Green Bangla

Green Bangla Story

বাড়িওয়ালার রাগি মেয়ে

Bari Walar Ragi Meye Bangla Love Story.

পর্বঃ ২

     এ  যে মহারাজা এভাবে শুয়ে না থেকে খেতে আসেন??

তা আমার শাস্তি মওকুফ করার কারনটা কি??

জান্নাতঃ আদিবা আপু বলেছে তাই।।

--- কি??  ওই রাগী মেয়েটা এই কথা বলেছে।।
আমি তো বিশ্বাস ই করতে পারছি না।।

জান্নাতঃ বিশ্বাস করা লাগবে না।। এখন খেতে আয়।।

তারপর সবাই মিলে খেতে বসলাম।। মা আমাকে বললো

মাঃ আদিবা বলেছে বলে আজকে তোকে মাফ করলাম।  কত ভালো একটা মেয়ে।।

-- মনে মনে বললাম ( ভালো না খারাপ তা তো কলেজের সবাই জানে)

বাবাঃ তোর কি পড়ালেখা নাই।। সারাদিন আদিবার পিছনে লাগিস।।

এরপর যদি আর কখনও আদিবা তোর নামে বিচার দেয় তাহলে তোর হাত-- খরচের টাকা বন্ধ।।

আদিবা বলেছে বলে এবারের মত মাফ করে দিলাম।।

-- কোন কথা না বলে খেয়ে - দেয়ে রুমে এসে শুয়ে পড়লাম।।

ভাবতে থাকলাম আদিবা আমায় মায়া দেখায় নি বরং আরও বিপদে ফেলেছে।।

কারন এরপর একটু কিছু হলেই আদিবা বাবার কাছে বিচার দিবে।।

আর বাবা আমার হাতখরচ বন্ধ করে দিবে।।

মাথায় শয়তানি বুদ্ধি ভালোই আছে ওর।।

কিছুখন ঘুমিয়ে বিকালে ছাদে গেলাম।।

বিকালে ছাদে যাওয়াটা আমার অভ্যাসে পরিনত হয়ে গেছে ।। প্রতিদিন একবার যেতে না পারলে ভালোই লাগে না।।

ছাদে গিয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে আছি।।

হঠাৎ পিছন থেকে কে যেনো আমার মাথায় টোকা মারলো।।

হঠাৎ মারার কারনে একটু ভয় পেলাম।।

কিন্তু পিছনে তাকানোর পর আমার হার্টবির্ট বেড়ে গেল।।
Green Bangla Love Story


কারন আদিবা আমার পিছনে রাগী চোখে দাঁড়িয়ে আছে।।

এমনেই তো ওকে দেখলেই ভয় পাই।  তার উপর আবার রাগী।।

আদিবাঃ বাবু তুমি মারুফকে কি যেন বলেছিলে?? ( নরম কন্ঠে বললো)

--- আমি তো মারুফ নামে কাউকে চিনি না বাবু।।

আদিবাঃ লুচ্চা,  ফাজিল,  বদমাইস।।  এখন আবার সাধু  সাজা হচ্ছে। তুই আজকে কলেজে মারুফকে
কেনো বলেছিস আমি তোর গার্লফ্রেন্ড।।

আর কিছুদিন পর আমাদের বিয়ে হবে।।

--- তুমি ওই মাকাল ফলের কথা বলছো।। ওর মত বলদের সাথে যে কি করে তুমি ঘুরাঘুরি কর আমার মাথায় আসছে না।।

আদিবাঃ কি বললি তুই? আমার ফ্রেন্ডকে এই কথা বলার সাহস কি করে হয় তোর।।

আজকে তুই শেষ।। বলেই আমার কলার ধরে নিয়ে যেতে লাগলো।।

---- কোথায় নিয়ে যাচ্ছো??

আদিবাঃ তোর বাবার কাছে।।

--- আবার বাবার কাছে কেনো??

আদিবাঃ গিয়ে বলবো তুই আমার সাথে খারাপ ব্যবহার করেছিস।।

--- আমার মত গরিব ছেলের পেটে তুমি লাথি মারতে পারবা?

আদিবাঃ মানে? 

--- তুমি যদি বাবার কাছে বিচার দাও তাহলে বাবা আমার হাতখরচ বন্ধ করে দিবে।।

আদিবাঃ আমি তো সেটাই চাই।। তাহলেই তোর শিক্ষা হবে।।

--- তুমি আমার কথাটা তো একবার শুনো।।

আদিবাঃ কি বলবি বল??

--- আসলে আমি ---- পরে বলবো।। বলেই এক দৌড়।। আমাকে আর পায় কে।।

আদিবাঃ ফাজিল পোলা তোরে যদি আবার হাতের সামনে পাই।। তখন বুজবি আমার সাথে ফাইজলামি করার মজা।।

-- বাসা থেকেই বের হয়ে আসলাম।। এখন বাসায় থাকা আমার জন্য মোটেই নিরাপদ নয়।।

আমাদের আড্ডার জাগায় গেলাম।। আর সব হারামিদের ও ফোন করে আসতে বললাম।।

রাব্বিঃ কিরে আজকে এত তাড়াতাড়িই চলে এসেছিস।। ব্যাপার কি??

--- কোনো ব্যাপার নাই।। বাসায় থাকা আমার জন্য নিরাপদ নয়।  তাই চলে এসেছি।।

সাকিবঃ আবার আদিবার সাথে ফাইজলামি করেছিস।। তুই জানিস ও রাগী।। তারপরও ওকে কেনো রাগাস??

--- ওর এই রাগী রুপটার জন্যই তো ওকে এতো ভালোবাসি।। তাইতো ওকে ইচ্ছে করে রাগিয়ে দেই।।

কিন্তু ও তো আমার ভালোবাসা বুজতেই চায় না।।

রাব্বিঃ বুজবে কি করে তুই কি ওকে প্রপোজ করেছিস??

--- যা রাগী ও।। ওরে দেখলেই তো ভয় পাই।। আবার প্রপোজ ও করবো।।

সাকিবঃ তাহলে আর কি।। সারাজিবন এভাবে দেবদাস হয়ে বসে থাকো।।

হঠাৎ একদিন জানতে পারবি আদিবার বিয়ে ঠিক হয়েছে।।

-- তোরা একটা বুদ্ধি দেনা।  কি করে ওকে পটানো যায়।।

রাব্বিঃ আগে তুই ওকে প্রপোজ কর।। তারপর দেখ ও কি বলে।।

--- ভয় লাগে আমার ওকে প্রপোজ করতে।।

সাকিবঃ তুই তো সালা পুরুষ জাতির কলংক।। একটা মেয়েকে এত ভয় পাস।।

-- কি??  এত বড় কথা।। কালকেই আদিবাকে প্রপোজ করবো।।

রাব্বিঃ কাল পর্যন্ত মনে থাকে যেনো এই কথা।।

--- মনে থাকবে না কেনো??

সাকিবঃ তুই এর আগেও এই কথা অনেকবার বলেছিস।। কিন্তু আজ পর্যন্ত আদিবাকে বলতে পারলি না।।

--- কালকে ঠিকই বলবো।।

রাব্বিঃ পারলেই ভালো।।

তারপর অনেকখন ধরে আড্ডা দিলাম।।

রাতে বাসায় আসলাম।। চুপিচুপি বাসার ভিতরে ঢুকলাম।। কারন আজকে বাসায় আসতে অনেক লেইট হয়ে গেছে।।

কিন্তু শেষ রক্ষা আর হলো না।।

বাবাঃ তোর কি পড়াশুনা নাই।। সারাদিন আড্ডা দিয়ে বেড়াস।। আবার এতরাত করে বাসায় এসেছিস।।

পড়ালেখা করতে মন না চাইলে বলে দে তোকে চাকরিতে ঢুকিয়ে দেই।।

আরও কিছু উপদেশ দিয়ে বাবা চলে গেল।। খেয়ে- দেয়ে রুমে এসে শুয়ে শুয়ে ফেইসবুক চালাচ্ছি।।

প্রতিদিনের মত আজকেও সেই রোদেলার আইডি থেকে  ম্যাসেজ আসছে।।

যার জন্য ফেইসবুকে আসি সে কোনো ম্যাসেজ দেয় না।। কিন্তু এই মেয়ে প্রতিদিন ম্যাসেজ দিবে।।

রোদেলাঃ হাই।।

--- হেলো।।

রোদেলাঃ কি করেন??

--- ঘুমাইতে আসছি।। আপনি??

রোদেলাঃ আমিও।।

--- ভালো।।

রোদেলাঃ ডিনার করছেন??

--- হুমমম।। আপনি??

রোদেলাঃ হুমমমম।।

---- ভালো।।

রোদেলাঃ ভালো থাকবেন।। গুড নাইট।।

-- গুড নাইট।।

আমি খাইছি কিনা সেই খবর নিতেই মনে হয় আমাকে ম্যাসেজ দেয়।।

প্রতিদিন একিই ম্যাসেজ দেয়।  আর কিছু বলে না।।

আদিবাকে ম্যাসেজ করলাম।। কিন্তু রিপ্লাই দিলো না।। আবার করলাম নো রিপ্লাই।।

কিছখন পর দেখলাম অফলাইনে চলে গেছে।।

ধুর এই মেয়েটাও না।। ম্যাসেজের রিপ্লাই দিলে কি এমন ক্ষতি হবে??

কালকে ওকে প্রপোজ করতেই হবে।। তা না হলে কোনদিন মারুফ ওকে প্রপোজ করে দিবে তার ঠিক নাই।।

এসব ভাবতে ভাবতে ঘুমিয়ে পড়লাম।।

সকালে ফ্রেশ হয়ে রেডি হয়ে কলেজে গেলাম।।

আদিবা আমার আগেই চলে গেছে।। ও সাইন্সের স্টুডেন্ট তাই ওদের ক্লাস আগে শুরু হয়। 

আর আমি কমার্সের স্টুডেন্ট। আমাদের ক্লাস শুরু হয় ৯.৪৫ এ আর ওদের শুরু হয় ৯ টায়।।

কলেজে গিয়ে বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিতে লাগলাম আর আদিবার জন্য অপেক্ষা করতে লাগলাম।।

কিছুখন পর দেখলাম আদিবা ওর বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিচ্ছে।  তাই আর দেঁড়ি না করে বন্ধুদের কাছ থেকে দোয়া নিয়ে আদিবাকে প্রপোজ করতে গেলাম।।

আদিবার সামনে গিয়ে দাঁড়ালাম।।

আদিবাঃ কিরে তুই এখানে কেনো।। তোদের না ক্লাস চলে।। আজকেই আংকেলকে গিয়ে বলবো যে তুই ক্লাস করিস না।।

--- আরে আমি তো তোমার জন্য আসছি।।

আদিবাঃ কি বলবি তাড়াতাড়ি বলে ক্লাসে যা


লেখকঃ Rabi Al Islam
Copy to Facebook

Post a Comment

[blogger][facebook]

Contact Form

Name

Email *

Message *

Powered by Blogger.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget