Green Bangla

Green Bangla Story

Bangla Romantic Love Story

গল্পঃ বাড়িওয়ালির মেয়ে

পর্বঃ১৭তম

লেখকঃ--নিলয়

১৬তম পর্বের পর থেকে.......

বিয়ের শপিং শেষে চারজনে একটা রেস্টুরেন্ট এ ঢুকলাম।তিথী আমার সামনের চেয়ারে বসেছে আর বিথী পাশের চেয়ারে।তিথী বার বার আমার দিকে তাকাচ্ছে। ওর চাহনিতে মনে হচ্ছে আমাকে অনেককিছু বলতে চায়।কিন্তু এখানে কোনো কথা বলা সম্ভব না।কারণ বিথী জানে তিথী আমাকে ভালোবাসে।কিন্তু এটা জানে না আমি কাকে ভালোবাসি। আমি আর ভাবতে পারছি না।মাথাটা কেমন ঝিমঝিম করে উঠলো।আমি ওদেরকে বললাম,"তোমরা খাবারের অর্ডার করো।আমি ওয়াশরুম থেকে আসি।"

ওয়াশরুমে এসে চোখে মুখে পানির ঝাপটা দিলাম।এখন ভালো লাগছে।ওয়াশরুম থেকে বের হয়ে আসলাম।এরপর খেয়ে বাসায় চলে আসি।

বিকেলে ফোনে গেম খেলছি।এমন সময় তিথী কল করলো।আজকে শপিংমলে ওরে দেখেই বুঝেছি আমাকে কিছু বলতে চায়।কিন্তু বিথী সাথে থাকায় কিছু বলেনি।

ভাবতে ভাবতে প্রথমবার কল কেটে গেল।তিথী আবার কল করলো।

এবার কল রিসিভ করলাম।

তিথীঃ হ্যালো।

আমিঃ হুম, কেমন আছো?

---দেখতেই পাচ্ছো কেমন আছি।আবার জিজ্ঞাসা করা লাগে নাকি?

---না বললে জানবো কিভাবে?

---ওসব কথা বাদ দাও যেজন্য তোমাকে ফোন করছিলাম?

---কিজন্য বলো?

---এখন আমার সাথে কি একটু দেখা করতে পারবা?

---কোথায়

---বাসার ছাদে

---আচ্ছা 10 মিনিট পর আসতেছি

আর কিছুক্ষণ পর আমি ছাদে যাই। দেখি তিথী দাঁড়িয়ে আছে।ওকে দেখে মনে হচ্ছে অনেক টেনশনে আছে।

---ম্যাডাম এতো জরুরী তলব কেন?

---ফাজলামি করবে না।অনেক টেনশনে আছি।

---টেনশনে তো আমার থাকার কথা।তুমি টেনশনে থাকবে ক্যান?

---আব্বু আমার বিয়ে ঠিক করেছে।শুক্রবারে একসাথে দু বোনের বিয়ে হবে।

---বিয়ে ঠিক করছে।বিয়ে করবা।এতে সমস্যা কোথায়?

---ভাবছিলাম তোমাকে ভুলে যেতে পারবো।কিন্তু দিন যতো যাচ্ছে তোমার প্রতি আমার ভালোবাসা বেড়েই যাচ্ছে। এখন তোমাকে ছাড়া আমি কাউকে কল্পনা করতে পারবো না।

---বললেই হয়ে গেল নাকি।

---দেখো অনিক মানছি আমি ভুল করছি।কিন্তু আমাকে ক্ষমা করে কি ফিরিয়ে নেওয়া যায় না?

---তিন দিন পর তোমার ছোট বোনের সাথে আমার বিয়ে।আর এখন এসে আমাকে এসব বলছো।তোমার মাথা ঠিক আছে?

তিথী কান্না শুরু করলো।ধমক দিয়ে কান্না থামাতে বললাম।কিন্তু আরও জোরে কান্না শুরু করে আমাকে এসে জড়িয়ে ধরলো।

---এই কি করছো?কেউ দেখে ফেললে মান সম্মান সব যাবে।

---কেউ দেখলে দেখুক। আমি তোমাকে ভালোবাসি। আর সেই ভালোবাসার অধিকারে জড়িয়ে ধরেছি।

---এই কথাটা দুদিন আগে বলোনি কেন বলো?

তিথী কোনো উওর দিলো না।শুধু আরও শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো।

কিছুক্ষণ পর,
তিথীঃ এই অনিক চলো আমরা দুজনে পালিয়ে যাই।তাহলে সব সমস্যা সমাধান হয়ে গেল।

---দেখো তিথী পালিয়ে গিয়ে সব সমস্যার সমাধান হয় না।তুমি আমি পালালে আমাদের পরিবারের কি হবে ভেবে দেখেছো?উনাদের মান সম্মানের কথাটা একবার ভাবো।এতোদিন ধরে বড় করার প্রতিদান এভাবে দিবে?

---আমি এতো কিছু বুঝি না।তোমাকে ছাড়া আমি বাঁচবো না।

---তুমি আমাকে ভালোবাসো।তোমার বোন বিথী ও তোমার মতোই আমাকে ভালোবাসে।বলো এখন আমি কোনদিকে যাবো?

---তুমি তো আমাকে ভালোবাসো।তাহলে বিথীর কথা বলছো কেন?

---বিথীর  সাথে দুদিন পর বিয়ে।এখন ওকে ছেড়ে তোমাকে বিয়ে করলে ওর কি অবস্থা হবে একবার ভেবে দেখছো?

---বিথীর প্রতি ভালোবাসা দেখছি উতলে পড়ছে।আমিও বলে দিলাম, আমাকে ছাড়া ওই ডাইনীকে বিয়ে করলে এই জীবন রাখবো রাখবো না। এই বলে বিথী চলে গেল।
Green Bangla Romantic Love Story


এই আমার কি করা উচিত? অনেক ভেবে কোনো কূলকিনারা পেলাম না।

ছাদ থেকে নামার সময় বিথীর সাথে দেখা।অমনি বিথী আমার হাত চেপে ধরলো।

---এই করছো কি?তোমার আব্বু আম্মু দেখলে কি মনে করবে?

----আমি আমার হবু বরের হাত ধরেছি।কে কি বলবে শুনি?
দেখি তিথী দূরে দাঁড়িয়ে এসব দেখছে আর রাগে ফুঁসছে।

---এখন ছাড়ো। যা করার বিয়ের পর করো।

---এসব বলে মাফ পাবেন না।আজকে কিন্তু আবার ঘুরতে যাবো।যান গিয়ে রেডি হন।

---হাত না ছাড়লে রেডি হবো কিভাবে?

হাত ছাড়ছি,তবে একটু মাথাটা নিচু করুন।

---হাত ছাড়ার সাথে মাথা নিচু করার কি সম্পর্ক শুনও?

---আপনাকে একটা সিক্রেট কথা বলবো।জোরেই বলতাম।কিন্তু আশেপাশে মানুষ আছে।শুনে ফেলবে।এজন্য  তারাতাড়ি মাথাটা নিচু করুন।

বিথীর কথা শুনে তিথী রেগে লাল হয়ে গেছে।আর মনে মনে বলছে শয়তান আমাকে দেখিয়ে দেখিয়ে রোমান্স করার মজা বুঝাবো।অনিক শুধু আমার।আর আমার না হলে কাউকেও হতে দিবো না।

আমি বিথীর কথা মতো মাথাটা নিচু করতেই বিথী গালে একটা চুমা দিয়ে দিলো দৌড়।

তিথী দাঁড়িয়ে এসব দেখে রাগে সহ্য করতে না পেরে চলে গেল।

মনে হচ্ছে আমি এখন দুই নৌকায় দু পা দিয়ে দড়িয়ে আছি।একটু পর আমার কি হবে ভাবতেই পারছি না।

আপাতত রুমে যাওয়া যাক।

রুমে এসে শুয়ে পড়লাম।মাথা কাজ করছে না।এতো প্যারার চেয়ে মরে যাওয়া ভালো।

আম্মু এসে বলল,"তোরে এমন মন মরা লাগছে ক্যান?"

---আসলে আম্মু শপিং করেছি তো।তাই হয়তো এমন লাগছে।

---আচ্ছা তাহলে রেষ্ট নে।পরে তোর সাথে কথা বলবো।

---আচ্ছা আম্মু।

বিকেলে বিথীর সাথে পার্কে ঘুরতে গেলাম।
কিছুক্ষন ঘুরাঘুরির পর  বিথী বলল,"আপনার সাথে আমার গুরুত্বপূর্ণ কথা আছে?"

---তাহলে চলো কোথাও বসে কথা বলি।

---সামনে একটা সুন্দর জায়গা আছে।ওখানে বসে কথা বলি।

আসলে জায়গা টা সুন্দর। আশেপাশে ফুলের গাছ।আর ওখানে বসার জন্য উঁচু করে ইট দিয়ে গেঁথে তোলা হইছে।দুজনে বসলাম।

---কি জরুরি কথা বলবা বলো?

---আপুর সাথে আপনার কিসের সম্পর্ক?

---বিথী হঠাৎ এমন প্রশ্ন করছো কেন?

---যা বলছি তার উওর দেন।

---কই,কিছুর না তো।

---আপনার চোখ বলছে আপনি মিথ্যা বলছেন।

---চোখ কথা বলে নাকি আজব।

---দেখুন আমি ঘুরিয়ে পেচিয়ে কথা বলতে পছন্দ করি না।ছাঁদে আপনার আর আপুর সব কথা আমি শুনেছি।

---শুনছো যখন তাহলে জিজ্ঞাসা করছো কেন?

---এই কয়েকদিনে আপনাকে অনেক ভালোবেসে ফেলেছি।কিন্তু ভয় হয় যদি আপুর সাথে পালিয়ে যান।

বিথীর কথার কি উওর দিবো ভেবে পেলাম না।মেয়েটা সত্যি আমাকে ভালোবাসে।ওরে ধোঁকা দিলে সইতে পারবে না।অপরদিকে তিথীও আমাকে ভালোবাসে।আমিও তিথীকে ভালোবাসি।তিথীও বলেছে আমাকে না পেলে বাঁচবে না।

---কি হলো কথা বলেছেন না কেন?নাকি আপুকে নিয়ে পালানোর প্ল্যান করছেন?

---বিথী চুপ থাকো।

---হবু বরের গার্লফ্রেন্ড আমার আপন বড় বোন।এখন তারা পালানোর জন্য প্ল্যান করছে।এমন অবস্থায় আমি চুপ থাকবো কিভাবে বলেন।

---তুমি বলো আমি এখন কি করবো?তোমাকে বিয়ে করবো নাকি তোমার বোনকে?বলো?একবার আমার অবস্থানে এসে ভেবে দেখো আমি কতটা টেনশনে আছি।আচ্ছা দেশে আর কোনো ছেলে ছিলো না বলো?

---আমি জানতাম আপু আপনাকে ভালোবাসে।জানলে তো আর এই ভুল করতাম না।যতদিনে জানছি ততদিনে অনেক দেরী হয়ে গেছে।এই মনটা এখন আপনার কথাই ভাবে।আপনাকে ছাড়া কোনোকিছু ভাবতে পারি না।মনে হয় আপনি আমার সব।

---তোমরা দুই বোন আমাকে কেটে দু ভাগ করে নাও।তাহলে ঝামেলা মিটে গেল।

---আমি এতোকিছু বুঝি না।আপনি শুধু আমার। আর  আপুকে নিয়ে পালানোর কথা ভাবলে আমার লাশের উপর দিয়ে যেতে হবে।এখন ডিসিশন আপনার।যেটা ইচ্ছে করেন।আমি বাসায় গেলাম।

বিথী চলে গেল।আমি বসে ভাবতে লাগলাম।কিন্তু কাকে রেখে কাকে বিয়ে করবো কোনো ঠিক করতে পারলাম না।

এমনিতেই টেনশনে দুদিন ধরে ঘুম হচ্ছে না।বাজার থেকে এক দু পাতা ঘুমের ট্যাবলেট কিনে বাসায় আসলাম।

রাত প্রায় দুটা, আমার চোখে কোনো ঘুম নেই।ঘুম আসবেই বা কিভাবে?দু বোনের হুমকিতে ঘুম পালিয়েছে।কিন্তু না ঘুমালে তো শরীর থারাপ হয়ে যাবে।এজন্য অনেকগুলো ট্যাবলেট খেয়ে শুয়ে পড়লাম।চোখের পাতা ভারী হয়ে আসছে।মনে হচ্ছে কোনো অতলে হারিয়ে যাচ্ছি। এরপরে আর কিছু মনে নাই।

সকালে আম্মু আমাকে ডাকতে লাগল।কিন্তু আজকে কোনো নড়াচড়া না দেখে আমার কপালে হাত দিলো।দেখে কপাল ঠান্ডা হয়ে গেছে।কিছুক্ষণ ধাক্কা দিয়েও আমাকে তুলতে পারলো না।
হঠাৎ আম্মুর চোখ পড়লো টেবিলের উপর।দেখে প্রায় দু পাতার ১৫ টা ঘুমের ট্যাবলেট নেই।অনিক তো কখনও ঘুমের ওষুধ খায় না।নাকি ঘুমের ট্যাবলেট খেয়ে সুইসাইড করলো?এটা ভেবেই আম্মু একটা চিৎকার দিলো.....

Post a Comment

[blogger][facebook]

Contact Form

Name

Email *

Message *

Powered by Blogger.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget