠোঁট রেখে আস্তে আস্তে হারিয়ে যেতে লাগলাম সুখের সাগরে।

((এইযে পাঠক/পাঠিকারা।দেখতে পারছেন আমি বাসর করছি।তারপরও আপনারা চেয়ে আছেন। যান এখান থেকে।একটু শান্তিতে বাসর করতে দেন।))

সমাপ্ত.....

পর্বঃ১৯তম



---আসলে আব্বু ঘুম আসছিল না তাই খেয়েছিলাম।

---তাই বলে ওতোগুলো একসাথে খাবি।

---ভুল হয়েছে।আর এমন হবে না।

মনটা তিথীকে দেখার জন্য আনচান করছে।কখন যে আসবে।যেনো আর নিজেকে আটকাতে পারছি না।

আম্মুর সাথে অনেক কথা বললাম।এর ভেতর জানতে পেরেছি আমি চার মাস কমায় ছিলাম।তবে বিথী তিথীর কথা বলেনি।

কিছুক্ষণ পর বিথী আসলো।আমার জ্ঞান ফিরেছে দেখে আমাকে জড়িয়ে ধরলো।

---ছাড়ো আমায়,লাগছে তো।

---লগুক।এভাবে পাগলামি করছিলেন কেন বলেন?

ধ্যাত ভাল্লাগে না।বিথীকে দুই চোখে সহ্য হচ্ছে না।আম্মু আছে জন্য কিছুই বলতে পারছি না।তাও বললাম,"এখন বসো।পরে এ নিয়ে কথা হবে।"

বিথী আমাকে ছেড়ে দিয়ে আমার পাশে বসলো।এরপর আমার মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে লাগলো।আম্মু বিথীর কান্ড দেখে হাসতে লাগল।বিথী আম্মু কে বলল,"আন্টি আপনি এখন যান।আমি তো আছি।"

বিথীর কথা শুনে আম্মু হাসতে হাসতে বেরিয়ে গেল।

আমি বিথীকে বললাম,"তিথী কেমন আছে?ও আসে নি?"

তিথীর নাম শুনে বিথীর মুখটা শুকিয়ে গেল।ও কিছু বলল না।চুপচাপ বসে রইলো।

---ওই কথা বলছো না ক্যান?

---ওহ হ্যা,আপু ভালো আছে।আসবে একটু পর।

যাক তিথী তাহলে আসবে।শুনে মনটা শীতল হলো।

বিথী মনে মনে ভাবলো যাকে ভালোবাসি সে আরেকজনকে চায়,আর সে আরেকজনকে।আসলে অধিকাংশ মানুষই সত্যিকারের ভালোবাসার মর্ম বোঝে না।তবে পরে ঠিকই বোঝে। কিন্তু ততদিনে ফিরে পাওয়ার কোনো উপায় থাকে না।

আচ্ছা তিথীর বিয়ে কি হয়েছে?নাকি এখনও আমার জন্য অপেক্ষা করছে? তিথী আমার ছাড়া কারো হতে পারে না।নাহ এতোকিছু ভাবতে পারছি না।

হাসপাতালে আরও দুদিন কেটে গেল।কিন্তু তিথীর দেখা পেলাম না।মনটা আর মানতে চাইছে না।ইচ্ছে করছে ছুটে যাই তিথীর কাছে।কিন্তু শরীর দূর্বল। হাটতে পারি না।

ডাক্তার এসে জানালো আর সাতদিন পর আমাকে বাসায় নিয়ে যাবে।

এই সাত দিনে বিথী অনেক বার এসেছে।কিন্তু তিথী এলো না।তাহলে কি সত্যি সত্যি তিথীর বিয়ে হয়ে গেছে।যেজন্য আসে নি।মাথার ভেতর উল্টাপাল্টা চিন্তা ঘুরপাক খেতে লাগল।

অবশেষে আমাকে বাসায় নিয়ে আসা হলো।এখন মোটামুটি সুস্থ। বিকেলে রুমে সুয়ে আছি এমন সময় রাফি মিম আর আকাশ আসলো।

ওদেরকে দেখে অনেক ভালো লাগছে।

আকাশঃপাগলামি করছিলি কেন বল?

আমিঃ অনেক ডিপ্রেশনে ছিলাম রে।তথন মাঠা ঠিক ছিল না কি করবো।আচ্ছা ওসব কথা বাদ দে।এখন বল কেমন আছিস?

ওরা তিনজন একসাথে বলল ভালো আছি।

---তো রাফি শ্বশুর বাড়িতে কেমন খাচ্ছিস?

রাফিঃআর বলিস না।শ্বশুর বাড়িতে যাওয়ার সময় ই পাই না।

আকাশঃশালা মিথ্যা বলিস ক্যান?গত সপ্তাহে ও তিনদিন শ্বশুর বাড়ি ছিলি।

রাফিঃমনে ছিল না রে বলে হাসতে লাগল।
সবাই মিলে আরও আড্ডা দিলাম।ওরা রাতের খাবার খাইয়ে তবেই যেতে দিলাম।

অনেকদিন ভার্সিটিতে যাওয়া হয়না।আকাশ বলে গেল আর একমাস পর ফাইনাল পরিক্ষা। এতো পড়া কিভাবে শেষ করবো ভাবতেই মাথা গুলিয়ে যাচ্ছে।ধুর আজ আর পড়বো না।কাল থেকে পড়া শুরু করবো।😃😊

সকালে ভার্সিটি গেলাম।দেখি আকাশ রাফি আগেই চলে এসেছে।ওদের সাথে ক্লাসে গেলাম।এতোদিন পর আমাকে ক্লাসে দেখে সবাই অবাক হয়ে গেছে।

একজন বলল,"কিরে অনিক শুনলাম তুই নাকি কোন মাইয়াকে নিয়ে পালিয়ে গেছিলি?

আরেকজন বলল,"আরে মাইয়া নিয়ে পালাতে লাগছিল।পরে নাকি ধরে আচ্ছা মতো মাইর দিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করছিল।"

ওদের আজগুবি কথা শুনে মাথা গরম হয়ে গেল।ইচ্ছে হচ্ছে আবাল দুটোরে আচ্ছা মতো ক্যালানি দেই।আকাশ আর রাফি মনে হয় আমার মনের কথা বুঝতে পেরে বলল,"আরে চুপ কর আমরা ওদের বোঝাচ্ছি। "

---চুপ করবো মানে, শালারা আগামাথা না জেনে পুরো ক্লাসে আমাকে ক্যারেক্টারলেস বানিয়ে দিল।

রাফিঃআরে কুত্তা কামড় দিলে তাকেও কি কামড়াবি?

---আমি তো কুত্তা না যে কামড়াবো।

---তাহলে চুপচাপ থাক।

---তোদের জন্য ওরা বেঁচে গেল।নাহলে দুটাকে আজ দেখে নিতাম।

ক্লাসে স্যার এসেই আমাকে একবস্তা ঝাড়ি দিলো।এভাবে প্রতিক্লাসে আলাদা আলাদা স্যার এসে ঝাড়ি দিয়ে গেল।আমার ভার্সিটি লাইফে আজ কে সবচেয়ে বাজে দিন।এতো কথা জীবনেও শুনি নি।

ক্লাস শেষে ক্যান্টিনে এলাম।আকাশ বলল,"তোরা কি খাবি বল?"

---তিনজনের জন্য তিনকাপ কফি আন।

Green Bangla Romantic Love Story


আকাশ কফি আনতে গেল।একটু পর কফি আনলো।কফির মগে চুমুক দিয়ে বললাম,"অনেকদিন পর কফি খেলাম।"

রাফিঃতুই ছিলি না বলে আড্ডাও জমে নি।

আকাশঃশালা মিথ্যা বলিস কেন?ক্লাস শেষ হতে না হতেই চলে যাইতি।আড্ডা দিলি কখন?

---আরে তুই তো জানিস।অনিক তো জানে না।

আকাশঃ এসব কথা বাদ দে।এখন বল অনিক তোর বিয়ে কবে?

আরে আমার তো বিয়ে ঠিক হয়ে ছিল।মনেই নাই দেখছি।

রাফিঃকিরে কথা বল?

---আরে আমি কি করে বলবো?এতোদিন কি হয়েছে আমি জানি নাকি?

আকাশঃতবে যাই বলিস বিথী মেয়েটা মনে হয় তোকে সত্যি ভালোবাসে।

---ধুর ভালোবাসা না ছাই।ও এমনি অমন করে।আমি তিথীকে ছাড়া কেউকে বিয়ে করবো না।

আকাশঃ আমার যা ভালো মনে হয় তোকে বললাম। বাকিটা তোর ইচ্ছে।

---আচ্ছা তোরা কেউ তিথীকে দেখছিস?

রাফিঃওরে তো প্রায় দিন ই ভার্সিটিতে দেখি।

---আচ্ছা চল তো দেখে আসি।

রাফি আর আকাশকে নিয়ে তিথীদের ডিপার্টমেন্টে গেলাম।দেখি ক্লাস হচ্ছে। কিন্তু জানালা দিয়ে তিথীকে দেখতে পেলাম না।এজন্য চলে আসলাম।

আকাশ বলল,"আরেকটু আড্ডা দিয়ে তারপর যাই।কি বলিস?"
এরপর বসে তিনজন আড্ডা দিচ্ছি। এমন সময় দেখি তিথী একটা ছেলের বাইকের পিছনে বসে আছে।ছেলেটা আমাদের সামনে দিয়ে বাইক নিয়ে গেল।অথচ তিথী আমার দিকে তাকালো না।আমার খুব রাগ হলো।

আকাশরে বললাম,"ওই ছেলেটার সাথে তিথীর কি সম্পর্ক?

আকাশঃ তিনমাস ধরে ওই ছেলের সাথে তিথীর রিলেশন।

---আরে এটা হতেই পারে না।তিথী এমন মেয়েই না।

---প্রথমে আমাদেরও বিশ্বাস হয় নি।পরে ঠিকই বিশ্বাস হয়েছে।এখন তোর বিশ্বাস না হলে নিজে গিয়ে জিজ্ঞাসা কর।

আমি ওখান থেকে উঠে গিয়ে ওই ছেলের কাছে গিয়ে বললাম,"এই ছেলে তিথীর সাথে তেমার কি সম্পর্ক?"

ছেলেটিঃ আপনি শুনে কি করবেন?

---মাথা গরম করাবে না। যা বলছি তার উপর দাও।

---তিথী আমার গার্লফ্রেন্ড।

ছেলেটার কথা শুনে রাগ উঠে গেল।মেরে দিলাম ওর নাক বারাবর এক ঘুসি।ছেলেটা নাক ধরে বসে পড়লো।আমি ছেলেটাকে এলোপাতাড়ি লাথি দিয়েই যাচ্ছি।এমন সময় ঠাসসস ঠাসসস করে আমার গালে কে যেন থাপ্পড় দিলো।চোখ তুলে দেখি তিথী দাঁড়িয়ে....

#গল্প লিখতে লিখতে একটা গান মনে পরে গেলো।।। তাই তোমাদের সাথে শেয়ার করছি

(বন্ধু যখন বউ লোইয়া আমার বাড়ির সামনে দিয়া রংঙ্গ কইরা হায়টা যায় ও বুকটা ফাইটা যায় বুকটা ফাইটা যায়)

পর্বঃ১৮তম



সকালে আম্মু আমাকে ডাকতে লাগল।কিন্তু আজকে কোনো নড়াচড়া না দেখে আমার কপালে হাত দিলো।দেখে কপাল ঠান্ডা হয়ে গেছে।কিছুক্ষণ ধাক্কা দিয়েও আমাকে তুলতে পারলো না।
হঠাৎ আম্মুর চোখ পড়লো টেবিলের উপর।দেখে প্রায় দু পাতার ১৫ টা ঘুমের ট্যাবলেট নেই।অনিক তো কখনও ঘুমের ওষুধ খায় না।নাকি ঘুমের ট্যাবলেট খেয়ে সুইসাইড করলো?এটা ভেবেই আম্মু একটা চিৎকার দিলো।

আম্মুর চিৎকার শুনে আব্বু ছুটে এল।

আব্বুঃ অনিকের আম্মু কান্না করছো কেন?

আম্মুঃদেখো আমার ছেলেটার কি হয়েছে।ও উঠছে না কেন?ওর কিছু হলে আমি বাঁচবো না।

আব্বুঃ তোমার ছেলে এতো ঘুমের ওষুধ খাইছে কেন?

আম্মুঃআমি কি করে বলবো?বেশি কথা না বলে এম্বুলেন্স ডাকো।ছেলেকে হাসপাতালে নিতে হবে।

কিছুক্ষণ পর এম্বুলেন্স এলো।এম্বুলেন্সের শব্দ শুনে বিথী তিথী ওর আব্বু আম্মু সবাই নিচে নেমে আসলো।

বিথীঃআন্টি আমার অনিকের কি হয়েছে?এমনভাবে আছে কেন?

আম্মুঃজানিনা মা,ওর রুমে খালি ঘুমের ওষুধের প্যাকেট পেয়েছি।মনে রাতে ওগুলো খেয়েছে।

---এখানে না কথা বলে তারাতাড়ি ডাক্তারের কাছে নিয়ে চলুন।(এম্বুলেন্স চালক বলল))

বিথী মনে মনে ভাবতে লাগলো আমি অনিককে অনেক প্রেশার দিছি।যার জন্য ওর আজ এ অবস্থা।অনিকের কিছু হলে আমি নিজেকে ক্ষমা করতে পারবো না।

তিথী ভাবতে লাগল কি হয়ে গেল।অনিককে এতো চাপ দেওয়া ঠিক হয়নি।এখন ও যদি মারা যায়। তাহলে পুলিশ এসে আমাকেও জিজ্ঞাসাবাদ করবে।যদি কোনোভাবে জানতে পারে আমি বিয়ের জন্য চাপ দিছি তাহলে আমাকে জেলে যেতে হবে।🐸

এদিকে আমাকে এম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে নিয়ে আসা হলো।ডাক্তার এসে বলল,"কি হয়েছে এনার।"

Green Bangla Story


আব্বুঃঅনেকগুলো ঘুমের ওষুধ খেয়েছে। প্লিজ ডাক্তার সাহেব আমার ছেলেকে বাঁচান। "

ডাক্তারঃদেখুন বাঁচা মরা সব আল্লাহর হাতে।আমরা তো শুধু মাধ্যম। আল্লাহর কাছে দোয়া করুন।নার্স দ্রুত এনাকে ওটি তে নিয়ে যান।

নার্স এসে আমাকে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে গেল।

ডাক্তার বলল,"আপনারা চিন্তা করবেন না।আমরা আমাদের সাধ্যমতো চেষ্টা করবো।"

অপারেশন থিয়েটারের সামনে বসে আম্মু কেঁদে ই চলেছে।বিথী এসে আম্মু কে সান্ত্বনা দিতে লাগল।

বিথীঃ আন্টি এভাবে কাঁদবেন না।আল্লাহ নিশ্চয়ই আবার অনিককে আমাদের মাঝে ফিরিয়ে দিবে।

আম্মুঃ মা রে আমার একটাই ছেলে ওর কিছু হলে আমি কি নিয়ে বাঁচবো। আমার অনিককে ছাড়া কিছুই কল্পনা করতে পারি না।

----আন্টি নিজেকে শক্ত করুন।এখনও তো আশা শেষ হয়ে যায় নি।

প্রায় এক ঘন্টা পর ডাক্তার বের হয়ে আসলো।ডাক্তার কে দেখে আম্মু আব্বু বিথী দৌড়ে গেল।

আম্মুঃ আমার ছেলের কি অবস্থা? ওর জ্ঞান ফিরছে কি?

ডাক্তারঃ দেখুন আমাদের যা করার দরকার করেছি।কিন্তু...

আব্বুঃকিন্তু কি ডাক্তার!

ডাক্তারঃদেখুন অনেকগুলো ঘুমের ট্যাবলেট খাওয়ার জন্য আপনার ছেলে প্রায় মারা যাচ্ছিল।একটু দেরী হলে ওকে বাঁচাতে পারতাম না।।কিন্তু এখন সমস্যা হলো আপনারা রোগী কে আনতে অনেকটা দেরী করে ফেলেছেন। এজন্য ওর জ্ঞান কখন ফিরবে সেটা বলতে পারছি না।এখন আপনাদের ছেলে কমায় আছে।

বিথীঃকমা থেকে বের হবে কবে?

ডাক্তারঃ সেটা দুদিনের ভেতর ও হতে পারে।আবার দুমাস বা বছর ও লাগতে পারে।আবার জ্ঞান নাও ফিরতে পারে।এখন আল্লাহর কাছে ডাকুন।আমাদের আর কিছু করার নাই।

আম্মুঃ আমার ছেলেকে কি দেখতে পারি?

ডাক্তারঃ একটু পর রোগী কে কেবিনে শিফট করা হবে।তখন দেখতে পাবেন। আপাততঃ অপেক্ষা করুন।

ডাক্তার চলে গেল।আম্মু বিথীকে জড়িয়ে ধরে কান্না করতে লাগল।বিথীর আম্মু আব্বু হসপিটালের আসলো।
এসে বলল,"এখন কেমন আছে?"

আব্বু ওনাদের সব খুলে বলল।বিথীর আব্বু বলল,"চিন্তা করবেন না।আমার বিশ্বাস শীঘ্রই অনিক আমাদের মাঝে ফিরে আসবে।"

একটু পর আমাকে কেবিনে সিফট করা হলো।

আম্মু এসে আমাকে জড়িয়ে ধরে কান্না করতে লাগলো।নার্স বলল এভাবে রোগীর সামনে কান্না করবেন না।

আন্টি আম্মুকে ধরে পাশের চেয়ারে বসালো।

তিথী এসে দড়জায় সামনে দাড়ালো।তিথীর আম্মু তিথীকে সবকিছু খুলে বলল।
তিথী ভেবেছিল অনিক হয়তো মারা গেছে।কিন্তু যখন দেখলো বেঁচে আছে তাহলে আর চিন্তার কারণ নাই।

এক মাস চলে গেল তাও আমার জ্ঞান ফিরলো না।আম্মু প্রতিদিন ই আমার জন্য কাঁদে। আব্বু তো শুকিয়ে গেছে।বিথী প্রতিদিন ই আসে আমাকে দেখতে।অনেক্ক্ষণ থেকে চলে যায়।

এভাবে আরও তিন মাস কেটে গেল।তিথী আর তেমন আসে না।কিন্তু বিথী প্রতিদিন ই আসে।হঠাৎ একদিন আমার জ্ঞান ফিরে যায়।চোখ খুলে দেখি আম্মু বসে আছে।আম্মু রেগা হয়ে গেছে।চোখের নিচে কালো দাগ পড়ে গেছে।

আমার চোখ খোলা দেখে আম্মু খুশিতে আমাকে জড়িয়ে ধরে কান্না শুরু করে দিলো।

---আম্মু এভাবে কান্না করছো কেন?আর আমি এখানে কেন?

---তুই আমাকে ছেড়ে চলে যেতে লাগছিলি কেন?যানিস না তোকে ছাড়া আমি বাচবো না রে বাবা।

ডাক্তার এসে বলল,"এভাবে রোগীর সামনে কান্না করবেন না।আর আপাততঃ এখন রেগীকে রেষ্ট নিতে দিন।"

আমিঃআম্মুকে আমার কাছে থাকতে দিন।

---আচ্ছা থাকতে পারবে।তবে বেশি কথা বলবে না।

---আচ্ছা।

এদিকে আম্মু ফোন করে আব্বু কে খবরটা দিলো।কিছুক্ষণ পর আব্বু এলো।এসেই আমাকে জড়িয়ে ধরলো।

---আব্বু ছাড়ো,আমার লাগছে তো।

---লাগুক।আমাদের ছেড়ে চলে যেতে চাইছিলি কেন বল?

---আমি নিশ্চুপ হয়ে গেলাম।কারণটা বলা যাবে যাবে না।

---ওই চুপ কেন বল?

---আসলে আব্বু ঘুম আসছিল না তাই খেয়েছিলাম।

---তাই বলে ওতোগুলো একসাথে খাবি।

---ভুল হয়েছে।আর এমন হবে না।

মনটা তিথীকে দেখার জন্য আনচান করছে।কখন যে আসবে।

গল্পঃ বাড়িওয়ালির মেয়ে

পর্বঃ১৭তম

লেখকঃ--নিলয়

১৬তম পর্বের পর থেকে.......

বিয়ের শপিং শেষে চারজনে একটা রেস্টুরেন্ট এ ঢুকলাম।তিথী আমার সামনের চেয়ারে বসেছে আর বিথী পাশের চেয়ারে।তিথী বার বার আমার দিকে তাকাচ্ছে। ওর চাহনিতে মনে হচ্ছে আমাকে অনেককিছু বলতে চায়।কিন্তু এখানে কোনো কথা বলা সম্ভব না।কারণ বিথী জানে তিথী আমাকে ভালোবাসে।কিন্তু এটা জানে না আমি কাকে ভালোবাসি। আমি আর ভাবতে পারছি না।মাথাটা কেমন ঝিমঝিম করে উঠলো।আমি ওদেরকে বললাম,"তোমরা খাবারের অর্ডার করো।আমি ওয়াশরুম থেকে আসি।"

ওয়াশরুমে এসে চোখে মুখে পানির ঝাপটা দিলাম।এখন ভালো লাগছে।ওয়াশরুম থেকে বের হয়ে আসলাম।এরপর খেয়ে বাসায় চলে আসি।

বিকেলে ফোনে গেম খেলছি।এমন সময় তিথী কল করলো।আজকে শপিংমলে ওরে দেখেই বুঝেছি আমাকে কিছু বলতে চায়।কিন্তু বিথী সাথে থাকায় কিছু বলেনি।

ভাবতে ভাবতে প্রথমবার কল কেটে গেল।তিথী আবার কল করলো।

এবার কল রিসিভ করলাম।

তিথীঃ হ্যালো।

আমিঃ হুম, কেমন আছো?

---দেখতেই পাচ্ছো কেমন আছি।আবার জিজ্ঞাসা করা লাগে নাকি?

---না বললে জানবো কিভাবে?

---ওসব কথা বাদ দাও যেজন্য তোমাকে ফোন করছিলাম?

---কিজন্য বলো?

---এখন আমার সাথে কি একটু দেখা করতে পারবা?

---কোথায়

---বাসার ছাদে

---আচ্ছা 10 মিনিট পর আসতেছি

আর কিছুক্ষণ পর আমি ছাদে যাই। দেখি তিথী দাঁড়িয়ে আছে।ওকে দেখে মনে হচ্ছে অনেক টেনশনে আছে।

---ম্যাডাম এতো জরুরী তলব কেন?

---ফাজলামি করবে না।অনেক টেনশনে আছি।

---টেনশনে তো আমার থাকার কথা।তুমি টেনশনে থাকবে ক্যান?

---আব্বু আমার বিয়ে ঠিক করেছে।শুক্রবারে একসাথে দু বোনের বিয়ে হবে।

---বিয়ে ঠিক করছে।বিয়ে করবা।এতে সমস্যা কোথায়?

---ভাবছিলাম তোমাকে ভুলে যেতে পারবো।কিন্তু দিন যতো যাচ্ছে তোমার প্রতি আমার ভালোবাসা বেড়েই যাচ্ছে। এখন তোমাকে ছাড়া আমি কাউকে কল্পনা করতে পারবো না।

---বললেই হয়ে গেল নাকি।

---দেখো অনিক মানছি আমি ভুল করছি।কিন্তু আমাকে ক্ষমা করে কি ফিরিয়ে নেওয়া যায় না?

---তিন দিন পর তোমার ছোট বোনের সাথে আমার বিয়ে।আর এখন এসে আমাকে এসব বলছো।তোমার মাথা ঠিক আছে?

তিথী কান্না শুরু করলো।ধমক দিয়ে কান্না থামাতে বললাম।কিন্তু আরও জোরে কান্না শুরু করে আমাকে এসে জড়িয়ে ধরলো।

---এই কি করছো?কেউ দেখে ফেললে মান সম্মান সব যাবে।

---কেউ দেখলে দেখুক। আমি তোমাকে ভালোবাসি। আর সেই ভালোবাসার অধিকারে জড়িয়ে ধরেছি।

---এই কথাটা দুদিন আগে বলোনি কেন বলো?

তিথী কোনো উওর দিলো না।শুধু আরও শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো।

কিছুক্ষণ পর,
তিথীঃ এই অনিক চলো আমরা দুজনে পালিয়ে যাই।তাহলে সব সমস্যা সমাধান হয়ে গেল।

---দেখো তিথী পালিয়ে গিয়ে সব সমস্যার সমাধান হয় না।তুমি আমি পালালে আমাদের পরিবারের কি হবে ভেবে দেখেছো?উনাদের মান সম্মানের কথাটা একবার ভাবো।এতোদিন ধরে বড় করার প্রতিদান এভাবে দিবে?

---আমি এতো কিছু বুঝি না।তোমাকে ছাড়া আমি বাঁচবো না।

---তুমি আমাকে ভালোবাসো।তোমার বোন বিথী ও তোমার মতোই আমাকে ভালোবাসে।বলো এখন আমি কোনদিকে যাবো?

---তুমি তো আমাকে ভালোবাসো।তাহলে বিথীর কথা বলছো কেন?

---বিথীর  সাথে দুদিন পর বিয়ে।এখন ওকে ছেড়ে তোমাকে বিয়ে করলে ওর কি অবস্থা হবে একবার ভেবে দেখছো?

---বিথীর প্রতি ভালোবাসা দেখছি উতলে পড়ছে।আমিও বলে দিলাম, আমাকে ছাড়া ওই ডাইনীকে বিয়ে করলে এই জীবন রাখবো রাখবো না। এই বলে বিথী চলে গেল।
Green Bangla Romantic Love Story


এই আমার কি করা উচিত? অনেক ভেবে কোনো কূলকিনারা পেলাম না।

ছাদ থেকে নামার সময় বিথীর সাথে দেখা।অমনি বিথী আমার হাত চেপে ধরলো।

---এই করছো কি?তোমার আব্বু আম্মু দেখলে কি মনে করবে?

----আমি আমার হবু বরের হাত ধরেছি।কে কি বলবে শুনি?
দেখি তিথী দূরে দাঁড়িয়ে এসব দেখছে আর রাগে ফুঁসছে।

---এখন ছাড়ো। যা করার বিয়ের পর করো।

---এসব বলে মাফ পাবেন না।আজকে কিন্তু আবার ঘুরতে যাবো।যান গিয়ে রেডি হন।

---হাত না ছাড়লে রেডি হবো কিভাবে?

হাত ছাড়ছি,তবে একটু মাথাটা নিচু করুন।

---হাত ছাড়ার সাথে মাথা নিচু করার কি সম্পর্ক শুনও?

---আপনাকে একটা সিক্রেট কথা বলবো।জোরেই বলতাম।কিন্তু আশেপাশে মানুষ আছে।শুনে ফেলবে।এজন্য  তারাতাড়ি মাথাটা নিচু করুন।

বিথীর কথা শুনে তিথী রেগে লাল হয়ে গেছে।আর মনে মনে বলছে শয়তান আমাকে দেখিয়ে দেখিয়ে রোমান্স করার মজা বুঝাবো।অনিক শুধু আমার।আর আমার না হলে কাউকেও হতে দিবো না।

আমি বিথীর কথা মতো মাথাটা নিচু করতেই বিথী গালে একটা চুমা দিয়ে দিলো দৌড়।

তিথী দাঁড়িয়ে এসব দেখে রাগে সহ্য করতে না পেরে চলে গেল।

মনে হচ্ছে আমি এখন দুই নৌকায় দু পা দিয়ে দড়িয়ে আছি।একটু পর আমার কি হবে ভাবতেই পারছি না।

আপাতত রুমে যাওয়া যাক।

রুমে এসে শুয়ে পড়লাম।মাথা কাজ করছে না।এতো প্যারার চেয়ে মরে যাওয়া ভালো।

আম্মু এসে বলল,"তোরে এমন মন মরা লাগছে ক্যান?"

---আসলে আম্মু শপিং করেছি তো।তাই হয়তো এমন লাগছে।

---আচ্ছা তাহলে রেষ্ট নে।পরে তোর সাথে কথা বলবো।

---আচ্ছা আম্মু।

বিকেলে বিথীর সাথে পার্কে ঘুরতে গেলাম।
কিছুক্ষন ঘুরাঘুরির পর  বিথী বলল,"আপনার সাথে আমার গুরুত্বপূর্ণ কথা আছে?"

---তাহলে চলো কোথাও বসে কথা বলি।

---সামনে একটা সুন্দর জায়গা আছে।ওখানে বসে কথা বলি।

আসলে জায়গা টা সুন্দর। আশেপাশে ফুলের গাছ।আর ওখানে বসার জন্য উঁচু করে ইট দিয়ে গেঁথে তোলা হইছে।দুজনে বসলাম।

---কি জরুরি কথা বলবা বলো?

---আপুর সাথে আপনার কিসের সম্পর্ক?

---বিথী হঠাৎ এমন প্রশ্ন করছো কেন?

---যা বলছি তার উওর দেন।

---কই,কিছুর না তো।

---আপনার চোখ বলছে আপনি মিথ্যা বলছেন।

---চোখ কথা বলে নাকি আজব।

---দেখুন আমি ঘুরিয়ে পেচিয়ে কথা বলতে পছন্দ করি না।ছাঁদে আপনার আর আপুর সব কথা আমি শুনেছি।

---শুনছো যখন তাহলে জিজ্ঞাসা করছো কেন?

---এই কয়েকদিনে আপনাকে অনেক ভালোবেসে ফেলেছি।কিন্তু ভয় হয় যদি আপুর সাথে পালিয়ে যান।

বিথীর কথার কি উওর দিবো ভেবে পেলাম না।মেয়েটা সত্যি আমাকে ভালোবাসে।ওরে ধোঁকা দিলে সইতে পারবে না।অপরদিকে তিথীও আমাকে ভালোবাসে।আমিও তিথীকে ভালোবাসি।তিথীও বলেছে আমাকে না পেলে বাঁচবে না।

---কি হলো কথা বলেছেন না কেন?নাকি আপুকে নিয়ে পালানোর প্ল্যান করছেন?

---বিথী চুপ থাকো।

---হবু বরের গার্লফ্রেন্ড আমার আপন বড় বোন।এখন তারা পালানোর জন্য প্ল্যান করছে।এমন অবস্থায় আমি চুপ থাকবো কিভাবে বলেন।

---তুমি বলো আমি এখন কি করবো?তোমাকে বিয়ে করবো নাকি তোমার বোনকে?বলো?একবার আমার অবস্থানে এসে ভেবে দেখো আমি কতটা টেনশনে আছি।আচ্ছা দেশে আর কোনো ছেলে ছিলো না বলো?

---আমি জানতাম আপু আপনাকে ভালোবাসে।জানলে তো আর এই ভুল করতাম না।যতদিনে জানছি ততদিনে অনেক দেরী হয়ে গেছে।এই মনটা এখন আপনার কথাই ভাবে।আপনাকে ছাড়া কোনোকিছু ভাবতে পারি না।মনে হয় আপনি আমার সব।

---তোমরা দুই বোন আমাকে কেটে দু ভাগ করে নাও।তাহলে ঝামেলা মিটে গেল।

---আমি এতোকিছু বুঝি না।আপনি শুধু আমার। আর  আপুকে নিয়ে পালানোর কথা ভাবলে আমার লাশের উপর দিয়ে যেতে হবে।এখন ডিসিশন আপনার।যেটা ইচ্ছে করেন।আমি বাসায় গেলাম।

বিথী চলে গেল।আমি বসে ভাবতে লাগলাম।কিন্তু কাকে রেখে কাকে বিয়ে করবো কোনো ঠিক করতে পারলাম না।

এমনিতেই টেনশনে দুদিন ধরে ঘুম হচ্ছে না।বাজার থেকে এক দু পাতা ঘুমের ট্যাবলেট কিনে বাসায় আসলাম।

রাত প্রায় দুটা, আমার চোখে কোনো ঘুম নেই।ঘুম আসবেই বা কিভাবে?দু বোনের হুমকিতে ঘুম পালিয়েছে।কিন্তু না ঘুমালে তো শরীর থারাপ হয়ে যাবে।এজন্য অনেকগুলো ট্যাবলেট খেয়ে শুয়ে পড়লাম।চোখের পাতা ভারী হয়ে আসছে।মনে হচ্ছে কোনো অতলে হারিয়ে যাচ্ছি। এরপরে আর কিছু মনে নাই।

সকালে আম্মু আমাকে ডাকতে লাগল।কিন্তু আজকে কোনো নড়াচড়া না দেখে আমার কপালে হাত দিলো।দেখে কপাল ঠান্ডা হয়ে গেছে।কিছুক্ষণ ধাক্কা দিয়েও আমাকে তুলতে পারলো না।
হঠাৎ আম্মুর চোখ পড়লো টেবিলের উপর।দেখে প্রায় দু পাতার ১৫ টা ঘুমের ট্যাবলেট নেই।অনিক তো কখনও ঘুমের ওষুধ খায় না।নাকি ঘুমের ট্যাবলেট খেয়ে সুইসাইড করলো?এটা ভেবেই আম্মু একটা চিৎকার দিলো.....

পর্বঃ১৬তম



---বিথী বলল,"সামনে একটা সুন্দর জায়গা আছে।ওখানে চলেন না প্লিজ।"

বিথীর আবদার ফেলতে পারলাম না।যেতে লাগলাম ওর সাথে। এদিকে সন্ধ্যা হয়ে আসছে।

আচমকা বিথী উফফ মাগো বলে বসে পড়লো।

---ওই এখানে বসলে কেন?

---দেখতে পাচ্ছেন না আমি পায়ে ব্যাথা পাইছি।উফফ কি ব্যাথা! আমি এখন কিভাবে যাবো?উহুহুহু।

---সামান্য ব্যাথা পেলে এভাবে কেউ কান্না করে নাকি?

---ব্যাথা আমার লেগেছে,আমি বুঝতেছি।আপনি তো আর আমার ব্যাথা বুঝবেন না।

বিথী ওঠে দাড়াতে চেষ্টা করলো কিন্তু পারলো না।কি বিপদে পড়লাম।একে এখন নেই কিভাবে?রিকশাও পাওয়া যাবে না।রাস্তা থেকে ১০ মিনিটের মতো হেঁটে আসছি।

---এখন আমি এখান থেকে যাবো কিভাবে?((বিথী))

---চোখ কোথায় রেখে হাঁটতেছিলে হু?((আমি))

---চোখ চোখের যায়গায় ছিল।কিন্তু রাস্তা দেখা বাদ দিয়ে অন্য কিছু দেখছিলাম।((তোমাকে দেখছিলাম কিন্তু তুমি তো আমাকে বুঝতেই চাও না))

---বিরবির করে কি বলছো?

--কই কিছু না তো।

আমি বিথীর হাত ধরে বললাম,"এবার উঠার চেষ্টা করো।"

বিথী আস্তে আস্তে উঠে দাঁড়িয়ে বলল,"উফফফ অনেক ব্যাথা করছে।দাঁড়িয়ে থাকতে পারছি না।কিছু একটা করুন।"
Green Bangla Romantic Love Story

---আজব আমি কি করবো?

---কি করবেন মানে আমাকে কোলে করে নিয়ে চলেন।

--- আমি কেন কোলে নিবো?

---আমি আপনার সাথে এসেছি।সো আমার কিছু হলে আপনি দেখবেন তাই না।

ধুর যাকে ভালোবাসি তাকে কোলে নিতে পারলাম না।আর একে কোলে নিতে হবে।ভাবা যায় এসব?

---ওই কোলে নিবেন নাকি আমি চেচামেচি করে লোকজন জড়ো করবো?

মাইয়া বলে কি?বলা যায় না।সত্যি সত্যি লোকজন জড়ো করতে পারে।এরচেয়ে কোলে করে নেওয়াই ভালো।তাই আর কিছু না ভেবে বিথীকে কোলে নিলাম।

বিথী আমার গলা জড়িয়ে ধরে আমার দিকে তাকিয়ে আছে।

---ওই আমার দিকে এভাবে বেহায়ার মতো তাকিয়ে আছো ক্যান?লজ্জা করে না তোমার?

--- বরের দিকে তাকাবো না তো কার দিকে তাকাবো?

----ওই আমি তোমার এখনও বর হইনি।

---হননি তো কি হইছে।কয়েকদিন পর তো হবেন।

---চুপচাপ থাকো।নাহলে এখানে ফেলে চলে যাবো।

বিথী চুপ করে রইলো।এভাবে তিথীকে কোলে না নিয়ে ওর শয়তান ছোট বোন কে কোলে নিতে হচ্ছে। আমার কপালে তিথী কি আছে?নাকি এই আপদটা ই গলায় এভাবে ঝুলে থাকবে?

একটু পর রাস্তায় চলে আসলাম।এরপরে একটা রিকশা ঠিক করে বাসার দিকে আসতে লাগলাম।সারা রাস্তা বিথীর প্যাচালে কান ঝালা পোড়া হয়ে গেছে।যদি এর সাথে বিয়ে হয় তাহলে আমার জীবনটা নরক বানিয়ে দিবে।

যাক বাঁচা গেল। অবশেষে বাসায় চলে আসলাম।

বাসায় আসতেই আম্মু আব্বু বলল,"কালকে তোর বিয়ের শপিং করতে হবে।"

---কি আজব,বিয়ের দিন ঠিক হবার পরই শপিং। আমি এসব শপিং করতে পারবো না।

---কি বললি!আরেকবার বল তো।((ধমক দিয়ে আব্বু বলল))

ছোটবেলায় আব্বুর কথা একবার শুনছিলাম না বলে লাঠি নিয়ে সে কি দৌড়ানি দিছিলো।এখন যদি আবার অমন করে মান সম্মানের ছিটেফোঁটা থাকবে না।কি কাজ আছে শপিং করাই ভালো।এজন্য আব্বু কে বললাম,"কিছু না আব্বু, কালই শপিং করে আনবো।"

---এইতো গুড বয়।

রুমে এসে শুয়ে পড়লাম।

ওদিকে তিথীর আব্বু তিথীকে ডাকলো।

তিথীঃ আব্বু কিছু বলবে?

তিথীর আব্বুঃ আমি ঠিক করেছি বিথীর বিয়ের দিন তোর ও বিয়ে দিবো।

তিথী মনে মনে ভাবলো আমার আবার কার সাথে বিয়ে দিবে?এমনিতেই অনিককে হারাচ্ছি আবার আরেকজনের সাথে বিয়ে দিবে।

----আমার বন্ধু রফিক কে তো চিনিস।ওর ছেলে রাফাতের সাথে তোর বিয়ে।

তিথীঃ আব্বু আমি এ বিয়ে করতে পারবো না।

---কেন?ছেলের নিজের বিজনেস আছে।দেখতে সুন্দর। তোকে সুখেই রাখবে।এর চেয়ে কি চাই বল?

তিথীঃ আব্বু আমি এখন বিয়ে করতে প্রস্তুত না।

---বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে।এখন বিয়ে ভেঙ্গে দেওয়ার কোনো মানে হয় না।আর আমি কথা দিয়েছি আমার কথার একটা মূল্য আছে।

---তাই বলে সেটার বলি আমাকে কেন হতে হবে?

---তুই ছাড়া আর কোনো মেয়ে আছে বল?

---আমি এখন বিয়ে করতে পারবো না।আর যদি জোর করো তাহলে আমাকে আর পাবে না বলে দিলাম।

তিথীর আব্বু চিন্তায় পরে গেল।এখন কি করে বন্ধু কে বলবে এই কথা?আবার বড় মেয়ের বিয়ে আগে না হয়ে ছোট টার আগে হলে লোকজন নানান কথা বলবে।হুট করে এভাবে বিয়ে ঠিক করা টা ভুল হইছে।তবে এখনও সবাইকে দাওয়াত করা হয়নি।আপাতত বিয়েটা ঘরোয়া ভাবে দিলেই ভালো হবে।কিন্তু অনিকের আব্বু আম্মু কি মেনে নিবে?বুঝিয়ে বললে অবশ্যই মানবে।দেরি করলে আবার দাওয়াত করে ফেলবে।এখনি কথা বলা উচিত।

আম্মুঃ রাতে আবার কে কলিং বেল বাজায়?বলে দড়জা খুললো।দেখে বিথীর আব্বু দাঁড়িয়ে। আরে বেয়াই সাহেব দাঁড়িয়ে কেন ভেতরে আসুন।

তিথীর আব্বু ভেতরে এসে সোফায় বসলো।

তিথীর আব্বুঃ অনিকের আব্বু কি বাসায় আছে?আসলে কিছু কথা আছে।

আম্মুঃ আছে।একটু দেরী করেন। আমি ডেকে আনছি।

আম্মু একটু পর আব্বু কে সঙ্গে করে আনলো।

তিথীর আব্বুঃ আসলে কথাটা কি করে বলি?

আব্বুঃএতো ভাবাভাবির কি আছে?বলে ফেলুন।

তিথীর আব্বু সবকিছু খুলে বলল।এরপর বলল,"এখন আপাতত অনিক আর বিথীর বিয়েটা ঘরোয়া ভাবে দিতে চাচ্ছি যদি আপনাদের কোনো সমস্যা না থাকে।

আব্বু একটু ভাবলো।ভেবে বলল,"এখন এসে ভালোই করছেন।নাহলে কালকেই আমার সব আত্মীয় স্বজনদের দাওয়াত দিতাম।"

তিথীর আব্বুঃ তাহলে বিয়েটা ঘরোয়া ভাবেই হচ্ছে।

আব্বুঃ আচ্ছা তাই হবে।

তিথীর আব্বুঃ ধন্যবাদ ভাইজান আমাকে অনেক বড় বিপদ থেকে রক্ষা করলেন।

আব্বুঃ আপনার সমস্যা টা আমি বুঝছি।এজন্য আমার যা করা দরকার তাই করলাম।এজন্য এতো ধন্যবাদ দিতে হবে না।

তিথীর আব্বুঃ আচ্ছা ভাইজান তাহলে আমি আসি।

সকালে ঘুম থেকে উঠে বারান্দায় দাঁড়িয়ে আছি।এমন সময় বিথী কল করলো।

---হ্যালো..(আমি)

---এই মিস্টার আপনার ঘুম ভাঙছে? ((বিথী))

---হ্যাঁ,কিছু বলবা?

---হুমমম,বলার জন্য তো কল করছি।

---বলো কি বলবা?

---আজকে তো বিয়ের শপিং এ যেতে হবে।

---এটা তো আমিও জানি।এটা ফোন করে বলার কি দরকার?

---এভাবে কথা বলছেন কেন?

---তো কিভাবে বলবো?ধুর সকাল সকাল মুড খারাপ করে দিলো বলে কল কেটে দিলাম।

বিথী মনে মনে বলল,"মিস্টার অনিক এখন যতোই রাগ দেখাও বিয়ের পর আমার কথাই শুনতে হবে।"

তিথীঃওই বিরবির করে কি বলিস?

বিথীঃ আপু ওসব তুমি বুঝবে না।

তিথীঃ কি যে বুঝিস সেটা আমার ভালো করেই জানা আছে।

বিথীঃ আপু ওসব কথা বাদ দাও।আজকে আমার বিয়ের শপিং করতে হবে।তুমি কিন্তু আমার সাথে অবশ্যই  যাবে।

তিথীঃঅনিকের সামনে গেলে নিজের মনকে আটকাতে পারি না।এজন্য ওর থেকে দূরে থাকতে চাই।ওকে ভুলতে চাই।শুধু তোর জন্য। কিন্তু এগুলো কখনও তুই জানতে পারবি না।((মনে মনে বলল))

বিথীঃকি হলো আপু বলো যাবে?

তিথীঃ না রে।আমার একটা কাজ আছে।এজন্য যেতে পারবো না।তুই তোর কোনো বান্ধবী কে সাথে করে নিয়ে যা।

বিথীঃ তুমি আমার সাথে না গেলে আমিও শপিং এ যাবো না বললাম।

তিথীঃ লক্ষী বোন আমার রাগ করে না।বোঝার চেষ্টা কর।আমার কাজ না থাকলে অবশ্যই যেতাম।

বিথীঃ আমার চেয়ে তোমার কাজ বেশী জরুরি হয়ে গেল?থাকো তোমার কাজ নিয়ে।আমি ও যাবো না শপিং এ।বলে চলে গেল।

তিথী ভাবতে লাগল এখন কি করি।আমি না গেলে ও সত্যি সত্যি শপিং এ যাবে না।অনেকক্ষণ ভেবে কোনো উপায় পেল না।শেষমেশ ভাবলো নাহয় যাবে শপিং এ।কিন্তু অনিকের থেকে দূরে থাকবে।

সকাল দশটা।আম্মু আমাকে বলল,"রেডি হতে এতো সময় লাগে নাকি?"

---আম্মু আর দশ মিনিট ওয়েট করো।আসছি।

তারাতাড়ি রেডি হয়ে বাহিরে রুমের বাহিরে আসলাম।

আকাশকে কল করছিলাম আমার সাথে যাওয়ায় জন্য।কিন্তু শালা এখনও আসে নি।

একটু পর আকাশ চলে আসলো।

শপিং এ যাবো আমি বিথী আকাশ আর তিথী।

শপিং এ যসওয়ার জন্য বিথীর আব্বু কার রেখে গেছে।আমি আর আকাশ সামনে বসলাম।আকাশ ড্রাইভিং সিটে আমি পাশের টায়।আর তিথী বিথী পেছনে।তিথী সাথে আসাতে আনইজি ফিল করতে লাগলাম।

কারের মাঝখানের গ্লাসের দিকে তাকিয়ে তিথীকে দেখলাম।ওর চোখ জোড়া ফোলা ফোলা লাগছে।মনে হয় রাতে অনেক কান্না করছে।আমার বিয়ের দিনই ওর ও বিয়ে হবে।বিয়ের দিন যত ঘনিয়ে আসছে ততই তিথীকে দূরে হারিয়ে ফেলছি।এদিকে বিথীও আমাকে ভালোবাসে।কিন্তু আমার তো মন  তো তিথীকে চায়।তিথীকে ছাড়া কিছু বোঝে না।

কার এসে থামলো সিটি শপিংমলের সামনে।এক এক করে সবাই কার থেকে নেমে শপিংমলের ভিতরে গেলাম।

আকাশঃ আগে কনের শপিং করি।পরে বরের শপিং করা যাবে।

এক দোকানে ঢুকে কনের শাড়ি দেখতে লাগল।বিথী একের পর একটা শাড়ি দেখে যাচ্ছে। অনেক শাড়ি দেখে একটা লাল বেনারসি পছন্দ করলো।শাড়িটা তিথীকে দেখিয়ে বলল,"আপু দেখ শাড়িটায় আমাকে সুন্দর মানাবে না?

তিথী মাথা নাড়ালো।

আমি তিথীর দিকে তাকালাম। ওর চোখ ছলছল করছে।মনে হচ্ছে এখনি কান্না শুরু করবে।

তিথীর এমন অবস্থা দেখে আমার বুকটা কেঁপে উঠলো।মেয়েটা আমাকে অনেক ভালোবাসে।আমি তো ওকে নিজের চেয়ে বেশি ভালোবাসি।কিন্তু আমার ভাগ্যে মনে হয় তিথী নাই।

বিথীর শপিং শেষ হলে আমার জন্য শপিং করি।

শপিং শেষ করতে করতে ২ টা বেজে গেল।আমি বললাম, "চলো সবাই,দুপুরে কিছু খাওয়া যাক।"

চারজনে একটা রেস্টুরেন্ট এ ঢুকলাম।তিথী আমার সামনের চেয়ারে বসেছে আর বিথী পাশের চেয়ারে।তিথী বার বার আমার দিকে তাকাচ্ছে। ওর চাহনিতে মনে হচ্ছে আমাকে অনেককিছু বলতে চায়।কিন্তু এখানে কোনো কথা বলা সম্ভব না।কারণ বিথী জানে তিথী আমাকে ভালোবাসে।কিন্তু এটা জানে না আমি কাকে ভালোবাসি। আমি আর ভাবতে পারছি না।মাথাটা কেমন ঝিমঝিম করে উঠলো।

পর্বঃ১৫তম



আমি বললাম,"তিথী তুমি আমাকে এমন রিকুয়েষ্ট করতে পারো না যে যেটা করতে লাগলে নিজের ভালোবাসা হারাতে হবে।আমি এমন রিকুয়েষ্ট রাখতে পারবো না।

তিথীর কান্না বেড়েই চলেছে।আচমকা তিথী আমাকে জড়িয়ে ধরে আরও কান্না করতে লাগলো।

আমি বললাম,"এই পাগলি এভাবে কান্না করো না।আমি তো আছি।

---কান্না করবো না তো কি করবো বলো?নিজের ভালোবাসার মানুষ ছোটবোনের বর হবে। এর চেয়ে কষ্ট কি হয় বলো?

---তুমি আমাকে ভালোবাসো।তাহলে এই ভুল করলে কেন?

---বিথী বলছে তোমাকে না পেলে সুইসাইড করবে। বাধ্য হয়ে আমি আব্বু আম্মুকে রাজি করিয়েছি।

---আমি আন্টি আঙ্কেলের সাথে কথা বলে উনাদের সব বিষয় বুঝিয়ে বলবো।

---প্লিজ তুমি এমন করো না।আমার হয়তো কিছুদিন কষ্ট লাগবে। পরে নিজেকে মানিয়ে নিবো।কিন্তু তুমি বিথীর না হলে আমার বিথীকে হারাতে হবে।আমি জীবনেও নিজেকে মাফ করতে পারবো না।

---তুমি শুধু নিজের দিকটাই ভাবছো।আমার কথাটা একবার ভাবতে।আমিও তোমাকে ভালোবাসি। আর ভালোবাসা না পাওয়ার কষ্ট নিয়ে সারাজীবন থাকতে হবে।

---অনিক তুমি যদি আমার কথা না রাখো তাহলে আমার মরা মুখ দেখবে বলে দিলাম বলে চলে গেল।

---কি বিপদে পড়লাম।একদিকে নিজের ভালোবাসা।অপর দিকে ভালোবাসায় মানুষের কথা রক্ষা করা।তিথীর কথা না রাখলে ওর মরা মুখ দেখতে হবে।আমার জন্য তিথীকে মরতে দিবো না।আমার জন্য তিথীর কিছু হলে কখনও নিজেকে ক্ষমা করতে পারবো না।দরকার হলে আমি বিথীকে বিয়ে করবো।হ্যাঁ আমি বিথীকে বিয়ে করবো।অন্তত এজন্য তিথী রক্ষা পাবে না।

আস্তে আস্তে ছাদ থেকে নেমে আসলাম।

রাতে আর খেলাম না।উল্টাপাল্টা চিন্তায় ঠিকমতো ঘুমাতে পারলাম না।

সকালে কে যেন বলল,"এই ওঠো,তোমার জন্য কফি আনছি।"

---ধুর এতো সকাল সকাল কেডা ঘুম ভাঙ্গালো।চোখ খুলে দেখি বিথী দাঁড়িয়ে। একরাশ বিরক্তি নিয়ে বললাম,"ওই তুমি আমার রুমে কেন?আম্মু দেখলে কি মনে করবে?যাও বলছি।"

---আরে পাগল শ্বাশুড়ি আম্মু আমাকেই এখানে পাঠিয়েছে আপনাকে ঘুম থেকে তোলার জন্য।

---ওই ফাজিল মেয়ে তুমি আমার আম্মু কে শ্বাশুড়ি বলছো ক্যান?লজ্জা করে না এসব বলতে?

Green Bangla Romantic Love Story


---উনি তো কয়েকদিন পর আমার শ্বাশুড়ি হবে।তাই আগে থেকে বলার অভ্যাস করছি।আপনি এতো রাগ করছেন কেন?

---কি সব উল্টাপাল্টা কথা বলছো?তোমার মাথা ঠিক আছে তো?

---আমার মাথা ঠিকই আছে।শোনেন বিকেলে আপনার সাথে ঘুরতে যাবো।রেডি হয়ে থাকবেন কেমন।আর হ্যাঁ আপনার মনে নিশ্চয়ই অনেক প্রশ্ন জাগছে।আমি এসবের উওর দিতে পারবো না।সব কিছু আমার শ্বাশুড়ি আম্মু বলবে।আমি এখন যাই।

গতকাল তিথী বলল বিথীকে বিয়ে করার কথা।কিন্তু এ কথা আমার আম্মু এতো তারাতাড়ি জেনে রাজি হয়ে গেল কিভাবে?

---আম্মু ও আম্মু।

---হারামজাদা ষাঁড়ের মতো ডাকছিস ক্যান?

---বাসায় এসব কি চলছে আমি তো কিছুই বুঝছি না।

---তোর কিছু বোঝা লাগবে না।খালি এটাই মনে রাখ আর সাতদিন পর তোর আর বিথীর বিয়ে।

---আম্মু আমি এ বিয়ে মানি না।

---থাপ্পড় দিয়ে তোর সব দাঁত ফেলে দিবো।মায়ের কথায় অবাধ্য হচ্ছিস।জানিস আমার কথা না মানলে তোর কি অবস্থা করবো একবার ভাবছিস?

---এমনিতেই আম্মু কে ভয় পাই।আবার ভয় দেখাচ্ছে। কি যে করি।কিছু না বলে ড্রইং রুমে গিয়ে টিভি দেখতে লাগলাম।

একটু পর নাস্তা করে ভার্সিটি গেলাম।হারামি আকাশ আজকে আসে নি।ক্লাস শেষ করে বাসায় আসতে লাগলাম।এমন সময় রিকশার সামনে একটা কার এসে থামলো।

কার থেকে বিথীর আব্বু বের হয়ে আসলো।উনি আমাকে বলল,"অনিক রিকশা থেকে নেমে কারে এসে বসো।"

যদি না বসি তাহলে অভদ্র মনে করবে।তাই রিকশা ভাড়া দিয়ে কারে বসলাম।

---বাবা অনিক তোমাকে না জানিয়ে তোমার আব্বু আম্মুর সাথে মিলে তোমার আর বিথীর বিয়ে ঠিক করেছি।আসলে আমার মেয়েটা অনেক জেদি। যখন যা চেয়েছে তাই দিয়েছি।দুদিন ধরে বায়না করছে ওর সাথে তোমাকে বিয়ে না দিলে সত্যি সত্যি সুইসাইড করবে।এজন্য আমি অপারগ হয়ে এই কাজ করেছি।আমি কোনো ভুল করলে মাফ করে দাও।

আমার লাইফের বারোটা বাজিয়ে এখন মাফ চাইতে আসছে।মেজাজটা খারাপ হয়ে আছে আবার ওসব বলে তিথীর কথা মনে করিয়ে দিলো।ধুর ভাল্লাগে না।

---কি হলো বাবা কথা বলছো না কেন?

---আসলে আঙ্কেল একটা কথা ছিল।বড় মেয়েকে রেখে ছোট মেয়ের বিয়ে দিলে লোকে কি বলবে বলেন তো?

---বাবা ওই ছোট মেয়ের টেনশনে সব ভুলে গেছিলাম।তুমি আমাকে ভালো কথা মনে করিয়ে দিছো।আমি আমার বন্ধু র ছেলের সাথে তিথী র বিয়ে অনেক আগে থেকে ঠিক করে রেখেছি।শুধু দিন ঠিক করা হয়নি।আমি এখনি কথা বলে তিথী আর রাহাতের বিয়ের দিন ঠিক করছি।

এই যা কি রেখে কি বলে ফেললাম।এখন আমার আগে তিথীকে বিয়ে দিয়ে দিবে।তারমানে কি আমি তিথীকে পাবো না?

আঙ্কেল উনার বন্ধুর সাথে কথা বলে তিথী আর রাহাতের বিয়ের দিন ধার্য করলো।আঙ্কেল বলল,"আমার দুই মেয়ে কে একই দিনে বিয়ে দিবো।বাবা তুমি আমাকে একটা বড় ভুল করা থেকে বাঁচালে। "

একটু পর বাসার সামনে চলে আসলাম।আমাকে নামিয়ে দিয়ে আঙ্কেল বলল,"আমার একটু অফিসে যেতে হবে।তুমি বাসায় যাও।"

ধুর কি থেকে কি করে ফেললাম!আম্মু এসে বলল,"কি বাবা বিয়ের আগেই তোর শ্বশুর তো দেখছি ভালোই জামাই খাতির করছে।"

---মা মজা করো না তো।আমার ভাল্লাগছে না।একটু আমাকে একা থাকতে দাও।

আম্মু চলে গেল।আমি শুয়ে পড়লাম।বিকেলে রেডি হয়ে বিথীর সাথে ঘুরতে বের হলাম।

তাকিয়ে দেখি তিথী দোতলায় থেকে আমার দিকে তাকিয়ে আছে।মুখটা শুকনো দেখাচ্ছে। আর সাতদিন পর তিথী অন্য কারো হয়ে যাবে।ভাবতেই বুকের বা পাশে কেমন করে উঠলো।

এদিকে বিথী আমার হাত ধরে বলল,"এইযে দাঁড়িয়ে আছেন কেন?চলেন।"

আমি বিথীর সাথে বের হয়ে রাস্তায় দাড়ালাম।

এরপর একটা রিকশা ভাড়া করলাম।

বিথীকে বললাম,"কোথায় যাবে?"

---নদীর পাড়ে চলো।

রিকশাওয়ালা মামাকে বললাম,"মামা নদীর পাড়ে চলো।

বিথী আমার দিকে তাকিয়ে হেসে বলল," এই দেখেন তো আমাকে কেমন লাগছে?"

---এতোক্ষণ ভালো করে বিথীকে দেখি নি।এবার পূর্ণ দৃষ্টি তে তাকালাম।কালো শাড়ি পড়েছে।ওর কানের পাাশের চুলগুলো বাতাসে অগোছালো হয়ে যাচ্ছে। আর বিথী ওগুলো বার বার কানের পাশে গুঁজে দিচ্ছে। এমনিতেই বিথী অনেক সুন্দরী। তারপর মুখে হল্কা মেকাপ করছে।আর ঠোঁটে লাল লিপস্টিক।যেকোনো ছেলে এমন রূপে প্রেমে পড়তে বাধ্য। কিন্তু আমার মনে কোনো ফিলিংস আসছে না।বারবার তিথীর কথা মনে পড়ছে।

---কি হলো বললেন না যে?

---ও হ্যাঁ তোমাকে অনেক সুন্দর লাগছে।

---সত্যি!((খুশি হয়ে বলল)

---হ্যাঁ সত্যি।

বিথী আমার হাত শক্ত করে চেপে ধরলো।আমি কিছু বললাম না।কিছু বললে হিতে বিপরীত হবে।

---একটু পর নদীর পাড়ে চলে আসলাম।

এসেই বিথী বায়না ধরলো ফুচকা খাবে।তো বিথীকে বললাম,"চলো।"

---না।আপনি নিয়ে আসেন।আর হ্যাঁ অনেক ঝাল দিয়ে বানিয়ে আনবেন।

বিথীর কথামতো অনেক ঝাল দিয়ে ফুচকা নিয়ে আসলাম।

---এখন এগুলো কোথায় বসে খাবে শুনি?(আমি)

---সামনে একটা বটগাছ আছে।ওখানে বসার যায়গা আছে।ওখানে বসে খাবো।এখন চলেন।"

বুঝলাম না ওখানে না খেয়ে এখানে খাওয়ার মানে কও?মেয়ে মানুষের মনে কখন কি হয় আল্লাহ ভালো জানে।

বিথী বসে ফুচকা খাচ্ছে আর আমি দেখছি।এই মাইয়া এতো ফুচকা কিভাবে খায়!বিথী আমাকে বলল,"এই হা করেন।"

---আমি খাবো না।তুমি খাও।

---নেন বলছি।

আমি হা করলাম।আমনি বিথী আমাকে একটা ফুচকা খাইয়ে দিলো। ও মাগো একি ঝাল!ঝালে আমার ঠোঁট পুড়ে গেল মনে হয়।আর এই মসইয়া এতো ঝাল কিভাবে খাচ্ছে।

আমি ঝাল ঝাল বলে চিল্লাতে লাগলাম।আর বিথীকে বললাম,"ওই পানি খাওয়াও।"

---আমি এখানে পানি পাবো কোথায়?

---জানি না।আমার ঠোঁট পুড়ে গেল।কিছু একটা করো।

---কিছু করলে আবার বকবেন না তো।

---না।উফফফ মরে গেলাম ঝালে।এতো ঝাল কিভাবে খেলে?

বিথী কোনো কথা না বলে আমার ঠোঁটে কিস করা শুরু করলো।দুই মিনিট পর আমাকে ছেড়ে দিয়ে বলল,"এখন ঝাল কমেছে আপনার?"

---এই তাই তো আমার ঝাল নেই।আজব বেপার ঝাল গেল কোথায়?(আর কিস করায় এতো মজা লাগে হিহি।কিন্তু বিথীকে বুঝতে দিলাম না।)

---মিষ্টির কাছে ঝাল পারে না।তাই আপনাকে মিষ্টি খাওয়াইছি।এজন্য ঝাল চলে গেছে।

---শয়তান লুচু মাইয়া আমাকে কিস করার জন্য প্ল্যান করে ফুচকায় বেশি ঝাল দিয়ে বানিয়ে আনতে বলছো।

---হিহিহি,এতোক্ষণে আপনি বুঝছেন।

---এসব কিন্তু ঠিক করছো না।

---আমার কি দোষ!আপনার অতো সুন্দর ঠোঁটে কিস করার লোভ সামলাতে পারি নি।

---বিয়ের আগে এসব আর করবে না।

---কেন?অন্য কারো থেকে নিবেন নাকি?

---সেটা তোমার না ভাবলেও চলবে।এখন চলো এখান থেকে।

---দুজন হাঁটতে লাগলাম।বিথী আমার হাত ধরে আছে।একেবারে খারাপ লাগছে না।তারপরও মনে হচ্ছে বিথীর যায়গায় তিথী হলে আরও ভালো লাগতো।

বিথী আবার আবদার করলো আইসক্রিম খাবে।তো আইসক্রিম ওয়ালাকে বললাম দুটা আইসক্রিম দিতে।

বিথী বলল," দুটা না।একটা নিলে হবে।"

এই মাইয়া এখন নিজে নিজে আইসক্রিম খাবে। আর আমাকে দিবে না।এটা মানতে পারছি না।কিন্তু ওর সামনে কিছু বললাম না।

একটা আইসক্রিম নিয়ে ওকে দিলাম।বিথী আইসক্রিম এর এক কোনায় এক কামড় দিয়ে আমার মুখের সামনে ধরে বলল,"খান একটু।"

---তোমার টা কেন খাবো?

---একসাথে খেলে ভালোবাসা বাড়ে।নেন কথা না বাড়িয়ে আইসক্রিম খান।"

জানি না খাওয়া পর্যন্ত আমাকে ছাড়বে না।তাই বাধ্য হয়ে ওর সাথে আইসক্রিম ভাগাভাগি করে খেলাম।এতোদিন যত আইসক্রিম খেয়েছি তারচেয়ে আজকে খেয়ে বেশি মজা পেলাম।

হাঁটতে হাঁটতে অনেকদূর চলে এসেছি।তাই বিথীকে বললাম,"চলো অনেক ঘুড়ছি।এখন বাসায় চলো।"

---বিথী বলল,"সামনে একটা সুন্দর জায়গা আছে।ওখানে চলেন না প্লিজ।"

বিথীর আবদার ফেলতে পারলাম না।যেতে লাগলাম ওর সাথে। এদিকে সন্ধ্যা হয়ে আসছে।

আচমকা বিথী......

পর্বঃ১৪তম


সকালে উঠে ফ্রেশ হয়ে নাস্তা করে ভার্সিটিতে গেলাম।আজকে তিথী ফোন ও দিলো না আবার ভার্সিটিতে  দেখলাম না।

দুজনের আবার কি হলো উপরওয়ালা ভালো জানে।

এভাবে আরও দুদিন কেটে গেল।

আজ রাফির বিয়ে। অবশ্য গতকাল ও এসে দাওয়াত দিয়ে গেছে।

বিয়ে তে যাওয়ার জন্য রেডি হচ্ছি এমন সময় তিথী কল করলো।

---হ্যালো।(আমি)

---অনিক তোমার সাথে আমার আমার কথা আছে।((তিথী))

---কি কথা বলো?

---ফোনে বলা যাবে না।

---তাহলে কিভাবে বলবে?

----আজকে আমার সাথে দেখা করতে পারবে?

---এখন তো আমি বন্ধুর বিয়ের অনুষ্ঠানে যাচ্ছি। এসে কথা বলবো।

তিথী আর কিছু না বলে কল কেটে দিলো।

কি কথা বলতে পারে ভাবতে লাগলাম? মনে হয় ডিসিশন নিয়ে নিছে।হয়তো তাই জানাতে কথা বলবে।কিন্তু আমি তো তিথীকে পছন্দ করি।যদি বিথীর কথা বলে!

নাহ!নিজের ভালোবাসা কেন আরেকজনকে দিবে।তিথী আমার ই হবে।

এখন আর এসব না ভেবে রাফির বিয়েতে গেলাম।

আকাশ আমার আগেই চলে এসেছে।আমাকে দেখে বলল,"এতো দেরী করলি ক্যান?"

---আর বলিস না।খুব টেনশনে  আছি।

---তোর আবার কিসের টেনশন?

---শালা গাছে তুলে দিয়ে মই টান দিয়ে বলছিস কিসের টেনশন?

---আরে শান্ত হ এবার।

----কি করে শান্ত হবো? ইচ্ছে হচ্ছে তোদের দুজন কে গাছের সাথে উল্টো করে আচ্ছা মতো ধোলাই করি।

---রাগিস না বন্ধু।রাফির বিয়েটা হলে দুজন মিলে একটা ব্যাবস্থা নিবো।

---একবার তোদের বুদ্ধি শুনে যে বাঁশ খাইছি দ্বিতীয় বার আর সে ভুল করছি না।

---এসব নিয়ে পরে কথা বলিস।আজকে তো আনন্দ কর।

---শালা হওয়া বিয়ের আবার কিসের আনন্দ?

---আরে পাগলা চারিদিকে দেখ কত সুন্দরী মেয়ে।এদের সাথে একটু মজা করবো কি না আর তুই ওসব চিন্তা নিয়ে পরে আছিস।

---লুইচ্চা।খাড়া তোর গার্লফ্রেন্ড কে বলতেছি।

---ভাই তোর পায়ে ধরি এসব ওরে বলিস না।

---বলবো না এক শর্তে।

---কি শর্ত?

---আমার জন্য দুটা বেনসন সিগারেট নিয়ে আসবি।

---এতো ভালো হলি কবে থেকে?

---আজকে রাফির বিয়ে।এজন্য বিশেষ ছাড় দিছি।আর বেশি কথা না বলে সিগারেট আন।

আকাশ সিগারেট আনতে গেল।আমি একটা চেয়ার টেনে বসে পড়লাম।

একটু পর আকাশ সিগারেট নিয়ে আসলো।কিন্তু বলদ দিয়াশলাই আনে নি।

এখন আগুন কই পাবো?এতো বাড়ি ভর্তি লোক।ধুর এতো টেনশন করছি কেন?এখানে কেউ তো আমাকে চিনে না।তাহলে ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই।

রাফির রুমে গিয়ে দেখি বেচারা পাঞ্জাবি পড়ছে।ইচ্ছে হচ্ছে ওরে কিছুক্ষণ কাতুকুতু দেই।কিন্তু আরও মানুষ আছে।তাই কাতুকুতু দিতে পারলাম না।

রাফিরে ইশারায় বললাম,"আগুন পাওয়া যাবে?"

ও বলল,"কিচেনে আছে। তবে সাবধান। আম্মু আছে মনে হয়।"

আমি কিচেনে গিয়ে দেখি কেউ নাই।ম্যাচ টা পকেটে পুরে ছাদে আসলাম।যাক এখানে কেউ নাই।শান্তি মতো সিগারেট খাওয়া যাবে।

সিগারেটে আগুন ধরিয়ে দুটা টান দিতেই মনে হলো কেউ আসছে।পেছন ঘুরে দেখি কয়েকটা মেয়ে।দেখতে মাশাআল্লাহ। কিন্তু একটাকেও চিনি না।

ধুর এদের কে ভয় পেয়ে সিগারেট খাওয়া বন্ধ করবো এটা হতে পারে না।তাই ওদের সামনেই সিগারেট টান দিতে লাগলাম।

আহ!কি মজা।

এমন সময় একটা মেয়ে বলে উঠলো,"এই যে মিস্টার এতোগুলা মেয়ের সামনে সিগারেট খেতে লজ্জা করে না আপনার?"

আমিঃ আমার টাকায় সিগারেট খাচ্ছি এখানে লজ্জা পাওয়ার কি আছে!

মেয়েটিঃ আপনি আমার সামনে সিগারেট খেতে পারবেন না।

---আপনার সহ্য না হলে চলে যান।এতো ভাব নেওয়ার কি আছে!

---ওই আমি ভাব নিতে লাগলে আমার পিছে তোর মতো ছেলের লাইন লেগে যাবে।

---হ জানি তো।কম দামী পন্যের কাস্টমার বেশি।

---মেয়েটার এক বান্ধবী বলল,"আরে সিমা তুই এই ছোটলেকের বাচ্চার সাথে এতো কথা বলছিস ক্যান?চল এখান থেকে।

আমাকে যা ইচ্ছে বলুক।কিন্তু কেউ আমার মা বাবা কে নিয়ে বাজে কথা বললে আমার সহ্য হয় না।আর এই মেয়েকে ছাড় দেওয়া কোনো মতে সম্ভব না।

মেয়েটার সামনে গিয়ে ঠাসস করে দুগালে দুটা থাপ্পড় দিয়ে বললাম,"নেক্সট টাইমে কাউকে কিছু বলার আগে ভেবে কথা বলবি।আর এমন কিছু করার আগে আমার থাপ্পড়ের কথাটা অবশ্যই মনে থাকবে।আর হ্যাঁ আমার আশেপাশে যেন তোকে না দেখি।"

আমার থাপ্পড় দেওয়া দেখে সবাই অবাক হয়ে গেছে।
আর মেয়েটা দু গালে হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

Green Bangla Romantic Love Story


আমি আর কিছু না বলে ওখান থেকে চলে আসি।

---আকাশ বলল,"এতোক্ষণ কই ছিলি?"

আকাশ কে সব কিছু খুলে বললাম।ও সব শুনে বলল,"ঠিক করেছিস।"

একটু পর মাইক্রোবাসে তে করে চললাম মিমদের বাড়ির দিকে।আধা ঘন্টা র মধ্যে পেয়ে গেলাম।

আমাকে বরের মাইক্রোবাসে থেকে নামা দেখে মিমের ভাই অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে।হয়তো ভাবছে এ বরের মাইক্রোবাসে আমি কেন?

আকাশকে সাথে করে নিয়ে ঘুরতে লাগলাম।একটু পর খেতে দিলো।

খাওয়ার কিছু ক্ষন পর রাফি আর মিমের বিয়ে পড়ানো হলো।

এরপর বর বউ নিয়ে চলে আসা হলো।

আমি রাফির কাছ থেকে বিদায় নিয়ে চলে আসলাম।রাত হয়ে গেছে।

তিথীর কথা মনে পড়লো।ও কি যেন বলতে চেয়েছে।

তিথীকে কল করলাম।

---হ্যালো বিথী, কোথায় তুমি?(আমি)

---বাসায়,কেন?

---সকালে কি যেন বলতে চাইছো?

হ্যাঁ,কিন্তু তুমি তো অনেক বিজি।

---বললাম তো রাফির বিয়ে।আচ্ছা এক কাজ করো,তোমার বাসায় ছাদে আসো।আমিও ছাদে আসছি।

---তিথী বলল,"আচ্ছা।"

ড্রেস চেঞ্জ করতে লাগলে দেরী হবে।এরচেয়ে এই অবস্থায় যাই।

ছাদে গিয়ে ফোন টিপতে লাগলাম।একটু পর তিথী আসলো।

আশেপাশের বাসা থেকে লাইটের আলো আসছিল।সেই আলোতে তিথীকে দেখলাম।বড্ড মায়াবী লাগছে।ইচ্ছে হচ্ছে জড়িয়ে ধরে বলি ভালোবাসি, অনেক ভালোবাসি।

আমি বললাম,"তিথী তোমাকে আমার কিছু বলার আছে।"

---তিথী বলল,"আগে আমার কথা শোনো।তারপর তোমার কথা বলো।"

---আচ্ছা বলো।

---আমি জানি তুমি আমাকে পছন্দ করো।আমিও তোমাকে ভালোবাসি। কিন্তু আমি আমার বোনকে আমার নিজের থেকেও বেশি ভালোবাসি।ওর কষ্ট আমি দেখতে পারবো না।আমার বোনটা তোমাকে অনেক ভালোবাসে।বলো কখনও ওকে কষ্ট দিবে না।

আমি তিথীর কথা শুনে থ হয়ে দাড়িয়ে রইলাম।তিথী আমাকে এতোটা শক দিবে ভাবতেও পারি নি।ওর চোখ ছলছল করছে।মনে হচ্ছে এখনি বাধ ভেঙে অঝোর ধারায় পানি নামবে।

তিথী আমাকে কান্না ভেজা কন্ঠে বলল,"কি হলো কথা দাও আমার বোন কে সারাজীবন ভালোবেসে যাবে।"

---তিথী তোমার মাথা ঠিক আছে তো?নিজের ভালোবাসা কখনও এভাবে বিলিয়ে দেয়?

---আমার বোনের জন্য সব করতে পারি।

কিন্তু আমি তোমাকে ভালোবাসি।আমি বিথীকে ভালোবাসতে পারবো না।

---আমার জন্য তোমাকে পারতে হবে।

---পাগলামি বাদ দাও।

---আমি পাগলামি করছি না।সবকিছু ভেবেই আমি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি।এমনকি আব্বু আম্মুকে ও বলছি তোমার আর বিথীর কথা।উনারা রাজি হয়েছে।

---তুমি এতোবড় সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আমাকে জানাতে পারতে।

---বিথী তোমাকে পাগলের মতো ভালোবাসে।এরচেয়ে তোমার কি চাই?

---শুধু ওর ভালোবাসা হলে তো চলবে না।আমারও তো ওকে পছন্দ হতে হবে।

---অনিক প্লিজ আমার রিকুয়েষ্ট টা রাখো।তাহলে বুঝবো তুমি আমাকে সত্যি ভালোবাসো।

তিথী কান্না করতে লাগলো।

আমি বললাম,"তিথী তুমি আমাকে এমন রিকুয়েষ্ট করতে পারো না যে যেটা করতে লাগলে নিজের ভালোবাসা হারাতে হবে।আমি এমন রিকুয়েষ্ট রাখতে পারবো না।

তিথীর কান্না বেড়েই চলেছে।আচমকা তিথী আমাকে জড়িয়ে ধরলো.....

পর্বঃ১৩তম



---ওই হাসবে না।বিষয়টা আমার কাছে সিরিয়াস মনে হয়েছে তাই তোমাকে বলার জন্য ডেকেছি।

---কি কথা বলো।

---বিথীর ব্যাবহার আমার কাছে সুবিধার মনে হচ্ছে না।ওর থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করবে।

---দুই বোন ই একে অপরকে সন্দেহ করছে।যদি জানতে পারে দুজন ই আমাকে প্রপোজ করছে তাহলে কি হবে?

এমন চলতে থাকলে আরও সমস্যা বেশি হবে।এরচেয়ে দুজনকেই বলে দেওয়া ঠিক হবে।তাই সিন্ধান্ত নিলাম তিথী বিথীকে একসাথে করে এসবের সমাধান করতে হবে।

এজন্য তিথীকে বললাম,"তিথী বিকেলে ছাদে আসবে।গুরুত্বপূর্ণ কথা আছে।আর হ্যাঁ বিথীকে সাথে করে আনবে।"

---গুরুত্বপূর্ণ কথা আমার সাথে,বিথীকে আনার মানে বুঝলাম না।

---এখন এসব বলা যাবে না।বিকেলেই বুঝতে পারবে।

---আচ্ছা।এখন কি বাসায় যাবে?

---হুম,চলো একসাথে যাই।

এরপর দুজনে রিকশা করে বাসায় চলে আসি।

গোসল করে খেয়ে ফোনে পাবজি গেম খেলছি।এমন সময় বিথী এসে ফোনটা কেড়ে নিলো।

---ওই ফোন নিছো ক্যান?আমার গেম খেলা প্রায় শেষের দিকে।দাও তারাতাড়ি।

---আপনাকে আপুর সাথে মিশতে মানা করছি।তারপরও কেন ওই ডাইনির সাথে রিকশায় করে বাসায় আসলেন?

---তোমার মাথা ঠিক আছে তো?

---আমার মাথা ঠিক ই আছে।আপনার সাথে অন্য কোনো মেয়ে সহ্য করতে পারি না।

---তিথী তোমার আপন বড় বোন।

---আমি ভালোবাসায় কোনো ভাগ দিতে পারবো না।

---এসব কথা বাদ দাও।আর শোনো তোমার সাথে গুরুত্বপূর্ণ কথা আছে।তোমার আপুর সাথে বিকেলে ছাদে যাইবা কেমন।

---আমার সাথে কি কথা যার জন্য আপুকেও থাকতে হবে?

---সেটা বলার সময়ই বুঝবে।আর এখন আমার ফোন দিয়ে যাও।

---বিথী ফোনটা দিয়ে দিলো।

বিথী যেতে যেতে ভাবতে লাগলো কি এমন কথা বলবে?হতে পারে আপুর সামনে আমাকে প্রপোজ করবে।কি়ংবা আপুকে যদি প্রপোজ করে তাহলে আমার কি হবে।আমি অনিককে ছাড়া কাউকে কল্পনা করতে পারি না।

Green Bangla Romantic Love Story


বিথী রুমে ঢুকে দেখে তিথী ওর বিছানার শুয়ে ফোন টিপছে।

তিথীঃ এতোক্ষণ কই ছিলি?

বিথী মনে মনে ভাবলো বলা যাবে না অনিকের কাছে গেছিলাম।এজন্য বলল,"ছাদে গেছিলাম।"

তিথীঃ দুপুর বেলা ছাদে কেন?

বিথীঃ এমনিতেই।কিছু কি বলবে আপু?

তিথীঃ হুমমম,বিকেলে আমার সাথে ছাদে যাবি।অনিক কি যেন বলবে আমাকে।

তিথীর কথা শুনে বিথী চমকে ওঠে।অনিক আমাকে একটু আগে বলল বিকেলে ছাঁদে যেতে।এরমানে আমাকে বলার আগেই আপুকে বলছে।

অনিক আমাকে বাদ দিয়ে আপুকে ভালোবাসে না তো?না অনিক আমার ছাড়া আর কারো হবে না।

তিথীঃ ওই কি ভাবছিস?

বিথীঃ কিছু না আপু।আচ্ছা তোমার সাথে বিকেলে ছাদে যাবো কেমন।এখন যাও আমি ঘুমাবো।

তিথী উঠে চলে যায়।

বিকেলে আমি ছাঁদে যাই।দেখি তিথী বিথী দাঁড়িয়ে আছে।

আমাকে দেখে বিথী বলল," বলেন কি জন্য আমাদের দু বোন কে একসাথে ডাকা?"

আমিঃ আসলে কিভাবে শুরু করবো ভেবে পাচ্ছি না।

তিথীঃ এতো ভাবাভাবির কি আছে!যা বলবে সোজা বলে ফেলো।

আমিঃ জানিনা আমার কথাগুলো তোমারা দুবোন কিভাবে নিবে?কিন্তু তারপরও কথা গুলো আমাকে বলতেই হবে।

তিথী ভাবতে লাগলো, "অনিক মনে হয় আমাকে ভালোবাসে।এজন্য বিথীর সামনে প্রপোজ করবে।"

বিথী ভাবছে অনিক আমার না হলে আমি বাঁচবো না।

আমিঃ দেখো তোমাদের দুজনকে একসাথে ডাকার কারণ হলো তোমরা দুই বোনই আমাকে ভালোবাসো।এমনকি আমাকে প্রপোজ ও করছো।এখন বলো আমি কাকে একসেপ্ট করবো?

আমার কথা শুনে ওরা দুবোন একে অপরের দিকে তাকিয়ে আছে।হয়তো মনে মনে একে অপরকে গালি দিচ্ছে।

তিথীঃ ওই বিথী তুই ছোটবেলা থেকে আমার সব পছন্দের জিনিসে ভাগ বসিয়েছিস।এখন আমি যাকে ভালোবাসি তাকেই পেলি ভালোবাসতে।দেশে আর কোনো ছেলে ছিল না মনে হয়।

বিথীঃ আমি কি জানি তুমি উনাকে ভালোবাসো।জানলে কি আর এই ভুল করতাম!((কান্না ভেজা কন্ঠে বলল))

তিথীঃ যা করেছিস ভালো করিস নি।এখন আমি তোর বড় হয়ে বলছি অনিক রে ভুলে যা।

বিথীঃ আমাকে ভুলে যেতে বলছো কেন?তুমি নিজে পারলে ভুলে দেখো।আর আমি আমার ভালোবাসা না পেলে সুইসাইড করবো বলে দিলাম।বলে বিথী কান্না করতে করতে চলে গেল।

তিথীঃ বিথী নাহয় বাচ্চা মেয়ে ভুল করছে।তুমি ওকে বোঝাতে পারতে তো।

আমিঃ আমার চেয়ে তুমি বিথীকে বেশি চিনো।ও যেমন জেদি তেমন একরোখা।আর তুমি ওকে বাচ্চা বলছো।ও মোটেও বাচ্চা মেয়ে না।যথেষ্ট বড় হয়েছে।আমি ওকে অনেকবার না করেছি কিন্তু আমার কথা না শুনলে কি করবো তুমি বলো?

তিথী কিছু বলল না।চুপ করে দাঁড়িয়ে আছে।ওর চোখ দুটো ছলছল করছে।মনে হচ্ছে এখনি কেঁদে ফেলবে।এমনিতে আমার তিথীকে ভালো লাগে।ভাবছিলাম তিথীকে হ্যাঁ বলবো।কিন্তু বিথীর জন্য কিছুই হলো না।

তিথী বলল," আমাকে ভাবতে দাও কি করতে হবে।এখন আমি গেলাম।"

বিথী চলে গেল।

আমি ছাঁদে একা একা দাঁড়িয়ে আছি।আর ভাবছি দুই বোন কত হাসি খুশি ছিল।আমার জন্য ওদের মাঝে ঝগড়া হলো।এসবের জন্য হয়তো আমি দায়ী।

হঠাৎ পকেটের ফোনটা কাঁপা-কাঁপি শুরু করলো।দেখি মিমের ভাই কল করছে।

আমি সালাম দিয়ে জিজ্ঞেসা করলাম,"কেমন আছেন?"

---আলহামদুলিল্লাহ, তোমার কি অবস্থা? (মিমের ভাই)

---এইতো আলহামদুলিল্লাহ আছি ভালোই।((কষ্ট টা চাপা রেখে বললাম))

---আচ্ছা তোমাকে একটা কথা বলার জন্য ফোন দিছি।

---কি কথা ভাইয়া?

---মিম যে ছেলের সাথে পালিয়েছে ওর সাথেই বিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।আগামী শুক্রবার বিয়ে।তোমার দাওয়াত রইলো।

---ভাইয়া এসব কখন হলো?

---মিমের থেকে ছেলের বাসার ঠিকানা নিয়ে ছেলের ফ্যামিলির সাথে কথা বলছি।পরে দুই পরিবারের সবাই মিলে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

---ভালো সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আমি বিয়েতে অবশ্যই আসবো।

---আচ্ছা তাহলে রাখি।বলে মিমের ভাই কল কেটে দিলো।

রাফির জন্য কতকিছু করলাম আর শালা আমাকে কিছুই বলে নাই।ওর উপর হেব্বি রাগ হচ্ছে।

আকাশরে ফোন করলাম।

আমিঃরাফির বিয়ের দাওয়াত পাইছিস?

আকাশঃ রাফি তো হানিমুনে কক্সবাজার, ওর বিয়ের দাওয়াত পামু ক্যান?

আমি আকাশকে সব কিছু খুলে বললাম।

আকাশঃ আরে কিছু মনে করিস না। ও হয়তো কাজের চাপে ভুলে গেছে।দেখ ঠিকই জানাবে।

---আচ্ছা আমার ভালো লাগছে না।রাখলাম বলে কেটে দিলাম।

দড়িয়ে থাকতে থাকতে  রাত হয়ে গেছে।ছাদ থেকে নেমে আসলাম।

মাঃ এতোক্ষণ কোথায় ছিলি?

আমিঃ ছাদে।আচ্ছা মা আমি রুমে গেলাম।

রুমে এসেও ভালো লাগছে না।নিজেকে অপরাধী মনে হচ্ছে।

পড়ার টেবিলেও মন বসছে না।মা এসে বলল,"তোকে চিন্তিত মনে হচ্ছে ।কোনো কিছ নিয়ে চিন্তা করছিস নাকি?"

---না মা।এমনিতেই ভালো লাগছে না।

---আচ্ছা এক কাজ কর।তুই শুয়ে পড়।আমি তোর মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছি।
মা কিভাবে বুঝলো আমি চিন্তা করছি?আসলে মা অতুলনীয়। মায়ের ভালোবাসা অনেক সন্তান ই বুঝতে পারে না।হয়তো ওরা মনে করে এতো শাসন না করতেই পারে।কিন্তু ওরা বোঝে না।শাসনের ভেতর ই ভালোবাসা লুকিয়ে থাকে।এটা সবাই বুঝতে পারে না।

মা মাথায় হাত বুলিয়ে দিলে কিছুক্ষন পর ঘুমিয়ে পড়ি।

সকালে উঠে ফ্রেশ হয়ে নাস্তা করে ভার্সিটিতে গেলাম।আজকে তিথী ফোন ও দিলো না আবার ভার্সিটিতে  দেখলাম না।

দুজনের আবার কি হলো উপরওয়ালা ভালো জানে।

পর্বঃ১২তম


---এই এতো লোকের মাঝে এসব কি করছো?

---লোক কি বলবে?আমি তোমাকে ভালোবাসি।তোমার যত্ন নেওয়া আমার অধিকার।

---কিন্তু আমি তোমাকে ভালেবাসি না।

---ওই চুপ!এখন কোনো কথা বলবে না।

---তিথী পাগলামি করো না।

---এখন আমার সাথে বাসায় চলো।বলে তিথী আমাকে সাথে করে বাসায় নিয়ে আসলো।

গোসল করে শুয়ে ভাবতে লাগলাম এখন আমার কি করা উচিৎ? বিথীকে হ্যাঁ বলবো নাকি তিথীকে?

নাহ!কোনো কিছু ভাবতে পারছি না।কিন্তু এর সমাধান করতেই হবে।নাহলে বড় অঘটন ঘটে যাবে।

আকাশকে ফোন দিয়ে সমস্ত ঘটনা খুলে বললাম।কিন্তু ও কোনো সাজেশন দিতে পারলো না।

এতো চাপ নেওয়ার চেয়ে কিছুক্ষণ ঘুমানো ভালো।

বিকেলে ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে কিছুক্ষণ এদিক সেদিক ঘুরাঘুরি করে সন্ধ্যায় বাসায় আসলাম।

একটু পর বিথীকে পড়াতে যেতে হবে।কিন্তু ও যে জেদি আর পাগলি,ওরে পড়ানো আমার পক্ষে কঠিন। বাড়িওয়ালির মেয়ে বলে না করে দিতে পারছি না।

কিছুক্ষণ পর বিথীকে পড়াতে গেলাম।

বিথী কে একটা হিসাববিজ্ঞানের অংক করতে দিলাম।কিছুক্ষণ পর বিথী বলল,স্যার আর পারছি না।একটু বুঝিয়ে দেন।

আমি অংক টা করে দিলাম।

বিথী বলল,"স্যার একটা কথা বলি?"

---পড়া বাদে অন্য কোনো কথা বলতে পারবে না।

---স্যার কথাটা পড়ার মতোই গুরুত্বপূর্ণ।

---তা তোমার কি কথা শুনি?

---আসলে স্যার আপনি সকালে বললেন আমার আপনার বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে।কিন্তু আমি তো জানলাম না।

Green Bangla Romantic Love Story


---ওটা তো ওদের এমনি বলছি।

---ওদের যাই বলবেন কিন্তু আমাকে ব্যাবহার করলেন কেন?

---তোমাকে কখন ব্যাবহার করলাম?

---ওইযে আপনার সাথে আমার বিয়ে হবে।

---আপু ওটা বলা আমার ভুল হয়েছে।প্লিজ মাফ করে দেন।এমন ভুল জীবনেও করবো না।

---ভুলটা সত্যি করলে কেমন হবে স্যার?((শয়তানি হাসি দিয়ে বিথী বলল))

--- কি সত্যি হবে রে বিথী?((তিথী ট্রে তে করে চা আর বিস্কুট নিয়ে এসে বলল))

এই যা তিথী সব শুনে ফেলল না তো।শুনলে তো দুই বোন মারামারি শুরু করতে পারে।

---কি হলো বিথী কিছু বলছিস না কেন?((তিথী))

---তাকিয়ে দেখি তিথীর ধমক খেয়ে বিথীর মুখটা শুকিয়ে গেছে।যাক তিথী সঠিক সময়ে এসেছে।নাহলে বিথী আমার মাথা খেয়ে ফেলতো।

আপাতত পড়িয়ে এখান থেকে কেটে পড়লে বাঁচি।

এজন্য আমি বললাম,"এভাবে বিথীকে ধমকাচ্ছো কেন?ও একটা বাচ্চা মেয়ে।

---আমার মুখে বাচ্চা শুনে বিথী রেগে গিয়ে বলল,"স্যার আমি মোটেও বাচ্চা না।"

---আমি বিথীকে আরও রাগানোর জন্য বললাম," ও তুমি বাচ্চা না।তুমি তো কচি খুকি।"

আমার কথা শুনে তিথী হাসতে লাগল।আর বিথী রাগ করে উঠে গেল।

তিথী বলল,"চা আর বিস্কুট গুলো খেয়ে নেন।"

আমি চা আর কয়েকটা টা বিস্কুট খেয়ে নিলাম।একটু পর বিথী এসে বলল,"স্যার আপুর সামনে আমাকে বাচ্চা বললেন কেন?"

---তোমাকে বাচ্চার মতো লাগে।তাই বাচ্চা বলছি।

---বিথী অভিমানী কন্ঠে বলল,"স্যার আমি কি সত্যি পিচ্চি? "

---আরে তুমি এতো সিরিয়াস ভাবে নিচ্ছে কেন?আমি তো মজা করে বলছি।

---স্যার আপনার মুখে আমাকে বাচ্চা শুনতে একদমই ভালো লাগে না।

---বিথীকে ধমক দিয়ে বললাম,"ওই এসব কথা বাদ দিয়ে পড়তে বসো।

আরও কিছুক্ষণ পড়ানোর পর বাসায় চলে আসলাম।

রাতে খেয়ে কিছুক্ষণ ফেসবুক চালিয়ে ঘুমিয়ে পরি।

সকালে উঠলাম মায়ের বকুনি খেয়ে।কিজন্য বকলো তাও বুঝলাম না।ধুর ভাল্লাগে না।

ব্রাশ করে ছাদে গেলাম।দেখি তিথী বীথী দাড়িয়ে আছে।

আমাকে দেখে দুজনই কেমন লাজুক স্বভাবের হয়ে গেল।

বিথীঃ আপনি এখানে?

আমিঃ কেন আসা বারন নাকি?

বিথীঃ বারণ না।আপানকে ছাদে আসা দেখি না তাই।

একবার সকালে ছাদে আসছিলাম।এজন্য কান ধরে উঠবস করিয়েছিলে।সেটা কি করে ভুলি?(মনে মনে বললাম)

বিথীঃআচ্ছা যাইহোক গতকালের মতো আজ কিন্তু আপনার সাথে কলেজে যাবো।আমাকে নিয়ে যাইয়েন।

বীথী র কথা শুনে তিথী আমার দিকে চোখ বড় বড় করে তাকালো। আমি ওর তাকানো দেখে ভয় পেয়ে গেলাম।

আমি কিছু বলতে যাবো তার আগে তিথী বলল,"ওই তুই একা কলেজে যেতে পারিস না?

বিথীঃআপু আমি দেখেছি তুমি অনিক ভাইয়ার সাথে ভার্সিটি তে যাও।আমি তো তোমাকে কিছু বলিনি। তাহলে তুমি আমাকে বারণ করছো কেন?

তিথীঃওসব তুই বুঝবি না।অনিক আমার সাথে যাবে।

বিথীঃআমি আগে বলেছি আমার সাথে সাথে যাবে।

দুই বোনের কান্ড দেখে আমি অবাক। এরা আমাকে নিয়ে কি শুরু করলো?এদেরকে না থামালে কারে কখন কি বলে ফেলবে ঠিক নাই।এজন্য আমি বললাম,"ওই দুজন চুপ করো।"

আমার ধমক শুনে দুজন চুপ হয়ে গেল।

আমিঃ এভাবে দুবোন ঝগড়া করার চেয়ে আমাকে কেটে দুভাগ করে নাও।তাহলে তোমাদের সমস্যা সমাধান হয়ে গেল।

কিছুক্ষণ পর,

 তিথীঃ নিথী,অনিক আজকে তোর সাথে যাবে।কিন্তু কাল আমার সাথে যাবে।শর্তে রাজী?

বিথীঃআমি রাজি।

আমি আর কোনো কথা না বলে নিচে চলে আসলাম।

এরপর রেডি হয়ে ভার্সিটি যাওয়ার জন্য নাস্তা করে রেডি হলাম।বাহিরে বের হয়ে দেখি বিথী দাঁড়িয়ে আছে।

বিথীঃআপনার জন্য অপেক্ষা করছিলাম।

আমিঃএতো অপেক্ষা করে হবে না।এখন চলো।

রিকশা ভাড়া করে যেতে লাগালাম।

কিছুক্ষণ পর বিথী বলল,"তিথী আপুর ব্যাবহার আমার কাছে সুবিধার মনে হচ্ছে না।আপনি আপুর থেকে দূরে দূরে থাকবেন কেমন।

আমি কিছু বললাম না বলে ভাবতে লাগলাম এগুলো কি হচ্ছে আমার সাথে?আমার এখন কি করা উচিৎ?

বিথী কথা বলেই যাচ্ছে। এই মাইয়া এতো কথা কিভাবে বলে বুঝি না।একটু পর ওর কলেজ পেয়ে গেলাম।

বিথী নেমে গেল।আমি আপাতত হাফ ছেড়ে বাঁচলাম।

ক্লাস করছি এমন সময় তিথী কল করলো।
ক্লাসে স্যার আছে রিসিভ করলে বকা দিতে পারে এজন্য রিসিভ করলাম না।

ক্লাসের বাহিরে বের হয়ে দেখি তিথী দাঁড়িয়ে আছে।

তিথী আমাকে বলল,"তোমার সাথে জরুরি কথা আছে।ক্যান্টিনে চলো।

আমিঃ কিন্তু আমার আরও দুটা ক্লাস হবে এখন।ক্লাস শেষ করে কথা বলবো।

তিথী একটু ভেবে বলল,"আচ্ছা  ঠিক আছে।"

ক্লাস শেষ করে তিথীকে কল দিলাম।

---হ্যালো।((আমি))

---কোথায় তুমি?((তিথী))

---তিন তলায় ম্যানেজমেন্ট ডিপার্টমেন্টের সামনে আছি।ক্যান্টিনে আসো।বলে কল কেটে দিলাম।

ক্যান্টিনে বসে আছি।একটু পর তিথী আসলো।

আমিঃবলো কি বলবে?

তিথীঃকথাটা কিভাবে বলবো ভেবে পাচ্ছি না।

---প্রপোজ তো ভালোই করতে পারে। আর এখন কি বলবে সেটা ভেবে পাচ্ছে না।শুনেই হাসি পাচ্ছে।😂😂

---ওই হাসবে না।বিষয়টা আমার কাছে সিরিয়াস মনে হয়েছে তাই তোমাকে বলার জন্য ডেকেছি।

---কি কথা বলো।

---বিথীর ব্যাবহার আমার কাছে সুবিধার মনে হচ্ছে না।ওর থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করবে।

পর্বঃ১০ম


আয়নার সামনে গিয়ে দেখি আমার নিচের ঠোঁট টা হাল্কা কেটে গেছে।শয়তান রাক্ষস মাইয়া আমার ঠোঁট টা শেষ করে দিলো।

একটা পিচ্চি মেয়ে জোর করে আমাকে কিস করছে এটা কেউ জানলে আমার মান সম্মান সব চলে যাবে।

এসব ভাবছি এমন সময় আম্মু পেছন থেকে বলল,"বিথীকে পড়ানো বাদ দিয়ে এখানে কি করিস?"

---আআআআসলে আম্মু....

---ওই তুই তোললাচ্ছিস ক্যান?

---আমার দিকে ঘুরে দাড়া দেখি তোর কি হয়েছে।

আমি ঘুরে দাড়ালাম। আম্মু আমার ঠোঁট কাটা দেখে বলল, "অমন করে তোর ঠোঁটে কি কামড় দিছে?

Green Bangla Romantic Love Story


আমি কিছু বলতে যাবো এমন সময় বিথী এসে বলল," আন্টি অনিক ভাইয়াকে বড় পিঁপড়া কামড় দিছে।আমি নিজে দেখেছি।"

কি মিথ্যাবাদী মেয়েরে বাবা!নিজে ঠোঁট কামড়ে এখন বেচারা নির্দোষ পিঁপড়া কে দোষারোপ করছে।কিন্তু আম্মু কে যদি সত্যি টা বলে দেই তাহলে আমার কথা বিশ্বাস করবে না।আপাতত বিথীর কথায় সায় দেওয়াই উচিত মনে করলাম। এজন্য আমিও বললাম,"হ্যাঁ আম্মু একটু আগে একটা বড় পিঁপড়া সেই জোরে কামড় দিছে।পিঁপড়াটার একটুও দয়ামায়া নাই।দেখো কামড় দিয়ে  আমার ঠোঁটটা করছে কি?"

----তোদের দুজনের মাথা পাগল হয়ে গেছে।পিপড়া কখনও কামড় দিয়ে রক্ত বের করতে পারে?((আম্মু))

----আম্মু কালো মোটা বড় পিঁপড়া।

---পিঁপড়া কাটুক আর যেই কাটুক রক্ত বের হচ্ছে। আমার সাথে আয়।ওষুধ লাগিয়ে দিচ্ছি।

আমি আর কোনো কথা না বলে আম্মুর সাথে রুমে আসলাম।বিথী ওর মতো দোতলায় চলে গেল।

ওষুধ লাগিয়ে দিয়ে আম্মু বলল,"ওই হারামজাদা পিচ্চি মাইয়া তোর ঠোঁট কামড়ে রক্ত বের করে দিছে আর তুই কিছুই করতে পারিস নাই😡😡

---আম্মু তুমি কি সব বলতেছো আমি কিছুই বুঝছি না।

---আমার কাছে নাটক করবি না।আমি তোর ঠোঁট দেখেই বুঝেছি এসব ওই বদমাইশ মাইয়ার কাম।

আম্মুর কথা শুনে মনে হলো আমি লজ্জায় মরে গেলাম।কি বলবো ভেবে না পেয়ে উঠে চলে এলাম।

ধুর মা ও টের পেয়ে গেল।এখন আম্মু যদি আব্বু কে বলে তাহলে আমার কপালে কি হবে আল্লাহ ভলো জানে।

উল্টাপাল্টা চিন্তা করতে করতে সন্ধ্যা হয়ে গেল।রুমে বসে ফোন টিপছি এমন সময় তিথী এসে বলল রেডি হতে।

আমি ভাবলাম কি ড্রেস পড়ে যাওয়া যায়? কিন্তু কোনো ড্রেস সিলেক্ট করতে পারছি না।

আম্মু এসে বলল,"তিথীর সাথে কখন যাবি?"
---এইতো একটু পর।কিন্তু কোন ড্রেস পড়বো বুঝছি না।

---বোকা ছেলে পাঞ্জাবি পড়ে যা।

আম্মু আমার নীল পাঞ্জাবি টা দিয়ে বলল,"এটাতে তোকে সুন্দর মানাবে।"
আমি আর কথা না বাড়িয়ে রেডি হয়ে নিচে অপেক্ষা করতে লাগলাম।

একটু পর তিথী আসলো।তিথী নীল শাড়ি পড়েছে।নীল শাড়িতে তিথীকে নীল পরীর মতে মনে হচ্ছে। আমিতো কখনও পরী দেখিনি।হয়তো পরীরা এমন ই দেখতে।
আমাকে হা করে তাকিয়ে থাকতে দেখে তিথী বলল,"ওই এভাবে না দেখে একটা রিকশা ভাড়া করো।

আমি একটা রিকশা ঠিক করলাম।এরপর দুজনে রিকশায় উঠে বসলাম।

তিথী আমার হাতে একটা উপহার বাক্স ধরিয়ে দিলো।
আমি বললাম,"এটা আমি ধরবো কেন?"

---চুপচাপ ধরে রাখো।আর বেশি কথা বলবে না।

---কি মেয়েরে বাবা।আমাকে শাসন করছে।

কিছুক্ষণ পর তিথীর বান্ধবীর বাসার সামনে চলে আসলাম।রিকশা থেকে নেমে ভাড়া টা আমি দিয়ে দিলাম।

এরপর তিথী আমাকে সঙ্গে করে ওর বান্ধবীর বাসায় নিয়ে গেল।

ভেতরে অনেক মানুষ।তবে সুন্দরী মেয়েদের আনাগোনা একটু বেশি।

তিথী আমাকে বলল,"ওই শোনো,কোনো মেয়ের দিকে তাকাবে না বলে দিলাম।যদি দেখি তাহলে গিয়ে আন্টিকে বলে দিবো।"

---তিথী এটা কিন্তু ঠিক না।

---কি ঠিক, কি ভুল সেটা আমি দেখবো।আপাতত এখন আমার সাথে চলো।

আমি আর কথা না বলে তিথীর সাথে যেতে লাগলাম।

দেখি সামনে একটা মেয়ে অনেক সেজেগুজে সবার সাথে কথা বলছে।আন্দাজ করলাম হয়তো ওটাই তিথীর বান্ধবী।

আমার আন্দাজ সঠিক হলো।তিথী গিয়ে ওই মেয়েকে গিয়ে জড়িয়ে ধরে উইশ করে গিফট বাক্স টা দিলো।

দেখলাম তিথীর সব বান্ধবীরা এসেছে।এতো মেয়ের মাঝে নিজেকে এলিয়েন মনে হচ্ছে।

আমি কি করবো ভেবে পাচ্ছি না।হাটতে হাটতে তিথীর থেকে কিছুটা দূরে এসেছি।এমন সময় একটা মেয়ে এসে বলল,"আপানাকে তো চিনতে পারলাম না?"

---আমি অনিক।আর আপনি?

---আমি রাইসা।নিপার ছোট বোন।

---এই নিপাটা আবার কে?(মনে মনে ভাবতে লাগলাম)
হয়তো নিপাটা তিথীর বান্ধবীর নাম হতে পারে।যার আজকে বার্থডে। তাই আমি আন্দাজে বললাম,"নিপার বার্থডে এ্যারেজমেন্ট টা সুন্দর হয়েছে।

---রাইসা বলল,"হুমমম।

এরপর রাইসার সাথে টুকিটাকি কথা বলতে লাগলাম।একটু পর দেখি তিথী এসে হাজির।

আমাকে রাইসার সাথে কথা বলতে দেখে ও মনে হচ্ছে রাগে কটমট করছে।কিন্তু সেটা প্রকাশ না করে আমার হাত ধরে বলল,"চলো তোমাকে আমার বান্ধবীদের সাথে পরিচয় করিয়ে দেই।"

এই বলে আমাকে নিয়ে ওর একঝাঁক বান্ধবীর সামনে নিয়ে গেল।

এরপর তিথী আমাকে দেখিয়ে ওর বান্ধবিদের কে বলল,"এটা আমার বনফ্রেন্ড।নাম অনিক।তোদের কে একটা সারপ্রাইজ দিতে চেয়েছিলাম, কেমন লাগলো সারপ্রাইজটা?"

তিথীর সব বান্ধবী আমাকে আর তিথীকে অভিনন্দন জানাতে লাগলো।

আমি তো পুরা অবাক হয়ে গেছি।কারণ তিথী বলেছিল ওর বান্ধবীরা সবাই আমাকে চেনে।কিন্তু এখানে এসে দেখি ওরা কেউ আমাকে চেনে না।উল্টো তিথী ওদেরকে বলেছে আমি ওর বয়ফ্রেন্ড।

যখন ওর বান্ধবী রা কেউ জানে না তখন এমন টা আমার সাথে না করলেও পারতো।ইচ্ছে হচ্ছে কষে থাপ্পড় দিতে।কিন্তু এতো লোকের সামনে বলে কিছু বললাম না।

রাস্তায় গিয়ে এর শোধ নিবো।

আর কিছুক্ষণ পর কেক কাটা হলো।এরপর খেয়ে ওখান থেকে তিথীর সাথে বেরিয়ে আসলাম।

---তিথী এমন মিথ্যা বলার কি দরকার ছিল?

---আমি কি মিথ্যা বললাম?

---এইযে তোমার বান্ধবীরা কেউ জানতো না তোমার বয়ফ্রেন্ড আছে।কিন্তু শুধু শুধু আমাকে ওদের সামনে তোমার  বয়ফ্রেন্ড বানালে কেন?

---তিথী চুপ করে আছে।

আমি আবার বললাম চুপ করে না থেকে আমার কথার জবাব দাও।

---তিথী আমার দিকে ঘুড়ে দাড়ালো।এরপর আমার চোখের দিকে তাকিয়ে বলল,"অনিক তোমাকে অনেককিছু বলতে চাই।এখন তুমি আমার সামনে আছো। কিন্তু কিভাবে শুরু করবো ভেবে পাচ্ছি না।আমার জীবনে অনেক ছেলে দেখেছি। কিন্তু তোমাকে সবার থেকে আলাদা মনে হয়েছে।যেদিন তুমি আমাকে প্রপোজ করেছিলে সেদিন থেকেই তোমাকে নিয়ে ভাবতে থাকি।এরপর তোমার সাথে ভার্সিটি যাওয়া আসা,তোমার সাথে দুষ্ট মিষ্টি ঝগড়া করতে করতে কখন যে তোমাকে ভালেবেসে ফেলেছি নিজেও জানি না।আমি সত্যি তোমাকে ভালোবাসি। I Love You Onick.

বলে আমাকে জড়িয়ে ধরলো।তিথীর প্রপোজ করা দেখে আমি তো পুরা শকড হয়ে গেলাম।কি বলবো ভেবে পাচ্ছি না।
গতকাল বিথী, আর আজকে তিথী। এরা দুই বোন মনে হয় পাগল হয়ে গেছে।

---ওই কথা বলছো না না কেন?((তিথী)

---কি বলবো?

---আমি যা বলছি তার উওর দাও।

---আমার ভাবতে হবে।

---এতো ভাবাভাবির কি আছে?

---তুমি এসব বুঝবে না।

----ওই মাঝ রাস্তায় কি এভাবে দাড়িয়ে থাকবো নাকি বাসায় যাবে?

আমি আর কথা না বাড়িয়ে একটা রিকশা ভাড়া করে আনলাম।

রিকশা করে বাসার সামনে নেমে রিকশা ভাড়া দিয়ে  দিলাম।

দেখলাম তিথী এখনও যায়নি।

---আমি বললাম,"এখনো রুমে যাওনি ক্যান?"

---তোমাকে একটা কিছু দেওয়ার আছে।

---(প্যারা ছাড়া আমাকে আবার কি দিবে ভাবতে লাগলাম।কিন্তু ভেবে পেলাম না।)

---তিথী বলল, "তুমি আমার এক সিঁড়ি নিচে দাড়াও।"

আমি ওর কথা মত এক সিঁড়ি নিচে দাড়ালাম।ও আমার দিকে ঘুরে চোখের পলকে আমার ঠোঁটে কিস করে বসলো।প্রায় দুই মিনিট পর আমাকে ছেড়ে দিয়ে দৌড়ে পালালো।

এমন রোমান্টিক অত্যাচারে আমি তো পুরা অবাক হয়ে গেছি।মনে হচ্ছে আমি স্বপ্ন দেখছি।কিছুক্ষণ পর আমি রুমে ঢুকলাম।

আমাকে দেখেই আম্মু বলল,"তোর ঠোঁট তো একদিনেই বারোটা বাজিয়ে দিলো।বাকি দিন লুচ্চা মাইয়াদের হাত থেকে কিভাবে বাঁচবি? "

পর্বঃ ৯



আকাশ আমাকে বাসার সামনে বাইক থেকে নামিয়ে দিলো।বাসাতে ঢুকতেই বড় রকমের শক খেলাম।

দেখি আব্বু আম্মু দুজনেই জেগে আছে।
আব্বু আমার দিকে রাগি চেহারা নিয়ে বলল,"শয়তান এতো রাতে বাইরে কি করেছিস বল?"

আব্বুর ধমক শুনে আমার গলা শুকিয়ে গেল।কি বলবো ভেবে পাচ্ছি না।এই আব্বুর ধমক শুনলে আমার মাথা কাজ করে না।

আমি কিছু বলছি না দেখে আবার আব্বু বলল,"ওই কথা বলছিস না ক্যান?"

---আসলে আব্বু....

আমার কথার মাঝখানে আম্মু আমাকে থামিয়ে দিয়ে বলল,"ছেলেকে কেউ এভাবে ধমকায়?"

---তোমার ছেলে রাত দুটায় বাসায় ফিরবে আর আমি শাসন করতে পারবো না এটা তো হবে না।

---তুমি আমার ছেলেকে কিছুই বলতে পারবে না।

---এহ বলছে।ছেলে খালি ওর একার।

আব্বু আম্মুর এমন চলতে থাকলে একটু পর ঝগড়া লেগে যাবে।তাই আমি বললাম,

"তোমরা দুজন ঝগড়া থামাবে নাকি আমি বাড়ি ছেড়ে চলে যাবো?" এই বলে আমি রুমে চলে আসলাম।

তারাতাড়ি দরজা আটকে শুয়ে পড়লাম।যাক আজকের মতো বেঁচে গেছি।

আসলেও এতো রাত করে বাসায় আসা ঠিক হয়নি।কিন্তু রাফির জন্য এসব করতে দেরী হয়ে গেল।কিন্তু এসব তো আর আব্বু আম্মুকে বলা যায় না।

আর কোনো কিছু না ভেবে ঘুমিয়ে পড়লাম।

সকালে আম্মুর ডাকে ঘুম ভাংলো।

মা বলল,"বাজার করে আনতে।"

মায়ের বাধ্য ছেলের মতো বাজার করে আনলাম।

রুমে এসে দেখি তিথী দুবার কল করছে।এতো সকাল সকাল কেন কল করছে ভেবে পেলাম না।ভাবতে লাগলাম কল দিবো কিনা? একটু পর আবার তিথী কল করলো।

---হ্যালো।((আমি))

---ওই ফোন ধরো না ক্যান?দেখো তো কতবার কল করছি।(তিথী রাগী গলায় বলল)

---মাত্র দুবার কল দিয়ে এতো ঝাড়ি দিচ্ছো ক্যান?

---জরুরি কথা আছে।এজন্য কল দিছি।

---তা কি তোমার জরুরি কথা শুনি?

---ফোনে বলা যাবে না।তুমি ছাদে আসো বলে কল কেটে দিলো।

কি আজব রে।কি এমন কথা যা শোনার জন্য আবার ছাঁদে যেতে হবে?

এতো ভেবে কি হবে?আগে গিয়ে শুনি কি বলে।

একটু পর ছাঁদে গিয়ে দেখি তিথী দাঁড়িয়ে আছে।আমাকে দেখেই বলল,"এতোক্ষণ লাগে আসতে?"

---মাত্র ৫ মিনিট দেরি হইছে।এজন্য এতো রিএক্ট করার কি আছে বুঝি না।

---অপেক্ষা করা কতটা কষ্ট তা তুমি কি বুঝবে?

---তোমার এসব ফালতু কথা বাদ দিয়ে বলো কিজন্য ডাকলে?

---আসলে আমার কথাটা কিভাবে নিবে সেটা নিয়েই টেনশনে আছি।

---আমার সাথে এতোকিছু করার পর ও আমাকে নিয়ে তোমার টেনশন হয়😂😂

---দেখো অনিক ফাজলামি করবে না।

---আমি হাসতে হাসতে বললাম,"আচ্ছা ফাজলামি করবো না।এখন বলো আমাকে কি করতে হবে।"

---তিথী বলল,"আমাকে প্রমিজ করো কাজটা করবে?"

---আচ্ছা আমি কি তোমার কোনো কাজ না করছি?

---আমি অতকিছু জানি না।প্রমিজ করো নাহলে আন্টিকে গিয়ে বলবো তুমি আমাকে প্রপোজ করছো।

---কিহ!এমন কাজ তুমি করতে পারো না।এসব আমি মানি না।

---প্রমিজ করো কাজটা করবে।তাহলে আন্টিকে এসব বলবো না।

---কি মেয়েরে বাবা।খালি ব্ল্যাকমেইল করে।কোন দুঃখে যে প্রপোজ করছিলাম।কোনো উপায় না পেয়ে বললাম,"আচ্ছা প্রমিজ করলাম কাজটা করবো।" এখন বলো কাজটা কি?

---তিথী বলল,"আজকে আমার বান্ধবীর বার্থডে। ওখানে তোমাকে আমার সাথে যেতে হবে।"

---এই সিম্পল কাজের জন্য আবার প্রমিজ করানো লাগে নাকি😑😕

----আরে আসল কাজটার কথাটা তো ভুলেই গেছি।

---দেরী করছো ক্যান?ওটাও বলো।

---আমার বান্ধবী রা সবাই জানে তুমি আমার বয়ফ্রেন্ড। তাই তোমাকে আমার বয়ফ্রেন্ডের অভিনয় করতে হবে।

---তিথীর কথা শুনে মনে হলো আমি আকাশ থেকে পড়লাম।মাইয়া বলে এসব বলে কি।আমি তিথী কে বললাম, "তোমার মাথা ঠিক আছ তো?"

---তিথী বলল,"আমার মাথা ঠিকই আছে।"

---তাহলে আমি তোমার বয়ফ্রেন্ড হলাম কখন?

---যেদিন কলেজে প্রপোজ করছো সেদিন থেকে।

---কতবার বলবো সেদিন ফান করে প্রপোজ করছি।

---আমি এতোকিছু বুঝি না।তুমি আমার কথা না শুনলে আমি সত্যি সত্যি আন্টিকে বলে দিবো। বলে তিথী ছাদ থেকে নামতে লাগলো।

---আমি বললাম,"কই যাও?"

---আন্টির কাছে।তার ছেলের কুকর্মগুলো গুলো বর্ণনা করতে।

তিথী আর থামলো না।সরাসরি নিচে গিয়ে আম্মু কে ডাকতে লাগলো।
তিথীর ডাক শুনে আম্মু বেরিয়ে এসে বলল,"মা তিথী কি হয়েছে?এভাবে ডাকছো কেন?"

---আপনার গুনধর ছেলে কি করছে শুনবেন?

এই মনে হয় বাশ খেয়ে গেলাম।এখন তো মনে হয় সত্যি সত্যি প্রপোজ করার কথা বলে দিবে।যদি বলে তাহলে আম্মু আব্বু দুজনে আমাকে পিটিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করবে।আশু বিপদের কথা মাথায় রেখে বললাম,"ওই আমি কিছুই করিনি?"

আম্মু আমাকে চুপ করতে বলে তিথীকে বলল,"অনিক কি করছে বলো?"

---আসলে আন্টি আজকে আমার বান্ধবীর বার্থডে। এজন্য আমাকে ইনভাইট করছে।কিন্তু আম্মু আমাকে একা একা যেতে দিবে না।এজন্য আপনার ছেলেকপ কত করে বলছি আমার সাথে যাওয়ার জন্য। কিন্তু ও আমার কথা শুনছেই না।এখন যদি বান্ধবীর বাড়িতে না যাই তাহলে ও মন খারাপ করবে।এখন বলেন আমি কি করবো?

তিথীর কথা শুনে আম্মু কিছুক্ষণ চুপ করে রইলো।এরপর বলল,"অনিক তিথীকে ওর বান্ধবীর বাসায় নিয়ে যাবি আসবি।মনে থাকে যেনো।"

---কিন্তু আম্মু....
---তোর কোনো বাহানা শুনতে চাচ্ছি না। তুই তিথীর সাথে যাবি এটাই ফাইনাল।

আম্মু তো আসল কাহিনি না জেনেই তিথীর সাথে যেতে বলল।এখন আম্মু যখন বলেছে যেতেই হবে।ওখানে যে কি আবার হবে আল্লাহ ভালো জানে।

তিথী আমার কাছে এসে ফিসফিস করে বলল,"কি মি. অনিক যাবে না বললে,এখন তো ঠিকই রাজি হলে।এরপর যদি আমার কথার অবাধ্য হয়েছো তাহলে তোমার খবর আছে।"

----দেখো তিথী কাজটা ঠিক করলে না।

---কি ঠিক আর কি ভুল সেটা আমি ভালো করে জানি।সো এটা আমাকে বুঝাতে আসবে না কেমন।আর হ্যাঁ সন্ধ্যায় রেডি থাকবে।

----তাহলে রাতে তো বিথীকে পড়ানো হবে না।

বিথীর পড়ানো নিয়ে তুমি এতো টেনশন করছো কেন?
Green Bangla Romantic Love Story



---ওর তো সামনে পরিক্ষা। এটা তো তোমাকে মাথায় রাখতে হবে।

---একদিন না পড়ালে কিছুই হবে না বুঝলে।

আমি আর কথা না বাড়িয়ে রুমে চলে আসলাম।

একটু পর ভার্সিটিতে যেতে হবে।নাস্তা করে রেডি হয়ে তিথীর সাথে ভার্সিটিতে চলে আসলাম।আসার সময় একটা কথাও বলিনি।

ক্লাস শেষে তিথীকে ফোন দিলাম।তিথী বলল,"ওর যেতে দেরী হবে।"

আর আর ওর জন্য অপেক্ষা না করে বাসায় চলে আসলাম।

দুপুরে ঘুমিয়ে আছি।মনে হচ্ছে কে যেন আমাকে ধাক্কা দিচ্ছে। চোখ খুলে দেখি বিথী দাঁড়িয়ে আছে।

---আমি বিথীকে বললাম,"আমার রুমে কি করছো?"

---আপনার রুমে আসা মানা নাকি?

---হুম মানা।

---তাও আমি আসবোই।

---এই সময় আম্মু যদি ওকে আমার রুমে দেখে তাহলে খারাপ কিছু ভাবতে পারে।এজন্য বিথীকে বললাম,"দেখো আম্মু দেখলে আবার মাইন্ড করবে।তুমি এখন যাও।"

---শ্বাশুড়ি আম্মা ই আমাকে আসার অনুমতি দিয়েছে।সো উনি আমাকে কিছুই বলবে না।

---ওই পিচ্চি মাইয়া তুমি আমার আম্মু কে শ্বাশুড়ি বলছো ক্যান?

---তো শ্বাশুড়ি কে কি বলবো?

---হুর, তোমার মাথাট তাঁর ছিড়ে গেছে।মাথার ডাক্তার দেখাও।

---আমার ডাক্তার তো আপনি। আপনি আমার হলে আমি এমনি ভালো হয়ে যাবো।

---বিথী তোমাকে গতকাল এসব বিষয় নিয়ে কথা বলতে মানা করছি।তারপরও শুনছো না ক্যান?

----এইযে মিষ্টার আমাকে আপনি বাঁধা দিতে পারবেন না। আমি আমার ভালোবাসা আদায় করে ছাড়বো।

---তোমাকে আমি আগেই বলছি আমার গার্লফ্রেন্ড আছে।

---আমাকে মিথ্যা বলে লাভ নাই।তোমার বিষয়ে সব খোঁজ নেওয়া শেষ।আর এটাও জানি তোমার কোনো গার্লফ্রেন্ড নাই।

---হায়! হায়!! এই মাইয়া এসব জানলো কিভাবে?(মনে মনে বললাম)

---ওই বিরবির করে কি বলেন?

---সেটা শুনে তুমি কি করবে?

---এখন থেকে আপনার সব কিছু জানার অধিকার আমার আছে বুঝলেন।

---দেখো বিথী তুমি একটা পিচ্চি মেয়ে।তোমার সাথে আমাকে মানায় না।

---ওই আমি পিচ্চি! দাড়ান দেখাচ্ছি আমি পিচ্চি না। এই বলে বিথী আমার উপর ঝাপিয়ে পড়ে আমার ঠোঁটে কিস করে বসলো।

টানা দুই মিনিট কিস করার পর আমাকে ছেড়ে দিলো।আরেকটু হলে আমার দম বন্ধ হয়ে যেত।

---বিথি বলল,"এবার তো মনে হয়েছে আমি পিচ্চি না।"

---লুচ্চা মেয়ে আমার ঠোঁট টা কামড় দিয়ে দাগ বসিয়ে দিছে।তোমাকে এর শাস্তি পেতেই হবে।

---কি শাস্তি দিবেন শুনি?

---ইচ্ছে করছে থাপ্পড় দিতে।

---থাপ্পড় দিতে হবে না।চাইলে আপনি আমাকে কিস করতে পারেন। বলে ওর ঠোঁট আমার দিকে এগিয়ে দিতে লাগল।

এই মাইয়ার সাথে আর কিছুক্ষন থাকলে আমার কিছু করা লাগবে না।ও সব কিছু করে ফেলবে।এর ভেতর মা যদি দেখে তাহলে এই পাগলি মেয়েকে আমসর গলায় ঝুলিয়ে দিবে।এর চেয়ে রুম থেকে কেটে পড়া ভালো।

আমি বিথীকে বললাম,"দেখো আমার আম্মু দরজায় দাড়িয়ে সব দেখে ফেলছে।"
আমার কথা শুনে বিথী ঘুরে তাকালো।এই সুযোগে আমি লাফ দিয়ে খাট থেকে কেটে পড়লাম।

যাক বাবা এখনকার মতো বাঁচলাম।

আয়নার সামনে গিয়ে দেখি আমার নিচের ঠোঁট টা হাল্কা কেটে গেছে।শয়তান রাক্ষস মাইয়া আমার ঠোঁট টা শেষ করে দিলো।

একটা পিচ্চি মেয়ে জোর করে আমাকে কিস করছে এটা কেউ জানলে আমার মান সম্মান সব চলে যাবে।

পর্বঃ ৮ম



---এইযে ম্যাডাম আসুন,রিকশা পেয়েছি।

তিথী রিকশায় উঠলো,তারপর আমি উঠলাম।রিকশা চলতে শুরু করলো ভার্সিটির উদ্দশ্যে।

আমি চুপচাপ হয়ে বসে আছি।

---নিরাবতা ভেঙ্গে তিথী বলল,"আমাকে একটা সাহায্য করতে পারবে?"

---কি সাহায্য?

---তোমাকে বললে তুমি কেমন ভাবে নেবে?

----আমি আবার কেমন ভাবে নেবো?

---আমি তো তোমাকে সবসময় ব্ল্যাকমেইল করি।তাই তুমি যদি না করো?

---তোমার কথায় কখন না করলাম?তাছাড়া তুমিতো আমার মায়ের কাছ থেকে স্পেশাল অর্ডার  নিয়েছো।যার কারনে আমি তোমার সব কথা শুনতে বাধ্য।(অভিমানি কন্ঠে বললাম)

---অর্ডার তো নিছি।কিন্তু তোমার উপর সবসময় তোমার উপর চাপ দেওয়া কি ঠিক?

---অন্যসময় আমার উপর যেকোনো কাজ জোর করে চাপিয়ে দাও আর এখন  কি দরদ দেখেচ্ছো কারণটা কি জানতে পারি?

---তোমাকে দেখলে কেমন  বাচ্চা বাচ্চা লাগে।

---কিহ! আমি বাচ্চা!

---তুমি তো মেয়ে মানুষ দেখে ভয় পাও।এজন্য তোমাকে বাচ্চা না বলে গাধা বলা উচিৎ।

---ওই আমি গাধা না।

---আমি যা বলি তুমি তা গাধার মতোই করে দাও।এজন্য তুমি একটা গাধা।

---আমাকে কিন্তু চরম অপমান করা হচ্ছে।

---হুম করছি,তুমিও পারলে করো।

---আমি বললাম,"আজকেই আন্টিকে গিয়ে সব বলে দেবো।"

---আমার আম্মুকে কি বলবে?(তিথী)

---যা বলার আন্টিকে বলবো।এখন তুমি বসে থাকো।

--- তুমি শুয়ে থেকো।

---তোমার সাথে ঝগড়া করতে ইচ্ছা করছে না।

---হুম ভালো।

ভার্সিটিতে পৌচ্ছানোর পর গতদিনের মতো আজকেও আমার রিকশা ভাড়া দেওয়া লাগলো।এরপর ক্লাসের উদ্দশ্যে চলতে শুরু করলাম।পেছন থেকে তিথী আমাকে ডাক দিলো।

---কিছু বলবে?

---হুম।

---কি?

---রিকশাতে বললাম না একটু সাহায্যর করার কথা।

---হুম বলেছিলে।তা আমাকে কি করতে হবে?

---আজ ক্লাস শেষ করে আমি শপিং করবো।তুমি যদি আমার সাথে যেতে তাহলে আমার উপকার হতো।

---শুনেছি মেয়েদের শপিং করতে অনেক সময় লাগে।আজ তাহলে কখন শপিং শেষ হবে আল্লাহ ভালো জানে।(মনে মনে বললাম)

---কিছু বললে না যে?

---এই কথা বলতে গিয়ে রিকশাতে আমার সাথে কতক্ষণ ঝগড়া করলে।

---তুমি তো ঝগড়া বাধিয়েছো।

---এখন যতো দোষ সব আমাকে দিচ্ছো।

---ওসব কথা বাদ দাও।আমার সাথে যাবে কি না?

---না গেলে আম্মুকে আবার কি সব উল্টাপাল্টা বলবে।এরচেয়ে সাথে যাওয়া ভাো।এজন্য বললাম,"আচ্ছা যাবো।"

---ওকে তাহলে আমি ক্লাসে গেলাম।

আমিও চললাম ক্লাসের দিকে।ক্লাসে গিয়ে দেখি রাফি মন খারাপ করে বসে আছে।

---এভাবে মন খারাপ করে বসে আছিস ক্যান?

---তোকে কি আবার সব কথা বলতে হবে?

---হায় আল্লাহ!দেখছি আমার বন্ধুর রাগও আছে।তবে আমার উপর রাগ না দেখিয়ে তোর ভিলেন হবু শ্বশুরের উপর রাগ দেখালে ভালো হতো।

---আমার হবু শ্বশুর হলো কোথায়?ওর মেয়েকে তো অন্য যায়গায় বিয়ে দিয়ে দিচ্ছে।

---বললেই কি বিয়ে দেওয়া হয়ে গেলো?এতো টেনশন করিস না। আমি তো আছি।

---তুই আমাকে শান্তনা দেওয়া ছাড়া আর কি করতে পারবি?

---তুই আমার জানের দোস্ত।তোর জন্য সব করতে পারি।

তুই কি পারবি মিমকে আমার কাছে এনে দিতে?

---না পারলেও তোর জন্য আমাকে পারতে হবে।তুই মন খারাপ করিস না।

---ক্লাস শেষ করে ক্যান্টিনে বসে আছি।এমন সময় তিথী ফোন করলো।

---হ্যালো কোথায় তুমি?

---এইতো ক্যান্টিনে বসে আছি।

---তুমি তারাতারি ভার্সিটি গেইটে চলে আসো।

---আচ্ছা আসছি।

---এই মেয়ের জন্য কোনো কিছুতে শান্তি নেই।দোস্ত তোরা থাক আমাকে এখন যেতে হবে।

---বন্ধুরা বলল,"আচ্ছা যা।"

মাথায় রাফির চিন্তা ঘুরপাক খাচ্ছে।কি যে করি!তার উপর আছে ওরা দুই বোন।সব মিলিয়ে পাগল হওয়ার অবস্থা।

---আমাকে একটু দেরী করে আসতে দেখে তিথী বলল,"এইটুকু পথ আসতে তোমার এতো সময় লাগে?"

---আমার তো ডানা নেই যে তুমি ডাকা মাত্র সেখানে উড়ে হাজির হবো।

---ফালতু কথা বাদ দিয়ে রিকসায় উঠো।শপিং করতে যাবো।

আমি আর কোনো কথা না বলে রিকশায় উঠে বসলাম।

তিথী অনেক্ষণ ঘুরে ঘুরে  শপিং করলো।শপিং শেষে বসায় আসলাম।

---আজ এতো দেরি করলি যে।

---আম্মু একটা কাজে আটকে গেছিলাম।

---কি কাজ?

---ওটা তোমার না জানলেও হবে।

---হাত মুখ ধুয়ে আয়।আমি টেবিলে খাবার দিচ্ছি।

---আচ্ছা আম্মু।

খাওয়া শেষ করে শুয়ে পরি।এখন মিমকে নিয়ে পালানোর একটা প্ল্যান করতে হবে।অনেক ভেবে একটা প্ল্যান করলাম।কিন্তু কাজটা বাস্তবায়ন করতে হবে।

বাস্তবায়ন কাল রাতে করা যাবে।এখন কিছুটা সময় ঘুমিয়ে নেই।সন্ধ্যার সময় আবার বিথীকে পড়াতে হবে।

ঘুম থেকে উঠলাম সন্ধ্যার আগে।কিছুক্ষণ এদিক সেদিক ঘুরাঘুরি করে এলাম যাতে মনটা ভালো থাকে।সন্ধ্যার পর গেলাম প্রাইভেট পড়াতে।

---আমাকে দেখে বিথী বলল,"স্যার আপনি দেখছি একদম ঠিক সময়ে চলে আসছেন।"

---আসলাম আরকি।আজেবাজে কথা বাদ দিয়ে পড়তে বসো।

---স্যার আমি তো পড়ার জন্য আপনাকে স্যার বানাইনি।

---তো কেনো আমার কাছে পড়তে জেদ করলে?

---আমার কেনো জানি সবসময় আপনার কথা মনে পরে।ইচ্ছা হয় সবসময় আপনার সাথে কথা বলি।

---ওই তোমার ফিল্মি কথা বাদ দিয়ে পড়তে বসো।

---স্যার আমি কিন্তু সত্যি বলছি।

---কি সত্যি হ্যা?(রেগে বললাম)

---আমি আপনাকে ভালোবাসি।

---ওই মেয়ে তোমার মাথা ঠিক আছে তো।

---আগে ঠিকই ছিলো কিন্তু যেদিন আমাকে থাপ্পর মারলেন সেদিন থেকে আমার মনে যায়গা করে নিলেন।

---হায় আল্লাহ! থাপ্পর খেয়ে কি কেউ প্রেমে পরে?

বিথী আমার দিকে তাকিয়ে বলতে শুরু করলো,
তবু তোমার প্রেমে আমি পরেছি,
বেচে থেকেও যেনো মরেছি।
থাপ্পর খেয়ে তোমার প্রেমে পরেছি.......

---ওই তোমার এই ফালতু গান বলা বন্ধ করো।

---কেনো স্যার?ভালো লাগছে না বুঝি?

---থাপ্পর খেয়ে কি কেউ প্রেমে পরে?

---আমি পরেছি।

---থাপ্পর দিয়ে তোমার ভালোবাসার ভূত ছাড়াতে হবে।

---ভালোবাসা কি অপরাধ?

---না,তবে ভুল মানুষকে ভালোবাসা অপরাধ।

---আপনি কি কাউকে ভালোবাসেন?

---হ্যা ভালোবাসি।(মিতুর হাত থেকে বাঁচতে মিথ্যা বললাম।

---আমি আপনাকে ছাড়া বাঁচবো না।

----তোমার এই সব ন্যাকামি বাদ দিয়ে পড়তে বসো।

---আমি আজকে পড়বো না।আপনি এখন যেতে পারেন।

আমার ভালই হলো।আমি চলে আসলাম।

রাতে খেয়ে ঘুমিয়ে পরি।মাঝ রাতে স্বপ্নে দেখি বিথী সুইসাইড করেছে।এটা দেখার পর আমার ঘুম হারিয়ে যায়।

পড়ানোর সময় ওকে ওভাবে বলা ঠিক হয়নি।একটু বুঝিয়ে বললেই হতো।এখন যদি উল্টাপাল্টা কিছু করে বসে!তাহলে আমি নিজেকে ক্ষমা করতে পারবো না।

সারা রাত উল্টাপাল্টা চিন্তায় ঘুম হলো না।

সকালে নাস্তা করে চললাম ভার্সিটিতে।তিথীর আম্মু অসুস্থ। এজন্য তিথী আসেনি।এতে আমার ভালোই হয়েছে।শান্তিমতো যেতে পারছি।হঠাৎ বিথীর কথা মনে পরে মনটা খারাপ হয়ে গেলো।

ভার্সিটিতে এসে পরছি।কথামতো আকাশ আর রাফি গেইটে দাড়িয়ে আছে।
---রিকসা থেকে ওদের কাছে গেলাম।

---আকাশকে বললাম,"দোস্ত তোর বাইকটা আজ আমাকে দিবি।"

আকাশ-- আচ্ছা নিস।

---আকাশ আর রাফি তোরা দুই জন আজকে রাত এগারটার সময় বাসস্ট্যান্ডে অপেক্ষা করবি।

---কোনো?(রাফি বলল)

---রাফির জন্য সারপ্রাইজ আছে।

---তাহলে আমাকে কেনো আসতে হবে?

---ওকে যে সারপ্রাইজটা দেবো তুই তার সাক্ষী হবি।
আচ্ছা আসবো।

---আমার কিছু কাজ আছে।এখনই যেতে হবে।তোর বাইকটা নিয়ে গেলাম।

---ফেরত দিবি কখন?

---রাত্রেই পাবি।

---আচ্ছা এই নে চাবি।

---বাইক নিয়ে চললাম মার্কেটে।কিছু ড্রেস কিনতে হবে।কেনাকাটা শেষ করে বাইরে আসলাম।

---ফোনটা বের করে মিমকে ফোন দিলাম।

---হ্যালো মিম কেমন আছো?

---ভাইয়া ভালো নেই।

---কেনো?

---আব্বু আমাকে জোর করে বিয়ে দিয়ে দিবে।আমি রাফিকে ছাড়া বাঁচতে পারবো না।আপনি কিছু  একটা করেন।

---তুমি কোনো চিন্তা করো না।আজ রাত দশটায় তুমি কি তোমার বাসার বাইরে আসতে পারবে?

---হুম পারবো।

---আমি ফোন দিলে তুমি চুপিচাপি বের হয়ে চলে আসবে।কেউ দেখলে বিপদ আছে।

---আচ্ছা আমি সাবধানে আসবো।

---আচ্ছা এখন তাহলে রাখি।

---রাত ৯টা ৫০ মিনিট, মিমের বাসার সামনে বাইক নিয়ে থামলাম।
ফোনটা বের করে মিমকে ফোন দিলাম।

ও ফোনটা কেটে দিলো।

আমি নিচে অপেক্ষা করতে লাগলাম।
Green Bangla Romantic Love Story


কিছুক্ষণ পর মিতা কালো বোরকা পরে হাতে একটা ব্যাগ নিয়ে বের হয়ে আসলো।

---তুমি তো দেখছি একদম পালানোর প্রস্তুতি নিয়ে বের হয়েছো।

---দুপুরে আপনার কথায় বুঝেছি পালাতে হবে।

---এখানে বেশি কথা বলা যাবে না।তারাতারি বাইকে উঠে বসো।

---মিম বাইকে বসলো।বাইক চালাতে লাগলাম বাস স্ট্যান্ডের দিকে।

কিছুক্ষণ পর বাস স্ট্যান্ড পৌচ্ছে গেলাম।

আমার বলা মতো যায়গায় ওরা দুজন দাড়িয়ে আছে।
বাইক থামালাম।

 আমাকে রাফি জড়িয়ে ধরলো।আমি বললাম,"এই ছাড় আমাকে।আগে নামতে দে।"

---দোস্ত তোর এই উপকারের কথা কোনো দিনই ভুলবো না।

---তুই ও তো দেখছি পালানোর সব প্রস্তুতি নিয়ে এসেছিস।তোর মাথায় এতো বুদ্ধি এলো কোথা থেকে?

---মিম আমাকে সব বলেছে।

---তাই তো বলি।এখন এসব কথা বাদ দে। আগে তোদের বিয়ে পড়াতে হবে।এখন কাজী অফিসে চল।

দুজনের বিয়ে সম্পন্ন হলো।ওদের হাতে দুপুরের কেনা জিনিসগুলো তুলে দিলাম।

---এখানে কি আছে?(রাফি)

---খুলে দেখ।(আমি)

---এসব কখন কিনলি?

---দুপুরে কিনছি।এখন বাস স্ট্যান্ডে চল।রাত ১ টায় তোদের বাস।

---আমাদের বাস মানে?

---তোরা হানিমুনে কক্সবাজার যাচ্ছিস।এই নে বাসের টিকিট।আর এটা তোদের হোটেলের টিকিট।

বাস স্ট্যান্ডে চলে আসছি।রাফির পকেটে পাঁচ হাজার গুজে দিলাম।এরপর ওদের বাসে তুলে দিলাম।একটু পর বাস চলতে শুরু করলো।দুজনকে একসাথে করতে পেরেছি ভেবেই মনের ভেতর অনেক ভালো লাগতে লাগলো।

---আমি আকাশকে বললাম,"রাত অনেক হয়েছে এখন বাসায় যাওয়া দরকার।"

---আকাশ বলল,"আমি তোকে বাসায় নামিয়ে দিয়ে বাইক নিয়ে চলে যাবো।"

---আচ্ছা।

আকাশ আমাকে বাসার সামনে বাইক থেকে নামিয়ে দিলো।বাসাতে ঢুকতেই বড় রকমের শক খেলাম। 

পর্বঃ--৭


এরা দু বোন আমাকে নিয়ে খেলা শুরু করেছে।আমাকে এরা কি করতে চায়?এদের কথায় কিছু বুঝতে পারি না।

এখন এসব নিয়ে ভাবা যাবে না।পড়াতে যেতে হবে।

চললাম জীবনের প্রথম প্রাইভেট পড়াতে।

দোতলায় উঠে কলিংবেল চাপলাম।একটু পর  বিথী দড়জা খুলে দিলো।

ওর দিকে তাকিয়ে চোখ ফেরতে পারলাম না।আসলে বিথীকে লাল শাড়িতে একদম অপরূপ সুন্দরি লাগছে।

---এমন করে কি দেখছেন?

---কিছু না তো।

---আপনার চোখ বলছে আপনি মিথ্যা বলছেন।

---আসলে তোমাকে অনেক সুন্দর লাগছে।

---তাই?

---হুম।

---ধন্যবাদ।

---বাহিরেই দাড়িয়ে থাকবো নকি?

---ওহ!কথা বলতে বলতে ভুলেই গেছি।ভেতরে আসুন।

ভেতরে গেলাম।

---তোমার পড়ার টেবিলে চলো।

---চলুন আমার সাথে।

বিথীর পিছু পিছু চললাম।একটু পর ওর রুমে প্রবেশ করলাম।

আমার রুমের মতো না।বেশ সুন্দর করে গোছানো।এক কথায় রুমটা ভালো লেগে গেলো।

বিথী টেবিলের পাশে একটা চেয়ার দেখিয়ে আমাকে বসতে বলল।আমি চেয়ারে বসে পরলাম।টেবিলের অপর প্রান্তে আরেকটা চেয়ারে বিথী বসলো।

এভাবে কখনও কোনো মেয়ের সামনে বসা হয়নি।তাই ভেতরে ভেতরে ভয় পাচ্ছি।কি বলে পড়ানো শুরু করবো বুঝে উঠতে পরলাম না।

---কি ভাবছেন?

---কিছু না।

---আজকে কিন্তু আমি পড়বো না।

---কেনো পড়বে না?

---এমনি।এটা আমার ইচ্ছা।

---আমি এটা মানতে পারবো না।

---না মানলে কিছুই করার নাই।আর বেশি চলাকি করলে আম্মুর কাছে আগের কথা বলে দেবো।

---যাও বলো গিয়ে।আমি তোমাকে পড়াবোই না।(রেগে বললাম)

---আপনি এতো রেগে যাচ্ছেন কেনো?

---তো তোমার কথা শুনে কি করবো বলো?

---আসলে....

----বলতে হবে না।একটা থাপ্পরের জন্য কান ধরে উঠবস করিয়েছো।এতেও তোমার শান্তি হয়নি।এখন আবার ব্লাকমেইল করছো।

---সরি।
তোমাকে সরি বলতে হবে না।তুমি তোমার আম্মুকে গিয়ে সব বলে দাও।তিনি হয়তো আমাদের বাসা থেকে বের করে দিবে।এতে আমার ভালোই হবে।অন্তত তোমার ব্লাকমেইলের হাত থেকে বাঁচা যাবে।আমি আর এখানে এক মুহূর্ত থাকতে চাই না বলে চেয়ার থেকে উঠে পরলাম।

---বিথী উঠে আমার হাত চেপে ধরলো।

---আমার হাত ধরলে কেনো?

---আপনি এভাবে চলে গেলে আম্মু খুব কষ্ট পাবে।আমি কথা দিচ্ছি আপনাকে আর কখনও ব্লাকমেইল করবো না।

---সত্যি বলছো তো।

---হুম সত্যি সত্যি সত্যি।

---আমার একটা কথা আছে।

---কি কথা?

---তোমাকে পড়ানোর সময় আমাকে স্যার বলবে।

---আচ্ছা চেষ্টা করবো।

---আচ্ছা।

---এখন তাহলে পড়ানো শুরু করেন।

বিথীকে কিছুক্ষণ
 পড়িয়ে চলে আসলাম।

যাক একটার হাত থেকে বাঁচলাম।আরেকটার হাত থেকে বাঁচতে পারলাই হয়।

এই শুভ সংবাদটা রাফিকে দিলে ভালোই হয়।তাই ওকে ফোন করলাম।

 প্রথমবার ফোন দিলাম। ফোন ওয়েটিং।দ্বিতীয় বারও তাই।তৃতীয় বার ফোন ধরলো।

---এতক্ষণ কার সাথে কথা বললি?

--- গার্লফ্রেন্ড ফোন করছিলো।

---তা তোর গার্লফ্রেন্ড কি বলল?

---আর বলিস না।খুব টেনশনে আছি।

---কি হয়েছে আমাকে বল?

---ওর বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে।

---বলিস কি?

---হ্যা রে দোস্ত তুই কিছু একটা কর।

---কবে বিয়ে বল?

---আর ৭ দিন পর।

---তুই কোনো টেনশন করিস না।আমি তোদের পালানোর সব ব্যবস্থা করে দেবো।

Green Bangla Romantic Love Story

---ধন্যবাদ দোস্ত।

---বন্ধুর বিপদে বন্ধু পাশে দাড়ালে না তো কে দাড়াবে?আর ধন্যবাদ দিয়ে তুই ধন্যবাদ দিয়ে আমাদের বন্ধুত্বকে ছোট করিস না।মনে কর এটা আমার কর্তব্য।

---তুই কি যেনো বলতে ফোন দিছিস?
তেমন কিছু না।তোর খোজ নিতে ফোন করছিলাম।(ওকে মিথ্যা বললাম।কারণ ওর এখন কষ্টের সময়।ওকে শান্তনা  না দিয়ে আমার খুশির কথা বললে রাফি  মনে কষ্ট পেত। তাই বললাম না।)

---ও আচ্ছা।

---টেনশন করিস না সব ঠিক হয়ে যাবে।

---ফোনটা কেটে দিলাম।ভেবেছিলাম আজ একটু শান্তিতে ঘুমাবো। তা আর হলো না।

সকালে ঘুম ভাংলো আম্মুর ডাকে।ঘুম থেকে উঠে নামাজ পরলাম।নামাজ শেষ করে ছাদে গেলাম।
আজ আর কেউ ছাদে আসলো না।একটু পর নেমে আসলাম।

নাস্তা করে রেডি হলাম ভার্সিটি যাওয়ার জন্য।হঠাৎ ফোনে একটা মেসেজ আসলো।

---আমাকে ফেলে চলে যেওনা যেনো।
ইতি
     তিথী

আমিও মেসেজ দিলাম।

---তুমি কি কচি খুকি যে একলা যেতে ভয় করে?

---হ্যা আমি কচি খুকি।তুমি আমাকে নিয়ে যাবে।

---আমি তোমাকে সাথে করে নিয়ে যেতে পারবো না।

---কেনো পারবে না?

---এমনি।

---তুমি আমাকে নিয়ে যাবেই।

---আমি তোমার বয়ফ্রেন্ড বা বর না।তাই তোমাকে সাথে নেওয়ার প্রশ্নই উঠে না।

---তোমাকে শেষ বারের মতো বলছি  আমাকে তোমার সাথে নেবে কি না?

---নেবো না।পরলে তুমি কিছু করো।

---ওকে তোমাকে দেখাচ্ছি মজা!

---দেখি তুমি কেমন মজা দেখাতে পারো।

---আচ্ছা।

এদিকে তিথী এসে আম্মুকে বলল,
---আন্টি কেমন আছেন?

---ভালো,তিথী মা তুমি কেমন আছো?

---আন্টি বেশি ভালো না।

---কেনো মা কি হয়েছে?

---ভার্সিটিতে যাওয়ার সময় কিছু বখাটে ছেলেরা বাজে কথা বলে।তাই একা একা যেতে ভালো লাগে না।

---আমি অনিককে বলছি এখন থেকে তোমাকে সাথে করে নিয়ে যাবে নিয়ে আসবে।

---ধন্যবাদ আন্টি।

---অনিক শোন তো।(মা আমাকে বলল)

---আমি রেডি হয়ে একেবারে আসছি।(আমি)

---আচ্ছা আয়।

---তিথী মা তুমি এখানে বসো।

---বসছি আন্টি।

----মা আমাকে ডাকলে কেনো?আর তিথী এখানে কি করছে?

----তোকে ডাকছি এজন্য যে তুই এখন থেকে তিথীকে সঙ্গে করে ভার্সিটিতে নিয়ে যাবি আর নিয়ে আসবি।

---আমি এ কাজ পারবো না।

--- তোকে এই কাজ করতে হবে এই আমার আদেশ।

----তিথী আমার দিকে তাকিয়ে একটা শয়তানি হাসি দিলো।যেটা শুধু আমি দেখতে পেলাম।মেজাজটা খারপ হয়ে যাচ্ছে।মা'র জন্য কিছু বলতে পারছি না।

---আম্মু কিছু বলতে যাবে তার আগে আম্মুকে থামিয়ে তিথী বলল,"থাক আন্টি,আপনার ছেলে যেহেতু আমাকে নিবে তাহলে আমি একাই যাবো।"

---একি বলছো মা,তুমি মেয়ে মানুষ।আমি তোমার কষ্ট বুঝি।তুমি একা বের হলে শয়তানগুলো আবার তোমাকে বিরক্ত করবে।আমি এটা হতে দিতে পারি না।তাই বলছি তুমি অনিকের সাথে যাবে।

---অনিক আমার কথা বুঝতে পারছিস?

---জ্বি আম্মু।

---আর শেন তিথীকে দেখে রাখবি।

---আচ্ছা।

---আর মা তিথী শোনো।

---জ্ব আন্টি বলেন।

---অনিক যদি তোমাকে কিছু বললে নির্ভয়ে  আমাকে এসে বলে দিবে।তারপর আমি ওর ব্যবস্থা করবো।

----আচ্ছা আন্টি।এখন তাহলে আসি।

নিজের আপনজন শত্রুর সাথে হাত মেলালে কেমন লাগে?তিথীকে তো এখন আর কিছুই বলা যাবে না।আমার আম্মুকে নিজের দখলে নিয়ে নিছে।কিছু বললেই আম্মুকে বলে দেবে।

---এইযে ওখানে দড়িয়ে আছো কেনো?(তিথী)

---এমনি।(আমি)

---তারাতারি আসো।

---আসছি ম্যাডাম।

---এই একটা রিকশা ডাকোতো।

---ওই আমি কি তোমার চাকর হয়েছি?

---এখন আপাতত চাকর হিসাবে আছো।

মেয়েটা বলে কি?আম্মু আমাকে ওকে কিছু বলতে বারণ করেছে।তাই বেচে গেলো।

---রেগে লাভ নেই।তারাতারি রিকশা আনো।

---আমাকে না বলে নিজেই তো রিকসা ডাকতে পারো?

---তুমি থাকতে আমি কেনো রিকশা ডাকবো?

---আম্মুর জন্য বেচে গেলে।

--- তোমাকে যা বলেছি তাই করো।

---এই রিকশা এদিকে আসো।

---মামা কই যাবেন?(রিকশাওয়ালা)

---ভার্সিটিতে যাব।যাবে কি?(আমি)

---হ যামু।উঠেন।(রিকশাওয়ালা)

---এইযে ম্যাডাম আসুন,রিকশা পেয়েছি।

তিথী রিকশায় উঠলো,তারপর আমি উঠলাম।রিকশা চলতে শুরু করলো ভার্সিটির উদ্দশ্যে।

Contact Form

Name

Email *

Message *

Powered by Blogger.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget