Green Bangla

Green Bangla Story

বাড়িওয়ালির মেয়ে

Romantic Love Story

পর্ব ৬


---আর বলিস না।কোথাকার এক পাগলি ফোন করছিলো।বাদ দে ওসব কথা।এখন আমাকে বাসায় যেতে হবে।

---আচ্ছা যা।তবে আমার কথামতো কাজ করিস কেমন।

---আচ্ছা করবো।

আমি বাসার উদ্দেশ্যে চলতে শুরু করলাম।

যেতে যেতে ভার্সিটির গেটে পৌচ্ছালাম।একটু অপেক্ষা করতেই রিকশা পেয়ে গেলাম।রিকসাতে উঠতে যাবো এমন সময় তিথী চলে আসলো।

---এই তুমি আমাকে পাগলি বললে কেনো?

---তোমাকে পাগলি কখন বললাম?

---একটু আগে ফোনে বলেছো।

----ওহ! তাহলে তুমি একটু আগে ফোন করেছিলে?

---হ্যা।

---পরিচয় দিলে না কেনো?

---মনে ছিলো না।

---এই জন্য তো তোমাকে পাগলি বলেছি।

---কিহ! আমি পাগলি?(রগি কন্ঠে বলল)

----আরে না,তুমি তো অনেক ভালো মেয়ে।

---আমি তো ভালো মেয়ে।কিন্তু তুমি পাগলি বললে কেনো?

---সরি আর পাগলি বলবো না।

---সরি বললে সব সমস্যার সমাধান হয় না।এজন্য তোমাকে শাস্তি পেতে হবে।

---এতো মানুষের মধ্য প্লিজ কিছু করো না।তাহলে মান সম্মান সব শেষ হয়ে যাবে।তুমি চাইলে বাসায় গিয়ে শাস্তি দিতে পারো।

---না তোমাকে আমি এখনি শাস্তি দেবো।
প্লিজ এখানে নয়। আড়ালে গিয়ে শাস্তি দিও।

---আমি তোমাকে মারবো না।তবে জরিমানা করবো।

---যাক বাবা বাঁচা গেলো।তা তোমাকে ১০ টাকা দিলে জরিমানা মিটবে?

---ওই আমাকে কি বাচ্চা পেয়েছো?

---ওহ!তমি তো বড় মানুষ হয়ে গেছো।সেজন্য তোমাকে ৩০ টাকা দেই কেমন?

---ওই ফাজলামি বাদ দাও।আমি ফুচকা খাবো।তুমি আমকে ফুচকা খাওয়াবে চলো।

---তুমি বাচ্চা মেয়ে নাকি যে তোমাকে মুখে তুলে ফুচকা খাওয়াতে হবে?

---তোমাকে খাইয়ে দিতে বলছি না।

---তাহলে তোমাকে নিজে গিয়ে খেতে মানা কে করলো?

---আমি খাবো আর তুমি টাকা দিবে এজন্য তোমাকে নিয়ে যাবো।

---আমার কাছে অতো টাকা নেই।

---তুমি আমাকে মিথ্যা বলছো।

---সত্যি বলছি।

---তাহলে তোমার মানিব্যাগ দেখাও।

---মানিব্যাগ নাই।

---ছি!ছি!তুমি এতো মিথ্যা বলো আগে জানা ছিলো না।

---কই মিথ্যা বললাম?

----সকালে তুমি মানিব্যাগ থেকে টাকা বের করে রিকসা ভাড়া দিলে আমার সামনে তাও তমি বলছো তোমার কাছে মানিব্যাগ নাই?

---এই যা মিথ্যা বলেও ধরা খেয়ে গেলাম।আমাকে দিয়ে কিছুই হবে না।

---কিছু বলছো না কেনো?

---কি আর বলবো?বলার মতো কিছু নেই।

---না থাকলে চলো ফুচকা খাবো।

 গুনে চার প্লেট ফুচকা খেলো। কি রাক্ষস মেয়ে!এর সাথে যার বিয়ে হবে তার কপালে দুঃখ আছে।

আমাকেও জোর করে দুই প্লেট খাওয়ালো।

---ওই কি ভাবছো?

---কিছুনা।

---তাহলে ফুচকার বিলটা দিয়ে দাও।

---মামা বিল কতো?

---৩০০ টাকা।

ফুচাকার বিলের কথা শুনে মাথাটা গরম হয়ে গেলো।আমার ৭ দিনের হাত খরচের টাকা এক দিনে শেষ করে দিলো।না জানি আমার আরও কত টাকা শেষ করবে একমাত্র আল্লাহ ভালো জানে।

---চলো এখন বাসায় যাবো।

---আমি যাবো না।

---আচ্ছা যাওয়ার টাকা আমি দেবো।এখন চলো।

---আহারে গরু মেরে জুতা দান করছে।

---কিছু বললে?

---না তো।

---তাহলে চলো বাসায় যাই।

আমি রিকশায় উঠে বসলাম।রিকসা চলতে শুরু করলো।

Green Bangla Love Story


বাসার সামনে চলে আসছি।রিকসা থামলে তিথী ভাড়া দিয়ে দিলো।

---এই শুনো।

---জ্বি ম্যাডাম বলেন.....

----তোমাকে প্রথম দিন দেখে অনেক সাহসী মনে করেছিলাম।কিন্তু তুমি তো দেখছি একটা ভীতুর ডিম।

---কিহ আমি ভীতু?

---তো তাছাড়া কি বলে হাসতে হাসতে চলে গেলো।

মেয়েদের মন বোঝা বড় দায়।কারণ ক্ষণে ক্ষণে এর রং বদলায়।

যাই হোক তিথীর শেষ কথায় একটা রহস্যের গন্ধ পেলাম।সেই রহস্যটা আমাকে বের করতে হবে।

বাসায় এসে গোসল করে শুয়ে পরলাম।

---এই দুপুরে শুয়ে পরলি যে,শরীর খারাপ করলো নাকি?

----না মা এমনিতেই।

----ওহ!তোকে একটা কথা বলার ছিলো।

---মা কি কথা?

---তোর এ বাড়িওয়ালি আন্টি তোকে ডেকেছে।

---আন্টি আমাকে ডেকেছে কেনো?

---সেটা তো আমি বলতে পারবো না।

---ওহ!আচ্ছা মা আন্টি কখন এসেছিলো?

---তুই আসার একটু আগে?

---ও আচ্ছা।আমি গিয়ে আন্টির সাথে কথা পরে বলবো।

---আচ্ছা।

বিথী আবার আন্টিকে কিছু বলে দেয়নি তো?যদি বলে দেয় তাহলে আমার কি হবে একমাত্র আল্লাহ ভালো জনে।

টেনশনে ঘুমাতেও পারলাম না।

সময় যেনো কাটছে না।বিকেল কখন আসবে?

অপেক্ষার সময় যেনো কাটে না।অবশেষে বিকেল আসলো।

আন্টির সাথে কথা বলতে দোতলায় উঠলাম।

---আন্টিকে বললাম,"আমাকে ডেকেছিলেন?"

---আন্টি বলল,"একটা কথা বলার ছিলো।"

---কি কথা বলবে আল্লাহ ই ভালো জানে।মনে মনে সাহস নিয়ে বললাম,"জ্বি আন্টি বলুন।"

---আসনে কথাটা তুমি কিভাবে নেবে?

---এই কথাটা শুনে মনে হলো বিপদ আমার ঘনিয়ে আসছে।নিজেকে শক্ত করে বললাম,"আন্টি আপনি নির্ভয়ে বলুন।"

---আসলে বিথী বলল...

---কি বলেছে বিথী?😵

---তুমি নাকি ভালো হিসাববিজ্ঞান পাড়ো।তাই বিথী তোমার কাছে পড়তে চায়।

---যাক বাবা বাঁচলাম।অন্যকিছু বলে নাই।পড়ার কথাই বলেছে।

---কিছু বলছো না যে?

---আসলে আন্টি....

---আমি তোমার আম্মুর কাছে থেকে শুনেছি তুমি কাউকে পড়াও নাই।

---হ্যা আন্টি,আম্মু ঠিক বলছে।আমার আসলে পড়ানোর অভিঙ্গতা নেই।

---আসলে বিথী খুব জেদী মেয়ে।তাই তোমাকে আবার অনুরোধ করছি।

----যদি না পড়াই তাহলে আন্টিকে ঐ দিনের কথা বলে দিতে পারে।কি করি এখন?সবকিছুর অভিঙ্গতা রাখতে হয়।এর মধ্যে থেকে পড়ানোর অভিঙ্গতা বাদ যাবে কেনো?তাই আন্টিকে বলে দিলাম আমি পড়াবো।

---বাবা তুমি আমাকে বাঁচালে আমার জল্লাদ মেয়ের হাত থেকে।

---আন্টি ওকে জল্লাদ বলছেন কেনো?

---তুমি ওকে পড়াও তাহলে বুঝতে পারবে।

---কি বিপদে পরলাম আমি?যা হবার হবে।ভেবে আর লাভ নেই।

---আন্টি ওকে কখন থেকে পড়াতে হব?

---রাত ৭ থেকে ৮ পর্যন্ত।

---আচ্ছা।এখন তাহলে আমি আসি আন্টি।

---আচ্ছা যাও।

প্রায় সন্ধ্যা হয়ে আসছে।রুমে চলে আসলাম।একটু পর বিথীকে পড়াতে যেতে হবে।কি থেকে পড়ানো শুরু করবো বুঝে উঠতে পারলাম ন।

এরা দু বোন আমাকে নিয়ে খেলা শুরু করেছে।আমাকে এরা কি করতে চায়?এদের কথায় কিছু বুঝতে পারি না।

এখন এসব নিয়ে ভাবা যাবে না।পড়াতে যেতে হবে।চললাম জীবনের প্রথম প্রাইভেট পড়াতে........

Post a Comment

[blogger][facebook]

Contact Form

Name

Email *

Message *

Powered by Blogger.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget